Skip to main content

আওয়ামী_সরকার_ঘোষিত_বাংলাদেশে_বর্তমান_বাজেড_নিয়ে_বিরোধীদের_প্রতিক্রিয়ার_জবাব

 #আওয়ামী_সরকার_ঘোষিত_বাংলাদেশে_বর্তমান_বাজেড_নিয়ে_বিরোধীদের_প্রতিক্রিয়ার_জবাব~

যারা ৬ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের কথা শুনে উল্টাপাল্টা বকছেন অথবা তোতাপাখির মত শিখিয়ে দেয়া বুলি আওরাচ্ছেন ~ মিস্টার "পার্ক চুং হি" ও শেখ হাসিনা ওয়াজেদের একটা গল্পঃ শুনাই ~:

মিস্টার "পার্ক চুং হি" 1963 সালে কোরিয়া যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন, তিনি অনেকটা স্বৈরশাসক ছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন কোরিয়ার রাজধানী সিউলকে দেশের সব উল্লেখযোগ্য শহরের সাথে যুক্ত করবেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন এবং "গিয়ংবু এক্সপ্রেস ওয়ে"  নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমেই তিনি যুক্ত করতে চান দেশের প্রধান দুই শহর সিউল ও বুসানকে  । তখনকার সময় অত্যন্ত গরীব একটা দেশের এমন বিলাসবহুল প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন সে দেশের অধিকাংশ অর্থনীতিবীদ রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ মানুষও। বিশ্বব্যাংক-সহ বিভিন্ন দেশের কাছে হাত পেতেছিলেন, ও সাহায্যও চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যেকেই উনাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। গরীবের ঘোড়া~রোগ ধরেছে বলে অনেকে টিপ্পনী কেটেছিলেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চিন্তাও করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার রুগ্ন অর্থনীতিতে এবং নিজ-বলে এরকম একটি প্রকল্প করতে সক্ষম হবে। 1967 সাল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট বাজেটের 23.6% শতাংশ বরাদ্দ করা হলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে, 1968 সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হলো এই মহাযজ্ঞের কাজ, দুর্গম পথে বিরতিহীন অক্লান্ত পরিশ্রম চলতে থাকল, এগুতে লাগলো এই প্রকল্প, মাত্র 2 বছর 5 মাস শেষ হয় এই প্রকল্পের কাজ I প্রকল্পের প্রথম ফেজ ছিল 428 কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে, 29টি বড় ব্রিজ,12 টি টানেল এবং 19 ইন্টারচেঞ্জ ছিল এই মহাসড়কে। এই মহা সড়ক নির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন 89 লক্ষ মানুষ(দেশপ্রেম থেকে অনেকেই নিজ উদ্যোগে নামমাত্র পারিশ্রমিক বা বিনা পারিশ্রমিকে) প্রায় 16 লক্ষ 50 হাজার কনস্ট্রাকশন এর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছিলল। তারপরও সেই আমলে খরচ হয়েছিল প্রায় 35 মিলিয়ন ডলার যা এখনকার সময়ে বিলিয়ন ডলার এর সমান। কাজ করতে গিয়ে  প্রাণ হারান 77 জন, আহত হন অসংখ্য । অবশেষে 1970 সালে উদ্বোধন করা হয় এই মহাযজ্ঞের। কে পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে ??  দেশটির প্রায় 63 শতাংশ জনগণ এর মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা পায়, গড়ে ওঠে শতশত শিল্প-কারখানা এই রাস্তাকে ঘিরে, যার 81% এই রাস্তার আশপাশে । দক্ষিণ কোরিয়া পরিণত হয় সারা বিশ্বের অন্যতম কনস্ট্রাকশন হাবে। এই একটি রাস্তাই পুরো কোরিয়ান জাতির মনোবল চূড়ায় পৌঁছে দেয় -- কোরিয়ানরা বলতে শেখে~[ আমরা পারবো ] 

হুন্দাই কোম্পানিকে চেনেন না এমন লোক খুব কম আছে, এ কোম্পানির যাত্রা শুরু হয় এই মহা সড়ক নির্মাণের কাজে যুক্ত থেকে, এরপর স্যামসাং, দেয়ু , কিয়া --- বাকি কাহিনী আমরা প্রায় সবাই জানি।

               এবার আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে, বিশ্বব্যাংকের নাটকের পর, পদ্মাসেতু যখন আমরা (৯৫% হাসিনা + ৫% বাকি জনগণের মনোবল) করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তখন বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ আমাদেরকে তাচ্ছিল্য করেছে, ফিরিয়ে দিয়েছে । তারা কখনও ভাবেনি হাসিনা/বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এরকম বৃহৎ প্রকল্প করতে পারবে। নিজদেশের অনেককে বলতে শুনেছি " হাসিনার ঘোড়া রোগ ধরেছে " বলতে। অবশ্য অতীত আমাদের এরকমই ভাবতে বাধ্য করেছিল। সামান্য 5 টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলেও যে দেশকে বহির্বিশ্বে'র কাছে হাত পাততে হতো , সেদেশের মানুষ আমরা কিই বা আর ভাবতে পারতাম তখন ? দেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ মানুষ বলেছিল এটা সম্ভব না, হবেনা, বিলাসী প্রকল্প । আজকেও এক সুন্দরী নেত্রীকে ৬ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে অনুরূপ কথা বলতে দেখলাম বা শুনলাম, অথচ উপস্থিত সাংবাদিক দের মধ্যহতে যদি কেউ উনাকে বাজেট বানানটি ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করতো? তাহলে হয়তো এধরনের তোতাপাখির বুলি আওড়ানোর গোমর ফাঁস হয়ে যেত। যাইহোক শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছা ও মানসিকতার কারণেই আমরা নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুতে হাত দিয়েছি এবং বাস্তবায়নও করেছি। 

এই সেতু চালু হওয়ার আগেই শুধু নির্মাণ সফলতায় আমাদের দেশের অনেক কিছুই বদলে গেছে। আগে বিশ্বব্যাংক, এডিবি-সহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পিছনে পিছনে আমাদের দৌড়াতে হতো,  এখন ওরা টাকার থলে নিয়ে আমাদের পিছনে দৌড়ায়। আগে ওরা শর্তের পর শর্ত দিত টাকার প্রসঙ্গ তোলার আগেই, এখন আমরাই শর্তারোপ করি। এখন সরকারের শুধু মুখদিয়ে কোন প্রকল্পের কথা বলা বাকি~- অমনি টাকা হতে দাড়িয়ে যান একাধিক সংস্থা বা দেশ। কোন কোন দেশতো অবার নিজ দেশে বসে আমাদের জন্য প্রকল্প তৈরি করে, নিজেরাই বাজেট ঠিক করে, সরকার বা হাসিনার পিছনে ঘুরতে থাকেন। অথচ পদ্মাসেতুর অর্থের জন্য এদের কতজনের কাছেই না হাত পাততে হয়েছিল, কেউ ৮% কেউ ১০% সুদ চেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল --- অনেকটা ঢাকার কিছু CNG অটোর মত, যেতে ইচ্ছে না করলে নিষেধ করবে না ,কিন্তু ৩ গুণ ভাড়া হাকিয়ে আরেকদিক মুখ করে তাকায় থাকে --- ঠিক এমনটাই করেছিল অনেকদেশ আমাদের সাথে। 

ওই মহিলা নেত্রীদের কেউ কেউ, যারা শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করেন, তোতা পাখির মত শেখানো বুলি আওড়ান, তারা হয়তো বলতে পারেন-লোন করে-ধার করে-পরের টাকায় এসব বানানোর দরকার কি ? তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি~ বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের ঐরকম দু-একটা দেশের মধ্যে একটা, যারা সময়ের আগে লাভ সহ লগ্নি-কারকের অর্থ ফেরত দেয়। আজকের ঢাকার সাথে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ ইত্যাদি বঙ্গের সংযোগ এসপ্রেসওয়ে গুলো তৈরি হচ্ছে, হালকা-মাজরী ও গভীর ইত্যাদি সমুদ্র বন্দর গুলো তৈরিহচ্ছে, মেট্রো/ফেট্রো আরও কত কি ? এসবই ওই একটা সিদ্ধান্ত, ওই একটা সেতু, ওই একটা নিজস্ব অর্থায়নে বিলাসী প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহসিকতার ফলাফল। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে আমরা মিস্টার "পার্ক ছুং হি " এর কোরিয়ার পথেই মিসেস হাসিনা ওয়াজেদ এর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি।  জানি এধরনের উন্নয়নের কথায় অনেকেই বিরক্ত হবে,  কিন্তু বাস্তব সত্য হল ~এই বিরক্ত হওয়া ব্যক্তিরাও এই কর্মযজ্ঞের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, তারাও এর সুবিধা ভোগ করছে এবং করবে।

আবার, এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নেতৃত্বের আবির্ভাব যুগে- যুগে, জাতিতে-জাতিতে সব সময় ঘটে না। 

ধন্যবাদ মিস্টার "পার্ক চুং হি" এবং মিসেস "শেখ হাসিনা ওয়াজেদ"।

লেখক: মো: আজিজ মিশির সেলিম

সাবেক CUET ছাত্রলীগ সভাপতি।

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...