Skip to main content

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~

উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা।


ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~

জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। 

উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ। 

অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~

বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~


অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্যা বা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে~ 

আবার, ইসলামের অনেক পন্ডিতগণ সাহাবায়ে কেরাম গণকেও অনুসরণ ও অনুকরণ করতে বলে গেছেন, কারণ সাহাবায়ে কেরামগণ মুহম্মদ সা:-কে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করে গেছেন জীবনভর।

তাছাড়া মুহম্মদ সা; নিজেও বলে গেছেন; উনার সাহাবায়ে কেরামগণ হচ্ছেন আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো, যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা কখনোই বিপথগামী হবে না। এছাড়াও তিনি কোরআন ও সুন্নাহর কথা বলে গেছেন ~


এখন মহানবী মোহাম্মদ সা: এর কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করাযাক~ 

(যা হয়তো কমবেশি আমরা সকলেই জানি)


নবুয়্যত প্রাপ্তির পর হিজরতের আগ পর্যন্ত প্রায় ২১ বছর মুহম্মদ সা: মক্কায় ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন, এই ২১ বছর মক্কার কাফেরগণ এমন কোন উপায় নেই, যে উপায় মুহম্মদ সা: এবং তার সাহাবীদের উপর অত্যাচার করে নি~

* হযরত বেলাল রা: এর কাহিনী আমরা প্রায় সকলেই জানি, ক্রিতদাস হযরত বেলাল রাঃ-কে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তার মনিব "উমাইয়া ইবনে খালফ" তার গলায় রশি বেধে টেনে হেঁচডে উত্তপ্ত বালিকারাশিতে নিয়ে গিয়ে চিৎ করে শুয়ে দিয়ে বুকের উপর পাথর তুলে অমানুষিক নির‌্যাতন করেছে~

* হযরত "আম্মার ইবনে ইয়াসির" ছিলেন বনু মখজুম গোত্রের ক্রীতদাস। তিনি এবং তার পিতামাতা ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করে কাফেরগণ। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ইয়াসের রাঃ ইন্তেকাল করেন। তার স্ত্রী "সুমাইয়া'র লজ্জাস্থানে দৃবৃত্ত 'আবু জাহেল' বর্শা নিক্ষেপ করে। এর ফলে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। হযরত সুমাইয়া রাঃ ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ~

হযরত আম্মার রাঃ গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। এরুপ হযরত খাব্বাব ইবনে আরত রাঃ, ‍উম্মে ইবাইস রাঃ এর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল সেসময়। 

হযরত মুহাম্মদ সা: ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলে তার পবিত্র দেহে থুতু মারত কাফেররা, তিনি নামাজের সিজদায় গেলে তার দেহের উপর উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিত কাফেররা, এভাবে বলতে গেলে বা লিখতে গেলে দিন/রাত কাবার হয়ে যাবে কিন্তু অত্যাচারের কাহিনী শেষ হবে না~

একপর্যায়ে অত্যাচার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে আল্লাহর হুকুমেই মুহম্মদ সা: সাহাবীদের সঙ্গিকরে মদীনায় হিজরত করেন~


অতঃপর নানা ঘটনার পর পুনরায় মক্কা বিজয়ের পর মুহম্মদ সা: কি উক্ত কাফেরদের বিচারের মুখোমুখি করেছিলেন ? 

তিনি কি সকলকেই সাধারণ ক্ষমা করেন নি ?  

ইতিহাসে এমন নজির কি আর দ্বিতীয়টি আছে ? এত অত্যাচার/অবিচার করা সত্বেও সকল অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনে ক্ষমাকরে দেয়ার ? 

এটাই মুহম্মদ সা: এর মহত্ব;ইসলামের মহত্ব;আল্লাহর মহত্ব~


শুধু ড; জাফর ইকবাল নয়; বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বেই যেসব মানুষকে ইসলামের লেবাসে হত্যা করা হয়েছে, বা হত্যার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তারা কি মক্কার কাফেররা যেভাবে মহানবী সাঃ ও তার সাহাবাদের উপর অত্যাচার ও দমন/পীড়ন চালিয়েছিল, তার চাইতেও বর্তমান আলেম/ওলামাদের (হত্যা প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত) উপর বেশি অত্যাচার ও দমন/পীড়ন চালিয়েছিল তারা ?

ঐ সকল কাফেররা ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছিল, এরা কি তার চাইতেও বেশী কিছু করেছিল বা করছে ?

মহানবী সা: এর শিক্ষা যদি ক্ষমা হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে হত্যাকরা বা হত্যার চেষ্টা করাটা কার শিক্ষা ? যদি তারা এই হেনকাজ করেও থাকে, তাহলেও কি তাদের ক্ষমা-করাটা কি মুহম্মদ সা: এর শিক্ষা নয় ? ইসলামের শিক্ষা নয় ? 

তাহলে এই হত্যা;হত্যা প্রচেষ্টা;আত্মঘাতী বোমা হামলা ইত্যাদি কার শিক্ষা ? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে~


তায়েফের ঘটনা আমরা মুসলিম মাত্রেই কমবেশি সকলেই জানি~

তায়েফবাসি বাচ্চাদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন মুহম্মদ সা: এবং উনার সঙ্গীর উপর। বাচ্চাদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে নবীজীর শরীর থেকে এমনভাবে রক্ত ঝরছিল যে, উনার জুতা পর্যন্ত রক্তে ভরে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাৎক্ষণিকভাবে তায়েফবাসিকে ধ্বংস করে দিতে চাইলেও মুহম্মদ সা: কি তাদের ক্ষমা করে দেন নি ? মুহম্মদ সা: কি উল্টো আরও তায়েফবাসির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেন নি ? তিনি কি তায়েফ বাসীর প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়েছিলেন ?


তাহলে এখন যাদের কে হত্যা করা হচ্ছে বা যাদেরকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে; তারা কি সেই-সময়ে'র তায়েফ বাসীর চাইতেও বেশী অপরাধী ? 

যদি তাই হয়ে থাকে; তাহলে মুহম্মদ সা: এর দেখানো পথে তাদের ক্ষমা করা হচ্ছে না কেন ?

মুহম্মদ সা: এর শিক্ষাই তো ইসলামের শিক্ষা; তাহলে যারা এসব করছে, তারা কোন শিক্ষার বলে এসব করছে ? আমরা খুব জানতে ইচ্ছে করে~


একবার এক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে জয়নব নামের এক সম্ভ্রান্ত ইহুদি মুহম্মদ সা: দাওয়াত করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, খাবারের সঙ্গে বিশ মাখিয়ে হজরতকে মেরে ফেলা। খাবার মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবীজী বিষের বিষয় বুঝতে পারলেন। ততক্ষণে পাশের সাহাবি বিষমাখা খাবার গিলে ফেলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

জয়নবকে বন্দি করে হজরতের সামনে আনা হল। হজরত জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এমনটি করলে? জয়নব বলল, আপনাকে মেরে ফেলার জন্য।  কিন্তু  নবী মুহম্মদ সা: বললেন, জয়নব!আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

পৃথিবীর যেকোনো আইনেই এই মহিলাকে হত্যা করা জায়েজ ছিল, কিন্তু তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।


আবার এক ইহুদী জাদুকর মহানবী সাঃ কে জাদু করেছিলেন, দীর্ঘ ছয়মাস উনি প্রচন্ড শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন। তারপর উনি পরিচয় পাওয়ার পরও কি জাদুকরের উপর প্রতিহিংসা পরায়ন হয়েছিলেন ? তাকে বিচারের সম্মুখীন করেছিলেন ? তিনি কি তাকে ক্ষমা করে দেন নি ?

 এভাবে লিখতে থাকলে লিখে শেষ করা যাবে না, বলেও শেষ করা যাবে না; এতশত ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন প্রিয়নবী মুহম্মদ সা: । 

এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। 


লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ক্ষমার মাধ্যমে ইসলামের যে পরিমাণ প্রসার ঘটেছে, অন্য কোন ভাবেই তা ঘটে নি। 

মক্কা বিজয়ের পর, মুহম্মদ সা: এর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা খোদ কুরাইশগণ বিশ্বাস করতে পারছিল না, সকল অত্যাচারীরা ধরেই নিয়েছিল তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে, তাদের হত্যা করা হবে। কিন্তু ক্ষমা ঘোষণার ফলে হতবিহ্বল কাফেরগণ মুহম্মদ সা: এর মহানুভবতায় মুগ্ধহয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। যারা একসময় ছিল ইসলামের চিরশত্রু;তারাই হয়েযায় ইসলামের চিরন্তন বন্ধু।


৫/৬শত বছর আগের কথা; ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বাইজেন্টাইন (রোম) সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) জয় করেন। আর এর মাধ্যমে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন বা সমাপ্তি সম্পন্ন হয়। সেইসময়

কনস্টান্টিনোপল এর সকল খৃষ্টান সম্প্রদায় ধরেই নিয়েছিল যে, তাদের সকলকেই হত্যা করা হবে, তাদের পূর্ববর্তী শাসকদের ইতিহাসের আলোকেই তারা এরকম ভেবেছিলেন। 

কিন্তু সুলতান দ্বিতীয় মুহম্মদ কি করলেন ? 

হযরত মুহাম্মদ সা: এর দেখানো পথ অনুসরণ করে তিনি সকলকে শুধু ক্ষমা করে দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না; তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও নিজের কাধে নিয়ে নিলেন। তাতে কি ইসলামের ক্ষতি হয়েছিল ? 

না কি অটোম্যান-রা সমস্যায় পড়েছিলেন ? বরং ইসলামের মহানুভবতায় আকর্ষিত হয়ে, স্বপ্রণোদিত ভাবে দলে দলে খৃষ্টান সম্প্রদায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, ঠিক মক্কার মত করেই~

এটাই ইসলামের শিক্ষা; তাহলে  হত্যা, হত্যা চেষ্টা বা আত্মঘাতী বোমা হামলা ~ এসব কিসের শিক্ষা ? 

কার শিক্ষা ? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ~


র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল স্বীকার করে, জাফর ইকবালের 'ভূতের বাচ্চা সোলায়মান' নামক উপন্যাস লিখে নবি সোলায়মানকে ব্যঙ্গ করায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ফয়জুল দাবি করে, "জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তাকে হত্যা করার জন্য হামলা করেছে।


যদি ধরেও নেই যে, জাফর ইকবাল সাহেব ইচ্ছে করেই নবী সোলায়মান আ: কে ব্যাঙ্গবিদ্রুপ করেছে, তাহলেও কি জাফর ইকবাল সাহেবের অপরাধ উপরোক্ত কাফেরদের চাইতেও বেশী হয়ে যায়? যাদেরকে মুহম্মদ সা: ক্ষমা করে দিয়েছিলেন ?

আমি আসলে জাফর ইকবাল স্যার কে এখানে রূপক অর্থে উপস্থাপন করছি~ 

যারা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে এরূপ কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, তারা কি মুহম্মদ সা: এর কাহিনীগুলো জানে না ? 

তারা কি মুহম্মদ সা; এর জীবনী পড়ে নি ? 

তারা কি ইসলামে ক্ষমার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত নয় ? তারা কি ইসলামের প্রসারে ক্ষমার ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত নয় ?

তারা কি সৃষ্টিকর্তার সবথেকে মহৎ গুণ ক্ষমা সম্পর্কে অবহিত নয় ?

তাহলে তাদের মাদ্রাসায় কি পড়ানো হয় ? 

কি শিখানো হয় ? ইসলামে তো নতুন করে কোন কিছু অন্তর্ভুক্ত করার বিধান নেই, কোনকিছু বাদ দেয়ারও বিধান নেই, তাহলে একজন মানুষ ইসলাম এর উপর পড়াশুনা করে এরূপ মানসিকতার অধিকারী হয় কি ভাবে ?

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ~


মুহম্মদ সা: এর কথা না হয় বাদই দিলাম;যুদ্ধ ব্যতিরেকে কোন সাহাবী কি কখনো কোন কাফের বা বিধর্মীর উপর আক্রমণ করেছে ? কোন সাহাবী কি কখনও আত্মঘাতী হয়েছে ?

তাহলে ইসলামের নাম দিয়ে কেন এসব করা হচ্ছে, করাই বা এসব করছে ? 

মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে নেগেটিভ বার্তা দেয়ার জন্য এসব করা-হচ্ছে না-তো ? 

মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দেয়ার জন্য এসব করা-হচ্ছে না-তো ?

ইসলাম বিরোধী চক্র, ইসলামের লেবাসে, ইসলামের ক্ষতির উদ্যেশ্যে-ই এসব করাচ্ছে না-তো?

আমার জানতে ইচ্ছে করে~


শেষ করার আগে তরজমা সহ কোরআনের একটি আয়াত এবং সেই আয়াতকে কেন্দ্র করে মুহম্মদ সা: কর্তৃক জিবরাঈল আ:-কে করা প্রশ্ন ও তার উত্তর সন্নিবেশিত করলাম~

خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ 


অনুবাদ : আপনি ক্ষমা করতে থাকুন আর ভালো ভালো কাজের আদেশ দিতে থাকুন। আর মূর্খদের (সঙ্গে অর্থহীন তর্ক-বিতর্ক) এড়িয়ে চলুন’ ~~

(সূরা আরাফ : আয়াত নং ১৯৯) 

এই আয়াত প্রসঙ্গ একবার রাসূল সা: এর এক প্রশ্নের জবাবে হজরত জিবরাইল (আ.) বলেন~ 

"যে কেউ আপনাকে অত্যাচার করলে তাকে আপনি ক্ষমা করে দিন। যে লোক আপনাকে কিছু দেয়া থেকে বিরত করে, তাকে আপনি দান করুন। আর যে লোক আপনার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আপনি তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করুন"।


আজিজ মিসির সেলিম~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...