Skip to main content

"মাসুদ রানা" বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স" এর দুর্ধর্ষ স্পাই,

 🌐_"মাসুদ_✈️_রানা"_🦞

 সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মেজর, এবং "বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স"(কাল্পনিক সংস্থা) এর দুর্ধর্ষ স্পাই, যার সাংকেতিক নাম MR-9। 

এছাড়াও "রানা এজেন্সি" নামক একটি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যানারে যিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা ও জটিল/জটিল মিশন পরিচালনা করে থাকেন ~

এপার/ওপার দুই বাংলায়ই এমন একটি অতি জনপ্রিয় চরিত্রের স্রষ্টা জনাব "কাজী আনোয়ার হোসেন" গত ১৯শে জানুয়ারী ২০২২; ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। 

#শ্রদ্ধাবনত_চিত্তে উনার অমর সৃষ্টি "মাসুদ রানা" সম্পর্কে কিছু তথ্য উপাত্ত জানাচ্ছি ~

* আমাদের ছাত্রবেলায় "মাসুদ_রানা_সিরিজ" এর বই পড়েনি এমন ছাত্র পাওয়া বেজয় দুষ্কর। এই সিরিজের বইয়ের সংখ্যা মোট ৪৬৮ টি। 

* কাজী সাহেব বইটি অতি স্বল্প মূল্যে পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন, এমনকি সেবা প্রকাশনী ও বিভিন্ন বইয়ের দোকানে 15/20 টাকায় মেম্বার হয়ে মাত্র ২/= টাকায় প্রতিটি বই ভাড়া নিয়েও পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন উনি~

* সে সময় ভারত থেকে বিভিন্ন লেখকের এর বই স্মাগলিং হয়ে বাংলাদেশের আসলেও, বাংলাদেশ থেকে একমাত্র মাসুদ রানা সিরিজের বই স্মাগলিং হয়ে ভারতের যেত~

* "মাসুদ রানা'র চরিত্রটিকে মূলত "ইয়ান ফ্লেমিংয়ে'র সৃষ্ট "জেমস বন্ড" চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন কাজী সাহেব~

* স্বাধীনতার পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান সরকার মাসুদ রানা সিরিজের "স্বর্ণমৃগ" বইটি নিষিদ্ধ করেছিলেন, এমন কি পুরো সিরিজ বন্ধ করারও হুমকি দিয়েছিলেন।

* স্বাধীনতার পরে আবার মুক্তিযোদ্ধারা মাসুদ রানা সিরিজের কিছু বইয়ের জন্য গাজী সাহেবকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন, বইগুলোতে ভারতকে বাংলাদেশ তথা পূর্ব পাকিস্তানের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে কাজী সাহেব কাহিনীতে পরিবর্তন এনে ভারতকে শত্রু রাষ্ট্র থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

* স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মাসুদ রানা সিরিজের বই প্রকাশিত হওয়া কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল, কারণ সে সময় বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে তেমন কোন রাষ্ট্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, গোয়েন্দাগিরি, স্পাই গিরি এবং থ্রিলারধর্মী কাহিনী লিখতে গেলে অবশ্যই শত্রু রাষ্ট্রের প্রয়োজন~

* মূলতঃ শত্রু রাষ্ট্রের অভাবে কাজী সাহেব এই সিরিজের বইয়ের কাহিনীর ধরনে কিছু পরিবর্তন আনেন, এই সময় তিনি "রানা এজেন্সি" নামক গোয়েন্দা সংস্থার আবির্ভাব ঘটিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হয়ে মাসুদ রানাকে গোপন মিশন পরিচালনায় কাজে লাগান কাজী সাহেব~

* ১৯৭৩ সালে নায়ক "সোহেল রানা" মাসুদ রানা সিরিজের বই "বিস্মরণ" অবলম্বনে নিজের পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যেটি ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায়।

* বাংলাদেশের প্যাকেজ নাটকের ইতিহাসে প্রথম নাটকটি নির্মিত হয়েছিল এই সিরিজের "পিশাচ দ্বীপ" নামক বইয়ের কাহিনী অবলম্বনে, নাটকটির নাম ছিল "প্রাচীর পেরিয়ে" এই নাটকে মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তখনকার অত্যন্ত জনপ্রিয় মডেল "নোবেল"।

*** অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে "জেমস বন্ড" কে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে এত এত ভালো সিনেমা নির্মিত হলেও, এমনকি পশ্চিমবঙ্গে ফেলুদা ব্যোমকেশ এর মত গোয়েন্দা কাহিনী নিয়ে অসংখ্য সিনেমা নির্মিত হলেও, আমাদের "মাসুদ রানাকে" নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ভালো সিনেমা নির্মিত হয়নি। 

এখনকার ইয়ং জেনারেশন মাসুদ রানা সিরিজের বই পড়ে কিনা আমার জানা নেই, আমাদের সময়কার মানুষদের মনের গহীনে মাসুদ রানা একজন বাংলাদেশি  

কাল্পনিক মহানায়ক, যার কোন সংস্কার নেই , আবার নেই কোন পিছুটান। যিনি দেশপ্রেমী কিন্তু জাতীয়তাবাদী নন। যিনি আবেগপ্রবণ কিন্তু ভাব নয়। যিনি প্রেমিক কিন্তু ছ্যাকা খাওয়া প্রেমিক নয়। যিনি শুধু বুদ্ধিমান নন বরং চিকন বুদ্ধির অধিকারী। যিনি শুধু সাহসী নন বরং দুর্দান্ত সাহসী। যিনি শুধুই গোয়েন্দা নন বরং বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স্ এর দুর্ধর্ষ স্পাই। তিনি আমাদের মহানায়ক "মাসুদ রানা" 

কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা: সদ্যপ্রয়াত কাজী আনোয়ার হোসেন

লেখক: মো: আজিজ মিশির সেলিম

সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি,

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...