#চর
#নাটুয়ারপাড়াকে আমরা শখের বসে "চর" বলে থাকি, তাছাড়া এখানে যাতায়াতে যমুনা নদীর একটি অংশ পারাপার হতেই হয়; সেকারনেও অনেকেই একে চর বলে থাকে।
বাংলাদেশ সৃষ্টিরও অনেক আগে থেকেই এই জনপদ শিক্ষা-দীক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি আচার-অনুষ্ঠান ও বিনোদনের ক্ষেত্রে কাজিপুর তথা সিরাজগঞ্জে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে~
কাজিপুরের ৬ টি এবং সিরাজগঞ্জের ৩ টি মিলিয়ে মোট ৯ টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এই বৃহত্তর জনপদ, যার নেতৃত্ব দিয়ে আসছে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন। শতাধিক (১০৮) প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ২টি ডিগ্রি কলেজ ও অসংখ্য নন-এমপিও-ভুক্ত প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সমন্বয়ে এই চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা বিস্তৃত। স্বাধীনতার পর থেকেই এই অঞ্চলের সাক্ষরতার হার পুরো উত্তরবঙ্গে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে বিদ্যমান। মুক্তিযুদ্ধেও এই চরাঞ্চলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।
তাছাড়া নাটক, যাত্রা, সার্কাস, পুতুলনাচ ও খেলাধুলাসহ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই জনপদ সবসময়ই নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, যদিও সারাদেশের মতোই মূলধারার বাঙ্গালী সংস্কৃতি যেমন নাটক/যাত্রা/সার্কাস/পুতুলনাচ ইত্যাদিতে অনেকটা ভাটা পড়েছে~ এরপরও "নাপা সাংস্কৃতিক সংঘ" এবং "যমুনা বাউল একাডেমী" সহ বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এখনও স্রোতের বিপরীতে অতীতের ধরা অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে~
অথচ আমাদের ছোটবেলায়ও দূরদূরান্ত থেকে নৌকা ভাড়াকরে নাটুয়ারপারায় (নিজস্ব পরিচালনা ও কলাকুশলী দ্বারা মঞ্চায়িত) নাটক/যাত্রা/সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা দেখতে মানুষদের দলে দলে আসতে দেখেছি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে এই অঞ্চল সারাদেশে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । সারাদেশে বিভিন্ন সময় হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিমদের দ্বারা আক্রান্ত হলেও অদ্যবধি এই অঞ্চলে কখনও এরূপ ঘটনা ঘটেনি~
উল্টো হিন্দু/মুসলিম নিজেদের ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে অংশগ্রহণ করে আসছে সুদীর্ঘকাল ধরে। সম্প্রতি আমার বন্ধু নিতাই চন্দ্র সরকার Nitai Sarkar (পুলিশের ওসি) এর ছোটভাই Shapon Kumer sorkar মেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে মুসলমান বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীদের প্রচেষ্টায় অতি অল্প খরচে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উদাহরণ মাত্র।
সারাদেশের মতো নেশার থাবা এই অঞ্চলে হানা দিলেও চুরি,ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি অত্র অঞ্চলের নেই বললেই চলে, বলতেগেলে এখনও এই অঞ্চলের মানুষ ২৪ ঘনটার জন্য বাড়ির দরজা জানালা খুলেই রাখে~
নদীর কল্যাণে পন্যপরিবহণে সুবিধার জন্য ব্যবসা বাণিজ্য এবং অত্র অঞ্চলের বৃহৎ হাট (নাটুয়ারপাড়া হাট)কে কেন্দ্রকরে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে অতীত থেকেই বেশ ভালো। এতদিন সৌরবিদ্যুৎ দ্বারা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হলেও; মরহুম নাসিম ভাইয়ের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা এর নির্দেশে যমুনার তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে সম্প্রতি এই অঞ্চলও বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। আশাকরি এমন একদিন আসবে যেদিন হয়তঃ মেঘাই গাড়ি রেখে নৌকা বা স্পিড বোটে নাটুয়ারপারায় আসতে হবে না, সরাসরি আসতে পারবো
এই হচ্ছে আমার প্রিয় নাটুয়ার পাড়া তথা প্রিয় চরাঞ্চলের। কাহিনী সংক্ষেপ।
ছোটবেলা থেকেই বাহিরে থাকার কারণে এই অঞ্চল এবং মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক খুব একটা সুদৃঢ় না হলেও এইবার দুই ভায়রা ভাই Golam Rabbani ও Fahim Uddin Himel এবং তাদের পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম নাটুয়ারপাড়ায~
চরাঞ্চল বলতে যা বুঝায় ~সেই ধারণা থেকে ফাহিম লাঠিয়াল বাহিনী দেখতে চাওয়ায় উপরূল্লেখিত কাহিনীর অবতারণা ~ নিশ্চয় ভুলভ্রান্তি ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে~
Comments
Post a Comment