বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়: (আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তিদের অংশগ্রহণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস)
*** বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়: (আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তিদের অংশগ্রহণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস)
** অন্যভাবে বলাযায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে জড়িয়ে পড়েছিল পরাশক্তিগুলি এবং তৈরী হয়েছিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র~
* মূলতঃ ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও ইন্ডিয়ার প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়নের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব-পরায়ণতা ও সহযোগিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথ ও সময়কে সংকুচিত করে মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সহায়তা করেছিল ।
পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার চাইতেও আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিশ্বময় নিজেদের সক্ষমতার ভিত্তি মজবুত করতে অন্তত একটি প্রক্সি যুদ্ধে জয়লাভ, কারণ ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম সহ সবগুলো প্রক্সিযুদ্ধে তাদের পরাজয় হয়েছিল । পাকিস্তান ভিত্তিক এই প্রক্সি যুদ্ধে আমেরিকার তুরুপের তাস ছিল চায়না, যে চায়না ভিয়েতনাম যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে আমেরিকার বিপক্ষে যুদ্ধ করেছে, সেই চয়নাই ভারত বিরোধিতার কারণে তখন আমেরিকা ও পাকিস্তানের বন্ধু ও সহযোদ্ধা হয়ে খেলার মাঠে সক্রিয়।
এহেন পরিস্থিতিতে মার্কিন মন্ত্রী কিসিঞ্জার যখন পাকিস্তান ও চীন সফরের পর ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে জানিয়ে দেন যে, "ভারত যদি সরাসরি পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে চীন ভারত আক্রমণ করবে"। সোভিয়েত ইউনিয়ন এ ঘোষণায় বিচলিত হয়ে পড়ে, কারণ চীন যেকোন ছুতোয় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারত আক্রমণের সুযোগ খুঝছিল, বিষয়টি সোভিয়েতের অজানা ছিল না। তাছাড়া মার্কিন সমর্থনে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ আক্রমণ যে ভারত প্রতিহত করতে পারবে না, সেটিও সোভিয়েত রাশিয়ার অজানা ছিল না। বলাযায় খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ তখন আমেরিকার হতে~
কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক দক্ষতায় মার্কিন, চায়না ও পাকিস্তানের সমস্ত গোয়েন্দা নজরদারী ফাঁকি দিয়ে ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে সম্পাদিত হওয়া "সোভিয়েত-ভারত" মৈত্রী চুক্তি যেন খেলার মাঠের সব হিসাবনিকাশ বদলে দেয় । কোন ধরনের পূর্বাভাস ব্যতিরেকে এই যুদ্ধ যেন পুরো বিশ্বকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে । হটাৎ করেই খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ ইন্দিরা গান্ধীর হাতে চলে আসে, যে খেলার স্ট্রাইকার সোভিয়েত ইউনিয়ন । এখন কোন দেশ ইন্ডিয়া আক্রমণ করলেই সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়বে, অর্থাৎ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, যার পরিণতি অবশ্যম্ভাবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ । "ইন্দিরা গান্ধী" ও সোভিয়েত নেতা "ব্রেজনেভ" যে এমন একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে সেটি আঁচ করতে না পারাটা আমেরিকার জন্য ছিল চরম ব্যর্থতা । অনেক বিশ্বনেতাদের মতে এই চুক্তির ফলেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল পুনরায় আরেকটি প্রক্সি যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয়, তথা পাকিস্তানের বিভক্তি, তথা বাংলাদেশের অভ্যুদয়। এই চুক্তি করেই যে ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া চুপচাপ বসে ছিলেন, তা কিন্তু নয়। চীন বা আমেরিকা থেকে সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমে যাওয়ায়, ভারত এসময় আমাদের মুক্তি বাহিনীকে অনেকটা প্রকাশ্যেই অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে সহায়তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে যতটা না পাকিস্তানের পরাজয় বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, তারচেয়েও বেশি ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা বা আক্রান্ত হওয়া সোভিয়েত রাশিয়াকে চিন্তিত করে তুলেছিল, কোনভাবেই আমেরিকা ও চায়নাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বাস করতে পারছিল না।
মূলতঃ একারণেই ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মার্কিন ও চায়নার মিলিটারী ফোর্স ও নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য মহাকাশে একের পর এক তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে, যে স্যাটেলাইট গুলি থেকে প্রতিদিন মার্কিন ও চায়না ফোর্সের গতিবিধি ইন্ডিয়াকে অবহিত করা হচ্ছিল। এখানেই শেষ নয়, সোভিয়েত রাশিয়া তাদের চীন সীমান্তে ৫৫ ব্যাটেলিয়ন সৈন্য(প্রায় ৫ লক্ষাধিক) এবং অসংখ্য ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান জমায়েত করেছিল, যার অর্থ ছিল চীন ইন্ডিয়া আক্রমণ করলেই তারা চীন আক্রমণ করবে। যে কারণে আমেরিকার পীড়াপীড়ি ও সহযোগিতা সত্বেও চীনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বা ভারত আক্রমণ সম্ভব হয় নি ।
এদিকে ইন্ডিয়ার আকাশ ও জলপথ ব্যবহার করতে না পারায় পশ্চিম পাকিস্তান তার পূর্ব অংশে কোনভাবেই যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সাপ্লাই করতে পারছিল না, ফলে পূর্ব পাকিস্তানে তাদের পরাজয় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর গণহত্যা এবং ভারতমুখী শরণার্থীদের ঢল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভবিষ্যত ইন্দিরাগন্ধিকে বিচলিত করে তুলেছিল, তিনি যেকোন মূল্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পাকিস্তানের পরাজয় দ্রুততর করতে মরিয়া হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্বসম্প্রদায় পাকিস্তান মুখী হওয়ায় আগ বাড়িয়ে যুদ্ধে জড়ানোতেও দ্বিধায় ভুগছিলেন ।
এমনি প্রেক্ষাপটে ২৯৭১ এর ডিসেম্বরের ৩ তারিখে ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা, পাকিস্তান সেদিন ভুলভাল তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় ১১ টি এয়ারফিল্ডে বিমান আক্রমণ চালায়, পাকিস্তানের কাছে তথ্য ছিল এসব বিমান ঘটিয়ে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুদ্ধবিমান অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে, এক আক্রমণেই এইসব বিমানকে ধ্বংস করা সম্ভব। যেটিকে কিছু কারণে অনেকেই বলেন ভারত তথা ইন্দিরা-গান্ধির ফাঁদে পা দিয়েছিল পাকিস্তান, আবার অনেকেই বলেন পাকিস্তান তথা আমেরিকার গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট এর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে হয়েছিল, আবার অনেকেই বলেন এটি স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা যুদ্ধে পাকিস্তান ও আমেরিকার দ্বিতীয় বারের মত পরাজয় । ভারত-সোভিয়েতে'র মৈত্রিচুক্তিটি ছিল তাদের প্রথম পরাজয় ।
কারণ: সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা' বইতে জেনারেল জ্যাকব লিখেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর চীফ "অরোরা (জগজিৎ সিং অরোরা) সহ ভারতীয় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্তা ব্যক্তিগণ ৩ রা ডিসেম্বর পাকিস্তানের ভারত আক্রমণে ছিলেন খুবই উৎফুল্ল। অরোরা সাহেব তো তার এডিসিকে মেস থেকে এক বোতল হুইস্কি আনার নির্দেশ দিহয়েছিলেন।
উল্লেখ্য ; এসময় কোন এয়ার ফিল্ডেই কোন ভারতীয় যুদ্ধ বিমান অরক্ষিত ছিল না এবং ১১ টি এয়ারফিল্ডে পাকিস্তানের এই সমন্বিত আক্রমণে ভারতের একটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। কাজেই ভুল তথ্য বা ভুল আক্রমণ, যেটাই বলি না কেন ? এটা যে ইন্দিরা গান্ধী বা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাকিস্তানকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর একটি কৌশল বা নাটক ছিল তা জেনারেল অরোরা ও অন্যান্য ভারতীয় অফিসারদের আনন্দ উল্লাসের কারণেই প্রমাণিত হয়। এখন ভারতের সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে আর বিশ্ববাসী ভারতকে দোষারোপ করতে পারবে না। যথারীতি ঐদিনই ভারত ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে~
ঠিক এসময়ই Indira Gandhi বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র গুলোতে কূটনৈতিক সফর করা শুরু করেন, এ সফরের মূল উদ্যেশ্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া অমানবিক গণহত্যা, ভারতে আশ্রয় নেয়া কোটি শরণার্থীদের দুর্দশা ও ভারতের অবস্থা এবং ভারতের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিকতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বুঝিয়ে বলা । এ ছফরে আমেরিকার অবস্থানের পরিবর্তন না হলেও, ফ্রান্স ও জার্মানির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছিল, পরবর্তীতে আমেরিকার দুই দুইবার যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে ফ্রান্স ও জার্মানি ভোট দানে বিরত থেকে পরোক্ষভাবে মূলতঃ সোভিয়েত তথা ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের পক্ষই নিয়েছিল। এটাকেও মার্কিনীদের ৩ নম্বর পরোক্ষ পরাজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এসময় ভারতীয় বিমান বাহিনী, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বিত আক্রমণে পাকবাহিনীর পরাজয় যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে ধরে নিয়ে, আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে (সপ্তম নৌবহর দ্বারা) পড়ার শঙ্কা দেখা দেয় । বিশেষ করে কিসিঞ্জার যেকোন মূল্যে এই প্রক্সিযুদ্ধ জিততে বদ্ধপরিকর।
এহেন পরিস্থিতিতে সোভিয়েত রাশিয়া ভারতে যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে আনতে বলে, অন্তত যুদ্ধকে আরও কিছুদিন(কয়েক সপ্তাহ) দীর্ঘায়িত করতে বলে, কারণ ভারতের নৌবাহিনীর এমন কোন সক্ষমতা ছিল না যা দিয়ে ভারত আমেরিকার সপ্তম নৌবহর কে পরাভূত করতে পারে~ সেক্ষেত্রে সোভিয়েত নৌবাহিনীকে দায়িত্ব নিতে হবে, কিন্তু সোভিয়েত নৌ বাহিনীকে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ প্রয়োজন। পক্ষান্তরে জাপানি নৌঘাঁটিতে অবস্থান রত মার্কিন সপ্তম নৌবহর মাত্র এক সপ্তাহেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে সক্ষম।যথারীতি ইন্ডিয়া পূর্ব পাকিস্তানে আক্রমণের গতি কমিয়ে দিয়ে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত পাকিস্তানী ছোট আকৃতির জাহাজগুলি ধ্বংসের দিকে মনোনিবেশ করে, যাতে এসময়ের মধ্যে মার্কিন সপ্তম নৌবহর এসে পৌঁছলেও পাকিস্তানী ছোট ছোট জাহাজ গুলি মার্কিন বড় জাহাজ গুলি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ খালাস করতে না পারে। এসময় জতিসংঘে আমেরিকার যেকোন প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো নাদিয়ে বা বিরোধিতা নাকরে, আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে কাল-ক্ষেপণ এর নির্দেশ দেয়া হয় জাতিসংঘের ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি "অমর সেন" এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের স্থায়ী প্রতিনিধি "ইয়াকফ মালিক" কে ।
যথারীতি যুদ্ধবিরতির এক মার্কিন প্রস্তাবে ইয়াকোফ মালিক (কালক্ষেপণের জন্য) বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজনকে আলোচনায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে বলে বিতর্কের সৃষ্টি করে । পাকিস্তান ও চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তি তর্ক উত্থাপন করতে থাকে, পরদিন এর নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্কে সবচেয়ে তির্যক মন্তব্যটি করেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি 'সমর সেন'। বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে বিতর্কে অংশগ্রহণের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে এই প্রশ্নে আলোচনা হবে প্রিন্স অব ডেনমার্ককে বাদ দিয়ে হ্যামলেট নাটকের অভিনয়।’ এভাবেই বিতর্কে বিতর্কে কাল ক্ষেপণ চলতে থাকে, এছাড়াও নিরাপত্তা পরিশোধের এক প্রস্তাবে ভারত উত্তর দিতে ৫ দিন দেরি করে, পোল্যান্ডের মাধ্যমে আপোষ রফার একটা প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয় নিরাপত্তা পরিশোধে, এসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেও "যুদ্ধ নয়, রাজনৈতিক সমাধান" শিরণমে এক প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিশোধে উত্থাপন করে, সোভিয়েতের এ প্রস্তাবে পাকিস্তান অনিচ্ছা সত্বেও আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়। মূলতঃ এসবই ছিল কাল-ক্ষেপণ বা যুদ্ধের সময় বৃদ্ধির ইন্ডিয়া ও সোভিয়েত রাশিয়ার কটুকৌশল। ডিসেম্বর এর ১২ তারিখে নিক্সন ইয়াহিয়াকে জানায় যে সপ্তম নৌবহর তাদের সহায়তায় রওনা দিয়েছে, পাকিস্তানী মাথামোটা ইয়াহিয়া সহ নেতৃবৃন্দ এসংবাদে উল্লসিত হয়ে সোভিয়েতের রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাবনার উপর আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। অনেকেই বলেন এটি ছিল পাকিস্তান তথা আমেরিকার চতুর্থ এবং শেষ পরাজয়। কারণ ততদিনে পরমাণু অস্ত্র বোঝাই তিনটি সোভিয়েত সাবমেরিন ও ডেস্ট্রয়ার সমৃদ্ধ প্রায় ২৪/২৫ টি রণতরী বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যেই মার্কিন সপ্তম নৌবহরও বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি মোড় নেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে~ অবশেষে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সপ্তম নৌবহর পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক পরাজয় স্বীকার এর মাধ্যমে আমেরিকার সর্বশেষ প্রক্সি যুদ্ধ জয়ের সমাপ্তি ঘটে, পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয় এবং বাংলাদেশ নামক এক নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
লেখক: মো: আজিজ মিশির সেলিম।
সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি,
চট্টগ্রাম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
Comments
Post a Comment