Skip to main content

Posts

Showing posts from March, 2022

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ব মোড়লদের লাভ/ক্ষতি :

 ইউক্রেন যুদ্ধ এবং  বিশ্ব মোড়লদের  লাভ/ক্ষতি :  বলাই বাহুল্য; ইউক্রেন যুদ্ধ হটাৎ করে বেধে যাওয়া কোন যুদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও তদনুযায়ী নেয়া পদক্ষেপের ফসল এই যুদ্ধ~ ফিল্ড বা ময়দান হিসেবে ইউক্রেন ব্যবহৃত হলেও এই যুদ্ধে লিপ্ত মূলতঃ রাশিয়া ও ন্যাটো; আরও স্পেসিফিক ভাবে বলতে গেলে এই যুদ্ধের প্রতিপক্ষ মূলতঃ আমেরিকা ও রাশিয়া, কিন্তু যুদ্ধের ময়দান হচ্ছে ইউক্রেন।  অনেকটা আগের দিনের যুদ্ধের মতো, যেখানে দুই পক্ষ ঘোষণা দিয়ে একটি ময়দানে যুদ্ধে লিপ্ত হতো~ আফসোস যে দুই পরাশক্তির বলি হচ্ছে শান্তিপ্রিয় এক জনগোষ্ঠী "নিরীহ ইউক্রেনিয়ান" ~ এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শুরু মাসখানেক আগে হলেও এর ক্ষেত্র তৈরীর কাজ শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই, বলাযায় সিরিয়ায় রাশিয়ার বাহিনী উপস্থিত হওয়ার পর থেকেইp~ স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একক শক্তি হিসেবে ইরাক, তিউনিশিয়া  ও লিবিয়া'য় সরকার পতন ঘটাতে আমেরিকার কোন বিরোধী শক্তির সম্মুখীন হতে না হলেও; সিরিয়াতে আমেরিকা প্রথম বাধার সম্মুখীন হয়। আমরা সকলেই জানি, আমেরিকা সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি শুধুমাত্র ...

কেন শুধু শুধু পশ্চিমা মেডিয়ার চামচামি ?

 কেন এই মিথ্যাচার ?  কেন শুধু শুধু পশ্চিমা মেডিয়ার চামচামি ?  আদৌ কি কোন লাভ আছে জেনেবুঝে অন্যের মিথ্যাচারে সুর মিলানোয়? বলছিলাম আমাদের দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোর কথা। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া গুলো যেন পশ্চিমা মিডিয়া গুলোর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে~  অনেকটা যেন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে কে কতভাবে পশ্চিমাদের খুশি করতে পারে ? এমন কি দুইদিন আগের খবর যখন ভুয়া বা মিথ্যাচার হিসেবে বিদেশী কোন কোন মিডিয়ায় স্বীকার করে নেয়া হচ্ছে তখনও তা বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া চেপে যাচ্ছে।  এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে এগিয়ে jamuna TV  বা যমুনা প্রচার মাধ্যম। ইউক্রেনের মারিওপলের সুলতান সুলেমান মসজিদ ধ্বংস, "ঘোস্ট অফ কিয়েভ", তুরস্কের TB2 ড্রোন কর্তৃক রাশিয়ার ট্যাংক ধ্বংসের ভিডিও, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান ইত্যাদি মিথ্যাচার গুলি আমি কয়েকদিন আগের পোস্টে শেয়ার করেছি। গত তিন চার দিন হলো প্রচার করা হচ্ছিল যে রাশিয়ার সৈন্য বাহিনীর রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, ইউক্রেনের আর্মি কিয়েভের চারপাশে অবস্থানরত রাশান সৈন্যদের ঘেরাও করে ফেলেছে, তারা পরাজিত হতে যাচ্...

ইউক্রেন কে বলির পাঠা বানিয়ে কার কি লাভ/ক্ষতি হতে যাচ্ছে ? বিশেষ করে আমেরিকার ?

 ইউক্রেন কে বলির পাঠা বানিয়ে কার কি লাভ/ক্ষতি হতে যাচ্ছে ? যদিও এখনও সঠিক ভাবে বলার সময় আসে নি যে ইউক্রেন থেকে কার কি লাভ/ ক্ষতি হচ্ছে; তবে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলি থেকে যা কিছু বোঝা যাচ্ছে ~ #আমেরিকা: এ বিষয়ে হয়তঃ বিশ্বের কোন মানুষেরই বুঝতে বাকি নেই যে, ইউক্রেনকে কে বলির পাঠা বানিয়েছে ? কিন্তু কেন ইউক্রেনকে বলির পাঠা বানানো হলো ? ইউক্রেনে আমেরিকার লাভ/ক্ষতি বুঝতে হলে অতীতের কিছু বিষয় জানতে ও বুঝতে হবে` ১. তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এর বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান; ফলশ্রুতিতে এরদোয়ান এর রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক তৈরি~ ২.  দীর্ঘমেয়াদি ইরাক আগ্রাসনে সুবিধা করতে না পারা, এমনকি শেষ পর্যন্ত শত্রু রাষ্ট্র ইরানের বলয়ে ইরাকের চলে যাওয়া ~ ৩, গাদ্দাফিকে অপসারণ ও হত্যা করতে পারলেও লিবিয়া পুনর্গঠনে ব্যর্থতা~ ৪. রাশিয়ার কারণে সিরিয়ায় বাসার সরকারের পতন ঘটাতে  ব্যর্থতা এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া~ ৪. বিভিন্ন কারণে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সাথে  সম্পর্কের অবনতি ও উক্ত রাষ্ট্র দ্বয়ের চীন মুখী নীতি গ্রহণ~ ৫. দীর্ঘ ২০ বছর আগ্রাসন চালিয়েও শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে ...

ইউক্রেনে পুতিন বা রাশিয়ার উদ্যেশ্য কি ? পুতিন বা রাশিয়া কি সঠিক পথেই গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছে ?

 ইউক্রেনে পুতিন বা রাশিয়ার উদ্যেশ্য  কি ? ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিন বা রাশিয়ার লক্ষ্য কি ? পুতিন বা রাশিয়া কি সঠিক পথেই গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছে ? গতকাল রাশিয়ার সেনাপ্রধান ইউক্রেন অভিযানের লক্ষ্য বা উদ্যেশ্য সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন দোনবাস (লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক) এলাকাকে মুক্ত ও স্বাধীন করাই তাদের এই অভিযানের মূল উদ্যেশ্য বা লক্ষ্য এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুবই কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।  উল্লেখ্য; রাশিয়া ২০১৪ সালেই ক্রিমিয়া দখলে নিয়েছে এবং ক্রিমিয়া ও দোনবাস এর কাছাকাছি ইউক্রেনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকা মারিওপোল দখল নিতে গত একমাস সর্বাত্মক হামলা চালিয়েছে । তাছাড়া এপর্যন্ত লুহানস্ক এর ৯০% এবং দোনেৎস্ক এর প্রায় ৬০% এলাকা দখলে নিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ান অভিযানের উপরোক্ত চিত্র এটাই প্রমাণ করে যে দোনবাস (লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক) এলাকাকে মুক্ত ও স্বাধীন করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য বা উদ্যেশ্য ;  কিন্তু এটাই কি তাদের মূল লক্ষ্য বা উদ্যেশ্য ? তাহলে তারা ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ বা অস্ত্রসমর্পন করতে বলছেন কেন ? কেনোই বা ভলদেমির জেলেনস্কির সাথে আলোচনায়...

PUTIN: The Boss

 "" বন্ধু নয় এমন দেশকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে হবে রাশান মুদ্রা রুবল এর বিনিময়ে"~ PUTIN: The Boss ওস্তাদের মাইর শেষরাতে~ একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট ও আজগুবি অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া এবং ন্যাটো~ হামকি, ধামকি আর একের পর এক অবরোধ দিয়েই যাচ্ছে আমেরিকা আর ইউরোপ ~ গত একটি মাস চুপচাপ বসে বসে অবলোকন করে গেছেন পুতিন; টু শব্দটি করেন নি ~ অবশেষে একমাস পূর্তির সন্ধিক্ষণে কৌশলগত প্রথম অস্ত্রটি ছাড়লেন পুতিন; দ্য বস্~ "" বন্ধু নয় এমন দেশকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে হবে রাশান মুদ্রা রুবল এর বিনিময়ে"~ সিদ্ধান্ত টি কার্যকর হবে এক সপ্তাহ পর হতে, এজন্য রাশিয়ান ব্যাংক গুলোকেও এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন পুতিন~ বলেই বাহুল্য; রাশিয়া বন্ধু দেশের তালিকা নয়, বরং বন্ধু নয় এমন দেশের তালিকা করেছেন~   অনেকেই মনে করতে পারেন; এ আর এমন কি ? দরকার পড়লে রুবল দিয়েই কিনবে তেল ও গ্যাস। বিষয়টি এত সহজ নয়~ দেশগুলিকে প্রথমে রাশিয়ার ব্যাংক থেকে ডলার বা ইউরো দিয়ে রাশান মুদ্রা রুবল কিনতে হবে, তার পর উক্ত রুবল দিয়ে নগদ পেমেন্ট এর মাধ্যমে কিনতে হ...

পোল্যান্ড : কি একটি অপয়া দেশ?

 #পোল্যান্ড :  এমন একটি অপয়া দেশ ¿¿ ~ যেখান থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল । ~ যেখান থেকে স্নায়ুযুদ্ধ বা শীতল যুদ্ধ বা Cold War এর সূত্রপাত হয়েছিল। ~ যেখান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার সূচনা হয়েছিল। ~ তাহলে কি এই পোল্যান্ড থেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হতে যাচ্ছে ? ১. ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের আগে ১২৪ (কিছু কম/বেশি হতেপারে) বছর ধরে পোল্যান্ড নামক কোন দেশের অস্তিত্ব ছিল না। ১৭৯১ সালের দিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়া পোল্যান্ডকে অধিকার করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছিল।  ১৯১৯ সালে প্যারিস শান্তি সম্মেলনের মাধ্যমে পোল্যান্ড ঐক্যবদ্ধ রূপ পায়, অর্থাৎ পুনরায় পোল্যান্ড রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়।  কিন্তু পোল্যান্ডের এই অখন্ড রূপ স্থায়ী ছিল মাত্র ২০ বছর।  হিটলার পোল্যান্ডের অদূরে জার্মান অধ্যুষিত "ডানজিগ" বন্দরে যাতায়াত করার জন্য পোল্যান্ডের ভিতর দিয়ে একটি করিডোর দাবি করে, কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পরামর্শে পোল্যান্ড সেই করিডোর দিতে অস্বীকার করে। মূলতঃ এই কারণ দেখিয়ে হিটলার ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক...

আমার স্বপ্নের নায়কদের কিছু উক্তি

 #করোনা কালীন একঘেয়ে, কিছুটা আতঙ্কজনক~(সেটি আক্রান্ত হওয়া বা অনাগত অর্থনৈতিক সমস্যাসঙ্কুল দিনগুলির কারণেই হোক)~সময়গুলোকে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিক দেয়ার প্রয়াসমাত্র:~ আমার স্বপ্নের নায়কদের মধ্যহোতে কয়েকজনকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছি, সাথে তাদের কিছু ভিন্ন আঙ্গিকের কিন্তু সময়ুপযোগী বাণী  ||√ #বঙ্গবন্ধু:  * অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়। * বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী। #ফিদেল ক্যাস্ট্রো: * আমি অনেক আগেই এ ব্যাপারে উপসংহারে পৌঁছেছি যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কিউবার জনগণের জন্য আমাকে এই শেষ ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।  ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে ~ * বিপ্লবের সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে, আমাদের যৌনকর্মীরাও গ্র্যাজুয়েট।’ ২০০৩ সালে পরিচালক অলিভার স্টোনকে এ কথা বলেন কাস্ত্রো। #নেতাজী সুভ...

পশ্চিমা দেশ ও মিডিয়াগুলোর প্রচার/প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?

পশ্চিমা দেশ ও মিডিয়াগুলোর প্রচার/প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ? পশ্চিমারা প্রথম থেকেই বলে আসছেন যে পুতিন তার যুদ্ধ কৌশলে ভুল করেছেন~                                                      ভুলগুলো হলো যুদ্ধে বিমান বাহিনীকে সেভাবে ব্যবহার না করা, কিয়েভ দখলে ধীর গতি, রাশান পদাতিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেন অপেক্ষা অনেক বেশি, সর্বশেষ বলে বেড়াচ্ছেন রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র বা রসদ শেষ হয়ে আসছে~ ইত্যাদি, ইত্যাদি।  সবথেকে হাস্যকর অপবাদ হচ্ছে রাশিয়ার  যুদ্ধ কৌশলে ভুল করার অপবাদ ।  পুতিনের যুদ্ধ কৌশলটা কি, সেটা কি পশ্চিমারা জানে ? এই যুদ্ধে রাশান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে, এখন পর্যন্ত সেটি কি আমেরিকা বা পশ্চিমারা জানতে পেরেছে ? এই যুদ্ধ কে পরিচালনা করছে, এখন অব্দি সেটিই যদি পশ্চিমা গোয়েন্দা বাহিনীগুলো জানতে সক্ষম না হয়, তাহলে যুদ্ধ কৌশল বা যুদ্ধের উদ্যেশ্য সম্পর্কে তারা কিভাবে ধারণা পেতে পারে ? একথা অনস্বীকার্য যে, পুতিন এই যুদ্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি...

ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা মিডিয়া ও দেশ গুলির মিথ্যাচার~

 ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা মিডিয়া ও দেশ গুলির মিথ্যাচার~ 👉 "কিয়েভ পোস্ট" ইউক্রেনের প্রথম সারির একটি পত্রিকা। যুদ্ধের প্রথম দিনে এই পত্রিকায় বেশ কয়েকটি রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করার ছবি ছাপা হয়। পরে দেখা যায় যে ছবি গুলো ২৪ সে জুলাই ১৯৯৩ সালের। 👉  Riho Terras নামক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য এবং এস্তোনিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্মির পোশাক পরা Dynamo Kiev Football Team  ফুটবল টিমের দেশ রক্ষার্থে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার একটি ছবি পোস্ট করেন, যা পৃথিবী ব্যাপী লাখ লাখ শেয়ার হয়। Football Factly নামক আরেকটি টুইটার অ্যাকাউন্ট; যার  ফলোয়ার সংখ্যা ৪৩০০০০~ এই অ্যাকাউন্ট থেকেও উক্ত ফুটবল টিমের ছবি শেয়ার করা হয় যে ফুটবলাররা মাতৃভূমির টানে আগ্রাসী রাশিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে~ পরবর্তীতে এরকম অনেকেই উক্ত ছবি দিয়ে পোস্ট দিতে থাকে~ কিন্তু কয়েকদিন পর প্রমাণিত হয় যে উক্ত ছবির মানুষগুলোর সঙ্গে উক্ত ফুটবল টিমের কোন সম্পর্কই নেই। তারা ডানপন্থী উগ্র কোনো দলের সদস্য। অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম; ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ? তিনিও জে...

পুতিন এর উদ্যেশ্য কি এবং উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের পথে কতটুকু সফল হতে যাচ্ছেন ? পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তা পোল্যান্ড থেকেই শুরু হবে, কেন বিশ্লেষক গণ এমন ধারণা পোষণ করেন ? তার আগে জানা দরকার;~                                            পুতিন এর উদ্যেশ্য কি এবং উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের পথে কতটুকু সফল হতে যাচ্ছেন ?                                      পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ? নাটের গুরু "আলেকসান্দর দিগিন" এবং "ভ্লাদিমির পুতিন" বিষয়ে যেটুকু জানা যায়, তাতে সহজ বাংলায় বলা যেতে পারে যে উনারা সোভিয়েত আমলের সাম্রাজ্যবাদী ও কুলীন ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী। সে সময়ে বিশ্বব্যাপী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রভাব প্রতিপত্তি এবং মর্যাদার বিষয়টি উনাদেরকে নস্টালজিক করে রেখেছে। তাছাড়া পুতিনের বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙ্গে যাওয়ায় আক্ষেপ ফুটে ওঠেছে বহুবার এবং এক্ষেত্রে সাবেক সোভিয়েত নেতাদের সমালোচনা করতেও উনি ছাড়েন নি।  তবে পুতিন  জ...

"আলেকসান্দর দাগিন" উগ্র জাতীয়বাদী এবং রুশ শাসকশ্রেণির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী একজন আধ্যাতিক গুরু ও দার্শনিক।

 আমরা লৌহমানব পুতিনকে চিনি, কিন্তু আমরা কি পুতিনের আধ্যাতিক/রাজনৈতিক গুরু এবং উপদেষ্টাকে চিনি ? পশ্চিমারা যাকে পুতিনের মস্তিষ্ক হিসেবে চেনে ? উনার নাম "আলেকসান্দর দাগিন" ।  রাশিয়ার চলমান সমরদর্শন সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নিতে হলে আমাদের পুতিনের পিছনের এই মানুষটির দিকে মনোযোগ দিতে হবে~  সোভিয়েত পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার প্রতিটি সামরিক অভিযান [[জর্জিয়া (২০০৮), ক্রিমিয়া (২০১৪), বেলারুশ (২০২০), কাজাখস্তানের (২০২২) পর ইউক্রেনের (২০২২)]] এর পিছনে রয়েছে যার অদৃশ্য হাত। যিনি রাশিয়ার জন্য ফিরিয়ে আনতে চান সেই অতীত আভিজাত্য/কৌলীন্য/সম্ভ্রম/শক্তি ও প্রভাব/প্রতিপত্তি, তিনি "আলেকসান্দর দাগিন" । #একজন_আলেকসান্দর_দাগিন" ::~  ৬০ বছর বয়সী দাগিন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের শিরোমণি, উগ্র জাতীয়বাদী এবং রুশ শাসকশ্রেণির ওপর  ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী একজন আধ্যাতিক গুরু ও দার্শনিক।  তিনি অত্যন্ত মেধাবী, অনেকগুলো ভাষায় পারদর্শী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। রাজনীতির উপর উনি একটা থিওরী দিয়েছেন যাকে "The Fourth Political Theory" বলা হয়।  তিনি নিজের সম্প...

ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব আজ নতুন মেরুকরণ পথে~

 ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব আজ নতুন মেরুকরণ পথে~  এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ "চিলি" এর মত মুসলিম দেশগুলো কি নিজেদের জাতিগত সমস্যা সমাধানে উচ্চকণ্ঠ হতে পারে না ? বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাবশালী দুই দেশ চীন ও ভারত এবং মুসলিম দেশগুলো সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ যদিও এ সংকটে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন করে নি, আবার সরাসরি রাশিয়া কেও সমর্থন করে নি।  তবে কার্যকলাপের দ্বারা অনেক দেশ_ই আমেরিকার প্রতি যেমন বিরক্তি প্রকাশ করছে, তেমনই নতুন মেরুকরণ এর দিকে নৌকার পাল ঘুরিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।  চীনের  সাথে রাশিয়ার ডলারের পরিবর্তে ইয়েন ও রুবলের দ্বারা ব্যবসা বাণিজ্যে করার ঐক্যমত বেশ পুরনো হলেও, ভারতের রাশিয়ার সাথে রুপি ও রূবলে লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য চালানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সৌদিআরব ও আরব আমিরাত এর তেলের উত্তোলন ও মূল্য ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনকে কার্যত এড়িয়ে চলা এবং চীনা মুদ্রায় চীনের সাথে তেলবানিজ্য চালু করার ইঙ্গিত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ বিগত দিনগুলোতে এই দুইদেশেকে যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ...

সৃষ্টিকর্তা: তোমার নিয়মে মানুষ চলে ? না কি মানুষের নিয়মে তুমি চল ?

 #সৃষ্টিকর্তা: তোমার নিয়মে মানুষ চলে ?                                               না কি মানুষের নিয়মে তুমি চল ? একটি সুন্দর,সমৃদ্ধ ও ছবির মত পরিপাটি দেশ ইউক্রেন লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে, একের পর এক সাজানো গোছানো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। মৃত্যুর কথা না হয় বাদই দিলাম,  ৩০ লাখের উপর মানুষ শরণার্থী বা উদ্বাস্তু হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে  অনুরূপ আরও ৩০ লাখের মতো মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে~  সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে ? একমাত্র তুমি ব্যতীত কেউ জানে না। কারণ তুমিই একমাত্র ভবিষ্যত দ্রষ্টা~ আমরা মানুষেরা ভবিষ্যত দ্রষ্টা না হলেও  অতীত ও বর্তমান দেখতে পাই ~ আমরা অতীতে দেখতে পেয়েছি আমেরিকা ও কয়েকটি দেশের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস-বাণীতে  "ভলাদিমির জেলেনস্কি" এর মত মূর্খের মূর্খতা ও গোয়ার্তুমি এবং পুতিন তথা রাশিয়া'র বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধির মানসিকতা ও নিজেদের নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনীয়দের মত শান্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠীর উপর কিভাবে নেমে এসেছে অমা...

রম্য রচনা ~প্রেক্ষাপট আমেরিকা ও রাশিয়ার দ্বন্দ্ব এবং সংঘাত

একটি রম্য রচনা 🤩 হাস্য রসাত্মক ছোট গল্প: গল্পের নাম: "ব্লেড" প্রেম/বিরহে জর্জরিত ও ঈমানদারী/বেইমানীতে ভরা, কয়েকটি পরিবারের প্রভাব/প্রতিপত্তি নির্ভর, নিদারুণ এক প্রেমের গল্পঃ এটি~ মূলতঃ দুই প্রেমিক ও অসংখ্য প্রেমিকা নির্ভর এই প্রেম কাহিনী।  প্রেমিক যুগলের নাম দেয়া যেতে পারে "রাশিয়া" ও "আমেরিকা" এবং অসংখ্য প্রেমিকাদের মধ্যে অন্যতম জর্জিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, পোল্যান্ড, কানাডা সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ১৯৪৫ সাল পরবর্তী সময়ে সারাবিশ্বে দুই পরিবারের রাজত্ব শুরু হয়;  একটি আমেরিকা কেন্দ্রিক পরিবার,যার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল ১২ জন, যার আরেক নাম ন্যাটো পরিবার। দ্বিতীয়টি রাশিয়া কেন্দ্রিক পরিবার, যার সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫ জন, যার আরেক নাম সোভিয়েত পরিবার বা সোভিয়েত ইউনিয়ন। প্রথম দিকে অর্থবিত্ত ও প্রভাব প্রতিপত্তিতে সোভিয়েত পরিবার এগিয়ে থাকলেও; সময়ের সাথে সাথে এবং অন্তর্কলহ ও দুর্নীতির কারণে সোভিয়েত পরিবারের অর্থ-বিত্ত, শান-শওকত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে।  পক্ষান্তরে সময়ের সাথে উল্টো গতিতে আমেরিকা পরিবারের সবকিছুই ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করে।  অনেকটা আঙ্...

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা

 পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তালাতালি, ঠেলাঠেলি, গুতাগুতি  ক্রমেই বেড়ে চলেছে~ বিষয়টি এখন শুধু রাশিয়া ইউক্রেন আর ন্যাটোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেলারুশ কেও যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রী সহ বেলারুশের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া বাইডেন, হিলারী ক্লিনটন সহ আমেরিকান ব্যক্তিবিশেষের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।  অন্যদিকে ইউরোপের তিন দেশের প্রধানমন্ত্রীর ইউক্রেন সফরকে কেন্দ্র করে রাশিয়া কিয়েভে আক্রমণ জোরদার করেছে।  আমেরিকা রাশিয়ার সাথে চীন কেও জড়িয়ে ফেলার পায়তারা করছে।  অন্যদিকে রাশিয়া বা পুতিন খুবই ঠাণ্ডা মাথায় ধীরেসুস্থে একের পর এক ইউক্রেনের সিম-সাম সুন্দর শহর গুলি ধ্বংস করে চলেছে।  সাধারণত যুদ্ধে যে কোন দেশের রাজধানীর পতন এবং সরকারের পতন কে উক্ত দেশের পতন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, এ কারণে যুদ্ধে সাধারণত রাজধানী আগে আক্রান্ত হয় এবং রাজধানীর পতন ঘটাতে যুদ্ধরত দেশ গুলি সর্বনিম্ন_সময়ে  সর্বোচ্চ_শক্তি প্রয়োগ করে।  এক্ষেত্রে...

ইউরোপীয়দের প্রতি খোলা চিঠি

 খোলা চিঠি~ প্রিয় ইউরোপিয়ান ভাই/বোন/বন্ধুগন; গত দুইদিন হলো আপনাদের মিডিয়ায় একটি কথা বার বার বলা হচ্ছে, তা হলো ইউক্রেনকে পরিকল্পিত ভাবে সিরিয়া বানানো হচ্ছে । রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনের একের পর এক শহর ও বন্দরগুলি ধ্বংস করে চলেছে, তাতে আপনাদের উপলব্ধি হচ্ছে যে ইউক্রেনের পরিণতি সিরিয়ার দিকেই যাচ্ছে। অর্থাৎ আপনারা স্বীকার করে নিচ্ছেন যে সিরিয়ার শহর, বন্দরসহ অবকাঠমোগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে ।  বলতে পারেন সিরিয়ার এই পরিণতি কারা করেছে ? কাদের হাত দিয়ে সিরিয়ার শহর/বন্দর গুলি একের পর এক ধ্বংস হয়েছে ?  বলা হয়, যুদ্ধের বিভীষিকায় পড়ে সিরিয়ার জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার লোক, বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪৫ শতাংশ সিরীয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।, প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকল্যে সিরিয়ার জনগণের সাড়ে ১১ শতাংশই নিহত বা আহত হয়েছে।  প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বলা হয়েছে ১৯ লাখ। যুদ্ধ শুরুর আগে ২০১০ সালে সিরিয়ার মানুষের গড় আয়ু যেখানে ছিল ৭০ বছর, সেটাই ২০১৫ সালে নেমে দাঁড়ায় ৫৫ বছর ৪ মাসে। দেশটির অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতির পরিমাণও নিতান্...

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতি রাশিয়া'র অকৃত্রিম ভালোবাসার ইতিহাস~

 বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতি রাশিয়া'র অকৃত্রিম  ভালোবাসার ইতিহাস~ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথ্য রাশিয়া'র ভারত ও বাংলাদেশে'র পাশে দাড়ানো'র পিছনের কাহিনী~ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্য-সহ দক্ষিণ এশিয়া'য় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সোভিয়েত-রাশিয়া আমেরিকার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে।  এর ফলে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত নেতা "লিওনিদ ব্রেজনেভ"; এই তিন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তাব করে। চীনকে এই নিরাপত্তা চুক্তি'র বাহিরে রাখার অজুহাতে পাকিস্তান চুক্তি'তে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।  কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে চীন সোভিয়েত রাশিয়া'র সাথে একযোগে কাজ করলেও; দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে'র ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়া'কে এড়িয়ে চলতে থাকে চীন এবং ভারত বিরোধী পাকিস্তান'কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। কারণ সীমান্ত নিয়ে বিরোধে'র জেরে ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক কোন কালেই ভালো ছিল না; ১৯৬২ সালে একবার এই দুই...