Skip to main content

"বেকুবের পোলা ইয়াকুব" মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি,

 ~খোলা চিঠি~

"বেকুবের পোলা ইয়াকুব"

মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি,

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট  ।

ইহুদি পরিবারে জন্ম আপনার অর্থাৎ আপনি একজন ইহুদী অর্থাৎ বর্তমান পৃথিবীর অতি ক্ষুদ্র, কিন্তু অতি তীক্ষ্ণ ও ক্ষুরধার কটু-বুদ্ধি সম্পন্ন জাতির একজন গর্বিত সদস্য আপনি, যারা সামনে থেকে নয় বরং পিছন থেকে বিশ্বরাজনীতি ও সমরণীতি নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে যুগের পর যুগ থেকে। এছাড়াও আপনি একজন আইনের ছাত্র। তারপরও কেন আপনাকে বেকুবের পোলা ইয়াকুব বললাম, তা পুরো চিঠি না পড়লে বুঝতে পারবেন না, প্লিজ চিঠিটি পুরোটাই পড়বেন, প্লিজ।


আপনি কি জানেন না NATO গঠনের ইতিহাস ? আপনি কি জানেন না NATO এর কার্যক্রম ও উদ্যেশ্য ? তাইলে শোনেন~


উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো (ইংরেজি: North Atlantic Treaty Organisation বা NATO); ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত একটি সামরিক সহযোগিতার জোট। এই জোটভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।


শুরুতে জার্মানি ন্যাটো'র সদস্যভুক্ত ছিল না; ন্যাটোর প্রথম মহাসচিব ছিলেন "লর্ড ইসমে'।  ১৯৪৯ সালে উনার একটি উক্তির মাধ্যমে ন্যাটো গঠনের শুরুর দিকের উদ্যেশ্য সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা পাওয়া যায়। 

সে সময় উনি বলেন যে ~ ~ "এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হল রাশিয়ানদের দূরে রাখা, আমেরিকানদের কাছে আনা এবং জার্মানদের দাবিয়ে রাখা"।

         পরবর্তীতে ৬ মে ১৯৫৫: সালে জার্মানির ন্যাটো-তে যোগদানের মাধ্যমে এই সামরিক জোটের উদ্যেশ্য শুধুমাত্র রাশিয়া বিরোধিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। জার্মান বিরোধিতা ন্যাটোর উদ্যেশ্য থেকে বাদ পড়ে যায়। 

* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, এসব কাহিনী কি আপনার অজানা ? যদি অজানা হয়ে থাকে তো আরেকটু জেনে নিন~

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী দুই পরাশক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একদিকে পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। সমগ্র বিশ্বে সেসময় সন্দেহ, অনিশ্চয়তা ও অনিরাপত্তার প্রভাব বাড়তে থাকে। দেশে-দেশে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই । ক্ষমতার এ আগ্রাসন আরও জোরদার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে গড়ে ওঠে পশ্চিমা সামরিক সংগঠন ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন)। 

মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিহত করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন গঠিত হয়। এটি ওয়াশিংটন ট্রিটি নামেও পরিচিত। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল'সে অবস্থিত। সোভিয়েত ইউনিয়নে'র আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহের স্বাধীন-অখন্ডতা বজায় রাখা ছিল ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য। 


চুক্তিটির ৫ম আর্টিকেলে;র মূলনীতি'তে বলা হয়েছে~

      “ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সংগঠনটির সদস্য দেশ বা দেশসমূহের উপর অন্য কোন দেশ (অর্থাৎ রাশিয়া) সামরিক হামলা করলে তা সংগঠনের সকল সদস্যের উপর হামলা বলে বিবেচিত হবে"।

এ জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন রাষ্ট্রসমূহ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেন, ক্যানাডা, নেদারল্যান্ডস, ইটালি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, লুক্সেমবুর্গ, নরওয়ে ও পর্তুগাল ।

* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি ? আপনি নিশ্চয় জানেন ?এর পরিপ্রেক্ষিতে সোভিয়েত রাশিয়ার বসে থাকার কথা নয় ~

কাজেই ১৪ মে ১৯৫৫: পশ্চিমি প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটো"র বিপরীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন গড়ে তোলে "ওয়ারস জোট"৷ সঙ্গী ~ আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (জিডিআর), পোল্যান্ড, রুমেনিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া আর হাঙ্গেরি৷


* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি ? যে সামরিক জোটের উৎপত্তি হয়েছিল শীতল যুদ্ধ বা সোভিয়েত রাশিয়াকে কেন্দ্র করে, নিয়ম মোতাবেক সোভিয়েত ইউনয়ন ভেঙ্গে যাবার পর তো সে জোটের আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকার কথা নয় ?

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার কারণে~

১জুলাই ১৯৯১: ওয়ারস জোটের আনুষ্ঠানিক অবলুপ্তি ঘটলেও ন্যাটো জোটের কিন্তু অবলুপ্তি ঘটে নি ? উল্টো তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ন্যাটোর বিলুপ্তি না ঘটিয়ে সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করেন। শিয়াল যেমন মুরগি ধরে আর গিলে খায়; তেমনই করে ক্লিনটন সাহেব সদ্যবিলুপ্ত সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র গুলোকে  স্বাধীন ঘোষণা করে ন্যাটোর ঝুলিতে পুড়তে শুরু করেন~ সেসময় অর্ধমৃত রাশিয়ার চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিই বা করার ছিল ? 

* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, আপনার তখন বয়সে অল্প হলেও নিশ্চয় বিষয়গুলি অজানা নয় ?

জর্জিয়া ও আপনার দেশ ইউক্রেনসহ গুটিকয়েক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র-ই শুধুমাত্র আমেরিকার এই আগ্রাসন থেকে মুক্ত ছিল, যারা কি না রাশিয়ার একদম সীমান্তঘেঁষা সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ? 


ইত্যবস'রে ন্যাটো বাহিনীর ছত্রছায়ায় আপনি নিশ্চয় আফগানিস্থান, ইরাক, লিবিয়া ও যুগোস্লাভিয়া বা সর্বিয়ায় মার্কিনীদের তান্ডপ দেখেছেন ? 

রাশিয়া'র পক্ষথেকে আপনার ইউক্রেন আক্রমণে'র তো একটা কারণ আছে (ন্যাটো তে যোগদানের ইচ্ছে), কিন্তু ন্যাটো যে ইরাকে আক্রমণ চালিয়েছিল ডাহা মিথ্যার উপর ? সেটি জানেন তো ?


জা-নি-না~ মার্কিনীদের এসব তান্ডপের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে জর্জিয়া ও আপনার দেশ তথা আপনি মার্কিনীদের এই ভয়ংকর জোটে যোগদান করতে উৎসাহিত হলেন কি না ?

যাই হোক, এই সময়ের মধ্যে অর্ধমৃত রাশিয়া ডা: পুতিনে'র সেবা-শুশ্রুষা'য় কিছুটা সুস্থ হয়ে জর্জিয়াতে আগ্রাসন/অপারেশন চালিয়ে ন্যাটো জোটে যোগদানে'র খায়েশ কিছুটা মিটিয়ে দিয়েছেন, যা আপনার অজানা নয়। এরপরও আপনি আপনার দেশকে ন্যাটো জোটে জোটভুক্ত করার জন্যে আদা-জল খেয়ে নেমে পড়লেন, কিন্তু কেন ? 

আপনারও যদি ওদের মত তাফালিং করতে মন চায়, তো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর কয়েক হাজার পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়েও তা নিষ্ক্রিয় করলেন কেন ? যদি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে পারমাণবিক বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে থাকেন, তাহলে এখন আবার ঐ তাফালিং জোটে (NATO) যোগদানের এত খায়েশ কেন ? সুইজারল্যান্ড তো কোন তাফালিং জোটে নেই, সেকারণে কি তাদের কোন ক্ষতি কেউ কখনো করেছে ? একমাত্র জোট নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সুইজারল্যান্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও নিজেকে যুদ্ধ থেকে দূরে রেখেছিল, কৈ তাদের তো সোভিয়েত রাশিয়া বা আমেরিকা কেউই ঘাটাঘাটি করতে যায় নি ? সত্যিকারের ভালো বা শান্তিপ্রিয় মানুষদের কেউ কিছু বলে না, তাদের ভালো থাকতে কোন জোট বা দল বা বড়ভাই'য়ের দরকার পড়ে না।


* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, আপনি নিশ্চয় জানেন ? শীতল যুদ্ধকালীন সময়ে আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে প্রায় ৭০ হাজার পারমাণবিক বোমার মজুত ছিল। শীতল যুদ্ধোত্তর সময়ে উভয়দেশ তা কমিয়ে আনলেও এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পরমাণুবোমা আছে ৬ হাজার ৮শ' এবং রাশিয়ার কাছে আছে ৭ হাজার পরমাণু বোমা। এছাড়াও ফ্রান্সের ৩শ', যুক্তরাজ্যের ২১৫, চীনের ২৭০ (অনেকের মতে তা বর্তমানে ১০০০), ভারতের ১৩০, পাকিস্তানের ১৪০, ইসরায়েলের ৮০, আর উত্তর কোরিয়ার আছে ২০টি ।

এসব দেশে এখন শত শত পারমাণবিক বোমা বসানো-ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা আছে । এই মুহূর্তে সারাবিশ্বে অন্তত ১৮০০ পরমাণু বোমা ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় বসানো অবস্থায় সজ্জিত আছে, যেগুলো খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে নিক্ষেপ করা যাবে, যার মধ্যে অধিকাংশই আমেরিকা ও রাশিয়া পরস্পরের দিকে তাক করে রেখেছে ।

এছাড়াও আমেরিকা ন্যাটো জোটের আওতায়  বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, এবং তুরস্কে - প্রায় ১৫০ টির উপর পারমাণবিক বোমা ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় এমনভাবে সেট করে সার্বক্ষণিক ভাবে প্রস্তুত রেখেছে, যা নির্দেশ পাওয়ামাত্রই যেকোন সময় শত্রু রাষ্ট্রের দিকে অর্থাৎ রাশিয়ার দিকে ছুটে যাবে। ~

* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, এসব কি আপনার অজানা? 

এই যখন রাশিয়া, আমেরিকা সহ সরা বিশ্বের রণপ্রস্তুতি ? তখন  রাশিয়ার সীমান্তবর্তী আপনার দেশকে যদি আপনি ন্যাটোভুক্ত করার উদ্যোগ নেন ? আর ন্যাটো যদি আপনার দেশকে তাদের সদস্যভুক্ত করে নিয়ে~ বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, এবং তুরস্কে'র মত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়; তখন কি রাশিয়া বসে থেকে আঙ্গুল চুষবে আর দেখবে ? 

আপনার জেদের কারণে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া কি আপনাকে আগাম বার্তা দেয় নি ? ক্রিমিয়া দখলের সময় কি আপনি দেখেন নি? ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি শুধু উস্কানি দেয়া ব্যতিরেকে কি আপনার দেশের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল ? এরপরও আপনার গোয়ার্তুমি আর বেকুবি'র কারণে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষজনকে খেসারত দিতে হচ্ছে, পুরো বিশ্ববাসীকে খেসারত দিতে হচ্ছে । এতদিন যারা আপনাকে উৎসাহ দিল, তারা কি সরাসরি আপনাকে সহায়তা করতে এসেছে ? এরপরও এখনও আপনি ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের খায়েশের বুলি আওড়ায়-ই যাচ্ছেন ?  ঐদিকে কারও মতে ৬৫ কি: মি: কারও মতে ৪০ কি: মি: লম্বা রাশিয়ান যুদ্ধাস্ত্র এর বহর আপনার দেশের রাজধানীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে/আসছে; এখনও আপনি NATO/ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর দিকে তাকিয়ে আছেন ? এখন আপনিই বলুন আপনাকে কি বলা উচিৎ? 

বেকুবের পোলা ইয়াকুব বলাটা কি অন্যায় হয়েছে আপনাকে ???

* মি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, আপনি বুঝতে পারছেন কি না ? জানিনা ? তবে আমি যতটুকু জানি তা হলো~ রাশিয়া একটু সময় নিয়ে প্রস্তুতি সহকারে আপনাকে-সহ আপনার দেশের রাজধানীকে এমন ভাবে গুড়িয়ে দিবে, যা এযাবৎ কালে কোন যুদ্ধে কখনো ঘটে নি, একারণে কিয়েভ থেকে লোকজনকে রাশিয়া নিজেই সরে যেতে বলছে~

কারণ ন্যাটো নিয়ে ছোটখাটো যুদ্ধ বা আক্রমণ (জর্জিয়া ও ক্রিমিয়া) করে রাশিয়া বুঝতে পেরেছে আপনাদের শিক্ষার জন্য এমন কিছু দরকার ~ যাতে ঘুমের ঘোরে বাচ্চারা যেভাবে ভয়ে চিল্লায় ওঠে ?~ আপনাদের মত বেকুব রাষ্ট্রনায়ক-গণও যেন তেমনই ভয়ে সার্বক্ষণিক ভীত থাকে, যেনো স্বপ্নেও কোনদিন ন্যাটো তে যোগদানের ইচ্ছেপোষণ না করে ?


সময় আছে , এখনই বলে দেন~ আমরা আর কোন জোটে জোটবদ্ধ হতে চাই না। নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের মত জীবনযাপন করতে চাই। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন~ দেখবেন সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...