প্রশাসন ক্যাডার কি প্রকৌশলীদের প্রতিপক্ষ ভাবছে ? না-কি এর পিছনে অন্তর্নিহিত কোন কারণ বা উদ্যেশ্য আছে ? একজন নন-টেকনিক্যাল মানুষ কিভাবে টেকনিক্যাল কাজ বা প্রজেক্টের মূল্যয়ন করবে ? একজন নন-টেকনিক্যাল মানুষ, যিনি পড়াশুনা করেছেন সাহিত্য/কলা/ বিজ্ঞান অনুষধের ক্ষেত্র-ভিত্তিক বিষয় বা সাবজেক্ট নিয়ে, তিনি যেমন ডক্টরদের কর্মকাণ্ড (রগীদেখা, টেস্ট এর কোয়ালিটি বা প্রয়োজনীয়তা, অপারেশন ইত্যাদি) এর গুণগত মানের মূল্যায়ন করতে পারেন না, তেমনই ইঞ্জিনিয়ার দের কর্মকাণ্ড (সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিকাল, ইনফরমেশন টেকনোলজি ইত্যাদি) এর গুণগত মানেরও মূল্যায়ন করতে পারেন না। এরপরও একের পর এক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট বা প্রজেক্ট এর মাথার উপর যেমন প্রশাসন ক্যাডার এর নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের বসানো হচ্ছে, তেমনই নন-টেকনিক্যাল সহকারী জেলা প্রশাসকদের দ্বারা জেলাগুলোর আওতাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ সমূহের মনিটরিং সহ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নিকট অতীতে জননেত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়া গৃহহীনদের জন্য "গৃহায়ন প্রকল্প" এর কাজে প্রশাসন ক্যাডারের নন-টেকনিক্যাল লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিণাম দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ ছোট ছোট ঘরবাড়ি তৈরির এই প্রকল্পটি টেকনোলজি বিবেচনায় একটি লো-টেকনিক্যাল প্রজেক্ট ছিল ; তারপরও সামান্য বৃষ্টির কারণে এই প্রজেক্টের অনেক ঘরবাড়ি মাটিতে ডেবে গেছে বা ধসে পড়েছে । অধিকাংশ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটদের মাটিসহ স্ট্রাকচারের "লোড বেয়ারিং ক্যাপাসিটি" সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। কি ওজনের একটি বাড়ির জন্য মাটির কম্প্যাকশন কেমন হওয়া উচিৎ, ম্যাজিস্ট্রেট মহদয়দের সেটি বুঝতে না পারার জন্যই মূলতঃ এই প্রকল্পের বিভিন্ন ঘরবাড়ি অল্প বৃষ্টিতেই হেলে পড়েছিল বা ডেবে গিয়েছিল। সত্যিকথা বলতে কি ? এই বিষয়টি উনাদের জানার কোথাও না, কারণ এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টার্ম বা বিষয়। এই প্রজেক্টটির সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব যদি LGED ডিপার্টমেন্ট এর হাতে থাকতো, তাহলে নির্দ্বিধায় বলেদেয়া যায় যে অন্তত বৃষ্টির কারণে একটি ঘরও হেলে পড়তো না । এরপরও সবকিছু জেনে বুঝেও তাদেরকেই আবার হা-ই-লি টেকনোলজির ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ বা প্রকল্পের পরিদর্শন ও মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
২০০/২৫০ বছর পিছনে দিকে তাকাই একটু~ ব্রিটিশরা ভারতের শাসনভার গ্রহণের পর, কোন কিছু না বুঝেই পুলিশ-প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সেক্টর বা ডিপার্টমেন্টের মাথায় ইংরেজ বা ব্রিটিশদের বসিয়েছিল। ভাষাসহ ভারতীয় কৃষ্টি-কালচার ও অপরাধের ধরন-ধারণ সম্পর্কে ধারণা না থাকায়, যেকোন কাজ বা বিচার সমাধা করার ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের সাথে নিম্নপদস্থ ভারতীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানাবিধ সমস্যা তৈরী হতে থাকে, ফলশ্রুতিতে প্রতিটি কাজ বা বিচার কার্য সমাধা করতে প্রয়োজনীয় সময়ের চাইতে দ্বিগুন/তিনগুণ সময় লাগতে শুরু করে, একারণে উচ্চপদে অধিষ্ট ব্রিটিশরা নিম্নপদে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর ১০০% নির্ভরশীল হয়ে পর, ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হয় ; এইসব ভারতীয় কর্মকর্তা/কর্মচারীরা ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং উচ্চপদস্থ ইংরেজদের নয়-ছয় বুঝিয়ে ফাইল সাইন করাতে শুরু করে। মূলতঃ এভাবেই ভারতীয় উপমহাদেশে কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা অর্থাৎ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির গোড়াপত্তন শুরু হয়। যে চক্র থেকে আমরা এখনো বেড়িয়ে আসতে পারিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়াকেই আরও উৎসাহিত করবে, অর্থাৎ দেশের চলমান ইঞ্জিনিয়ারিং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোকে আরও দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলেদেবে এবং দুর্নীতির পরিমাণ আরও বাড়বে বৈ কমবে না।
জননেত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের ভিশন-২০৪১ বাধাগ্রস্ত করতে যে দেশ বিরোধী চক্র দেশে- বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে ষড়যন্ত্র করছে, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ কি না ? তাও ভেবে দেখা উচিৎ বা খতিয়ে দেখা উচিৎ। মনেহয় প্রকৌশলদের উপর নন-টেকনিক্যাল সহকারী জেলা প্রশাসকদের খবরদারীর মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে দিয়ে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর ভিশন২০৪১বাস্তবায়নকে বাধগ্রস্ত করতে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে কোন একটি মহল। অথচ প্রকৌশলীরা ভিশিন- ২০৪১ বাস্তবায়নে ভিভিন্ন মেগা প্রজেক্টসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দিনরাত। বিষয়টি ভেবেদেখা দরকার।
Comments
Post a Comment