Skip to main content

সময় গেলে সাধন হয় না ~ সময় আসলে কি ?

 ~ "সময়" ~

 সময় একটি ভৌত (Physical) রাশি, যা পরিমাপযোগ্য। অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্যকারীকে সময় বলা হয়।

অন্যভাবে বলাযায়;

সময় সবসময় চলমান একটি মাত্রা যা অতীত থেকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের দিকে ক্রমে ধাবিত হচ্ছে । 

যেহেতু সময় সবসময় চলমান সেহেতু বলাযায় যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন কিছুই স্থির নয়। আপাত দৃষ্টিতে আমরা একটা বস্তুকে স্থির (যেমন বাড়িঘর) দেখলেও সময় কিন্তু তাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে;,,, সেক্ষেত্রে চলমান সময়ের রেসপেক্ট উক্ত বস্তুটিও কিন্তু চলমান। অনেকটা চলমান ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকলে বাড়িঘর/গাছপালা কে যেমন মনেহয় উল্টো দিকে যাচ্ছে~ঠিক তেমনই ট্রেনের জায়গায় সময়কে কল্পনা করলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।


বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা প্রতিনিয়ত সময় ও সময়ের অস্তিত্বকে গভীরভাবে জানার চেষ্টা করে আসছেন।

বিজ্ঞানী নিউটন সময়কে একটি ধ্রুব (অপরিবর্তনীয়/নির্দিষ্ট/Constant) মান বলে উল্লেখ করেন এবং উনার মতে সময়ের পরিবর্তনের হার সব-জায়গায় সব-সময় সমান।

এ মতবাদ অনুসারে মহাবিশ্বের যেকোন দুই জায়গায় অবস্থান করা দুটি আলাদা প্রাণীর কাছে সময়ের অভিজ্ঞতা একই রকম। এমনকি মহাবিশ্বের সবকিছু যদি স্থির হয়ে যায়, তবুও সময় চলতে থাকবে।

কিন্তু পরবর্তীতে আইনস্টাইনের "জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি" আবিষ্কার হলে~ নিউটনের "সময়" সম্পর্কিত ধরনাসহ-সব পুরাতন ধারণা পাল্টে যায়। 

আইনস্টাইনের মতে সময়ের অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় এবং স্থানভেদেও সময় সর্বদা পরিবর্তনশীল। 

মূলতঃ থিওরি অফ রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী মহাশূন্যের যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আধিক্য যত বেশি, সময় সেখানে তত ধীর গতিতে প্রবাহিত হয়।

অর্থাৎ পৃথিবীর তুলনায় যে গ্রহে মধ্যাকর্ষণ শক্তি বেশী, সেখানে সময় পৃথিবীর তুলনায় ধীরে চলে~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...