সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?
সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~
আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দিয়েছেন; এরকম বহুত ভবিষ্যবাণী বিজ্ঞানের আলোকে এখন সত্য প্রমাণিত হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে~
কাজেই যেসব বিষয়ে ইসলামে উল্লেখ নেই বা কোন দিকনির্দেশনা নেই; বুঝতে হবে সেসব বিষয় ইসলামে সন্নিবেশিত করার প্রয়োজন নেই।
সাহাবী/তাবেতাবেইন/আউলিয়া যুগের পর, বর্তমান জামানায় "তাবলীগ জামাত" এর মাধ্যমেই বিশ্বে ইসলামের বেশি প্রসার ঘটেছে, এর অন্যতম কারণ তারা সাহাবীদের দেখানো পথেই ইসলামের দাওয়াত এর কাজ করে থাকেন। তারা মাইক দিয়ে বা ইউটিউব এর মাধ্যমে ওয়াজ নসীহত করেন না, মাইক দিয়ে নামাজ পড়েন না, মাইক দিয়ে চিল্লায়া চিল্লায় মোনাজাত বা প্রার্থনাও করেন না;
তাছাড়া সময়ের সাথে মানুষের বয়স বাড়লেও বা চোখ ও কানে সমস্যা দেখা দিলেও~ সময়ের সাথে আল্লাহর যেমন বয়স বাড়ে না, তেমনই চোখ বা কানেও কোন সমস্যা হয়না; কাজেই নামাজের সুরা কেরাত মাইকে না বললে উনি শুনতে পাবেন না, বা বুঝতে পারবেন না অথবা উনার কাছে কিছু চাইতে গেলে অর্থাৎ প্রার্থনা করতে গেলে মাইকে চিল্লায় চিল্লায় না বললে উনি শুনতে পাবেন না~ বিষয়টি এমন নয়। উনি অন্তর্যামী, মানুষ কি চিন্তা করছে সেটিও উনি জানেন। তাহলে মাইকের মাধ্যমে নামাজ আদয়করা, সুরাকেরাত পাঠকরা, মাইকের মাধ্যমে প্রার্থনা করা ইত্যাদি কেন করা হচ্ছে ?? নিশ্চয় মানুষকে শুনানোর জন্য, আল্লাহকে নয়। প্রতিটি ইবাদত ও আমল/অজিফা'র উদ্যেশ্য শুধু মাত্র উনাকে কেন্দ্রকরে হতে হবে, উনাকে শুনানোর জন্য হতে হবে, মানুষজনকে শুনানো বা দেখানোর জন্য নয়। যে ইবাদত/বন্দেগী মানুষজনকে শুনানো বা দেখানোর জন্য হবে; তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য তো হবেই ন, বরং উক্ত ইবাদত/বন্দেগী তার জন্য শাস্তির কারণও হতে পারে।
একারণেই মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা জানিয়ে দিয়েছেন যে~ শেষ জামানায় মহল্লায়-মহল্লায়, পাড়ায়-পাড়ায়, মসজিদে ভরে যাবে, এরপরও মসজিদ সমূহে নামাজের জায়গা পাওয়া যাবে না, মানুষ দলে দলে , কাতারে কাতারে নামাজসহ ইবাদত বন্দেগী করতে থাকবে; কিন্তু এর কোন কিছুই উনার কাছ অব্দি পৌঁছবে না, অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য হবে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এসব ইবাদত হবে অনেকটা লোক দেখানো জন্য।
তাছাড়া সময় বা প্রযুক্তির সাথে ধর্মের পরিবর্তন যে সৃষ্টিকর্তার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়; তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে খৃষ্টান ধর্ম। খৃষ্টান ধর্মের বিভক্তি অর্থাৎ প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক দুই ভাগে ভাগ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সময়ের সাথে বাইবেলের পরিবর্তন ও পরিমার্জন করার পক্ষে ও বিপক্ষে খ্রিস্টানদের বিভক্ত হয়ে পড়া। মূলতঃ একারণেই পরবর্তীতে ইসলামের আগমন ঘটে।
#কাজেই_সুধী_সাবধান: সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন করা বা পরিবর্তনকে সাপোর্ট করা শুধু গর্হিত অপরাধই নয়, ইসলাম ধ্বংসের কারণও বটে।
ইসলাম হচ্ছে Absolute ধর্ম: যা সবসময় ও সবমানুষের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য;
Comments
Post a Comment