Skip to main content

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতি রাশিয়া'র অকৃত্রিম ভালোবাসার ইতিহাস~

 বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতি রাশিয়া'র অকৃত্রিম  ভালোবাসার ইতিহাস~

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথ্য রাশিয়া'র ভারত ও বাংলাদেশে'র পাশে দাড়ানো'র পিছনের কাহিনী~


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্য-সহ দক্ষিণ এশিয়া'য় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সোভিয়েত-রাশিয়া আমেরিকার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। 

এর ফলে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত নেতা "লিওনিদ ব্রেজনেভ"; এই তিন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তাব করে। চীনকে এই নিরাপত্তা চুক্তি'র বাহিরে রাখার অজুহাতে পাকিস্তান চুক্তি'তে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 


কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে চীন সোভিয়েত রাশিয়া'র সাথে একযোগে কাজ করলেও; দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে'র ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়া'কে এড়িয়ে চলতে থাকে চীন এবং ভারত বিরোধী পাকিস্তান'কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। কারণ সীমান্ত নিয়ে বিরোধে'র জেরে ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক কোন কালেই ভালো ছিল না; ১৯৬২ সালে একবার এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়ে গিয়েছিল। 


এহেন পরিস্থিতি'তে আমেরিকা চীন'কে বন্ধু হিসাবে পেতে পাকিস্তান'কে ব্যবহার করতে শুরু করে। তৎকালীন পাকিস্তানী রাষ্ট্রপতি '"ইয়াহিয়া" অত্যন্ত গোপনীয়তা'র সাথে চীন এবং আমেরিকা'র সম্পর্ক উন্নয়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। অতঃপর ১৯৭১ এর মাঝামাঝি কোন এক সময় অত্যন্ত গোপনীয়তা'র সাথে 'হেনরি কিসিঞ্জার' চীন সফর করেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া'র রাজনীতি'তে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। 


ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী 'ইন্দিরা গান্ধী' ধরেই নেন যে, চীন-পাকিস্তান এবং আমেরিকা'র বন্ধুত্ব পাকিস্তান'কে নিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি তিনি বিশ্বাস করতেন যে, চীন পাকিস্তান'কে সাথে নিয়ে ভারতকে পুনরায় আক্রমণ করে বসবে। 


অন্যদিকে কিসিঞ্জারে'র গোপনে চীন সফর'কে কেন্দ্র করে সোভিয়েত রাশিয়াও পাকিস্তান ও চীনে'র ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শুরু থেকেই 'ইন্দিরা গান্ধী' পাকিস্তান বিভক্তি এবং বাংলাদেশে'র স্বাধীনতা'র পক্ষে থাকলেও সোভিয়েত নেতা 'লিওনেদ ব্রেজনেভ' পাকিস্তানে'র বিভক্তির পক্ষে ছিলেন না; 

বরং পাকিস্তানে'র সরকার পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু'র নেতৃত্বে আওয়ামী সরকার'কে ক্ষমতায়ন করে পাকিস্তান'কে তার প্রভাব বলয়ে'র মধ্যে এনে ১৯৬৯ সালে প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তবায়নে'র পক্ষে ছিলেন 'লিওনেদ ব্রেজনেভ' তথা সোভিয়েত রাশিয়া। 


কিন্তু মার্চ;১৯৭১ হতে বাংলাদেশে'র উপর পাকিস্তানে'র বর্বরোচিত হামলা এবং চীন ও আমেরিকা'র ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া'কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এহেন পরিস্থিতিতে জুন/জুলাইয়ে'র দিকে মার্কিন মন্ত্রী কিসিঞ্জার যখন পাকিস্তান ও চীন সফরে'র পর ওয়াশিংটনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত'কে ডেকে জানিয়ে দেন যে, "ভারত যদি সরাসরি পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে চীন পাকিস্তানের সঙ্গীহয়ে ভারত আক্রমণ করবে"।  


এ ঘোষণায় সোভিয়েত রাশিয়া অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে।


মূলতঃ সোভিয়েত রাশিয়া'র প্রভাব বলয় থেকে চীনে'র দূরে সরে যাওয়ায় এবং  আমেরিকা'র ঘনিষ্ঠ হওয়া'য়; আমেরিকা'র প্ররোচনা ও সমর্থনে চীন ও পাকিস্তানে'র যৌথ আক্রমণে ভারত খন্ড বিখন্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সেসময় অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। 


এই পরিস্থিতিতে মস্কো'তে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত "ভিপি ধরে'র কূটনৈতিক দক্ষতায় ১৯৬৯ সালে সোভিয়েত কর্তৃক প্রস্তাবিত চার দেশীয় ( ভারত, পাকিস্তান,আফগানিস্থান ও সোভিয়েত রাশিয়া) "নিরাপত্তা চুক্তি"কে পরিবর্তন করে  ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক "মৈত্রী চুক্তি'তে আবদ্ধ হতে সম্মত করায়। 


এই চুক্তিকে শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি বলা হলেও এটি আসলে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি। চুক্তিটি এতই গোপনীয়তা'র সাথে করা হয়েছিল যে, ৯ আগস্ট; ১৯৭১ এ এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমেরিকা, চীন, পাকিস্তান এমনকি ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও এমপি-মন্ত্রীরাও বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি। 


আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তার "হোয়াইট হাউস ইয়ার্স " বইয় লিখেছেন, চুক্তিটি ছিলো তাদের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরিত হওয়া কোন বোমার মত, যা সম্পর্কে আমরা আগে আঁচ করতে পারিনি।


*** যাইহোক; ইন্দিরা গান্ধী'র কূটনৈতিক দক্ষতায় মার্কিন, চায়না ও পাকিস্তানের  সমস্ত গোয়েন্দা নজরদারী ফাঁকি দিয়ে ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে সম্পাদিত হওয়া "সোভিয়েত-ভারত" মৈত্রী চুক্তি যেন খেলার মাঠের সব হিসাবনিকাশ বদলে দেয় । কোন ধরনের পূর্বাভাস ব্যতিরেকে এই চুক্তি যেন পুরো বিশ্বকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে । পূর্ব জার্মানি সহ সোভিয়েত বলয়ের অনেক দেশই এই চুক্তির ফলে ভারত ও বাংলাদেশকে প্রকাশ্য সমর্থন দিতে শুরু  করে।


               হটাৎ করেই এই চুক্তি'র ফলে খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ 'ইন্দিরা গান্ধী'র হাতে চলে আসে, যে খেলার স্ট্রাইকার সোভিয়েত ইউনিয়ন । এখন কোন দেশ ইন্ডিয়া আক্রমণ করলেই সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়বে, অর্থাৎ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, যার পরিণতি অবশ্যম্ভাবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ । 


"ইন্দিরা গান্ধী" ও সোভিয়েত নেতা "ব্রেজনেভ" যে এমন একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে সেটি আঁচ করতে না পারাটা আমেরিকার জন্য ছিল চরম ব্যর্থতা । অনেক বিশ্বনেতা'দের মতে এই চুক্তির ফলেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল পুনরায় আরেকটি প্রক্সি যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয়; তথা পাকিস্তানের বিভক্তি; তথা বাংলাদেশের অভ্যুদয়। 


অনেকেই মনে করেন  ৯ই আগস্ট ১৯৭১ এ সাক্ষরিত হওয়া এই চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রথম পরাজয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে প্রথম বিজয়।


এই চুক্তি করেই যে ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া চুপচাপ বসে ছিলেন, তা কিন্তু নয়। এই চুক্তির পর চীন বা আমেরিকা থেকে সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমে যাওয়ায়, ভারত এসময় বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীকে অনেকটা প্রকাশ্যেই অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে সহায়তা করতে শুরু করে। 


*** তাছাড়া ভারতে'র সাথে মৈত্রী চুক্তি করেও  আমেরিকা ও চায়নাকে "সোভিয়েত ইউনিয়ন" কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। 

মূলতঃ একারণেই  মার্কিন ও চায়নার মিলিটারী ফোর্স ও নৌবাহিনী'র গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য; ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে "সোভিয়েত রাশিয়া" মহাকাশে একের পর এক তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে । 

পরবর্তীতে যে স্যাটেলাইট গুলি থেকে প্রতিদিন মার্কিন ও চায়না ফোর্সে'র (বিশেষ করে নৌবাহিনীর) গতিবিধি ইন্ডিয়াকে অবহিত করে যাচ্ছিল সোভিয়েত রাশিয়া। 


*** এখানেই শেষ নয়, সোভিয়েত রাশিয়া তাদের চীন সীমান্তে ৫৫ ব্যাটেলিয়ন সৈন্য (প্রায় ৫ লক্ষাধিক) এবং অসংখ্য ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান জমায়েত করেছিল; যার অর্থ ছিল চীন ইন্ডিয়া আক্রমণ করলে বা বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে , সোভিয়েত রাশিয়া চীন আক্রমণ করবে। যে কারণে আমেরিকা'র পীড়াপীড়ি ও সহযোগিতা সত্বেও চীনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বা ভারতে আক্রমণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি । 


উল্লেখ্য;  ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া মাত্র এক-লক্ষাধিক সৈন্য সমাবেশ করলেও, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে (ভারতকে রক্ষা করতে ও বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে) সোভিয়েত রাশিয়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক সৈন্যের সমাবেশ করেছিল চীন সীমান্তে।


এদিকে ইন্ডিয়ার আকাশ ও জলপথ ব্যবহার করতে না পারায় পশ্চিম পাকিস্তান তার পূর্বঅংশে কোনভাবেই যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সাপ্লাই করতে পারছিল না, ফলে পূর্ব পাকিস্তানে তাদের পরাজয় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে পাক-বাহিনী'র গণহত্যা এবং ভারতমুখী শরণার্থীদে'র ঢল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবে'র ভবিষ্যত ইত্যাদি বিষয় ইন্দিরাগন্ধি'কে বিচলিত করে তুলেছিল। এ কারণে 'ইন্দিরা গান্ধী' যেকোন মূল্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পাকিস্তানে'র পরাজয় দ্রুততর করতে মরিয়া হয়ে পড়েছিলেন। 


কিন্তু অধিকাংশ বিশ্বসম্প্রদায় পাকিস্তান মুখী হওয়ায় আগ বাড়িয়ে যুদ্ধে জড়ানোতেও দ্বিধায় ভুগছিলেন মিসেস গান্ধী ।


        *** এমনি প্রেক্ষাপটে ২৯৭১ এর ডিসেম্বরের ৩ তারিখে ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা, পাকিস্তান সেদিন ভুলভাল তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় ১১ টি এয়ারফিল্ডে বিমান আক্রমণ চালায়, পাকিস্তানের কাছে তথ্য ছিল এসব বিমান ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুদ্ধবিমান অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে এবং এক আক্রমণেই এইসব বিমানকে ধ্বংস করা সম্ভব। 


মূলতঃ সম্পূর্ণ তথ্যটি ছিল বোগাস বা মিথ্যা বা ভুলভাল তথ্য। অনেকেই মনে করেন, সেদিন ভারত তথা 'ইন্দিরা-গান্ধি'র ফাঁদে পা দিয়েছিল পাকিস্তান। 


আবার অনেকেই বলেন পাকিস্তান তথা আমেরিকার গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট এর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছিল।


       আবার অনেকেই মনেকরেন এটি স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা যুদ্ধে পাকিস্তান ও আমেরিকার দ্বিতীয় বারের মত পরাজয় । ভারত-সোভিয়েতে'র মৈত্রিচুক্তিটি ছিল তাদের প্রথম পরাজয়।


এসব মনে করার কারণ: "সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা"' বইতে 'জেনারেল জ্যাকব' লিখেছেন~

"ভারতীয় সেনাবাহিনীর চীফ অরোরা (জগজিৎ সিং অরোরা) সহ ভারতীয় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্তা ব্যক্তিগণ ৩-রা ডিসেম্বর পাকিস্তানে'র ভারত আক্রমণে ছিলেন খুবই উৎফুল্ল। অরোরা সাহেব তো তার এডিসি'কে মেস থেকে এক বোতল হুইস্কি আনার নির্দেশ দিহয়েছিলেন এই খবর শুনে যে~পাকিস্থান ভারতে সরাসরি আক্রমণ করেছে"। 


উল্লেখ্য ; এসময় কোন এয়ার ফিল্ডেই কোন ভারতীয় যুদ্ধ বিমান অরক্ষিত ছিল না এবং ১১ টি এয়ারফিল্ডে পাকিস্তানের এই সমন্বিত আক্রমণে ভারতের একটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কাজেই ভুল তথ্য বা ভুল আক্রমণ, যেটাই বলি না কেন ? এটা যে ইন্দিরা গান্ধী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী'র পাকিস্তানকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর একটি কৌশল বা নাটক ছিল, তা জেনারেল অরোরা ও অন্যান্য ভারতীয় অফিসার'দের আনন্দ উল্লাসের দ্বারাই প্রমাণিত হয়। 


এখন ভারতের সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে আর বিশ্ববাসী ভারতকে দোষারোপ করতে পারবে না। যথারীতি ঐদিনই ভারত ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে~


এর আগ পর্যন্ত ইন্ডিয়া আগবাড়িয়ে সরাসরি পাকিস্থানের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়াতে দ্বিধান্বিত ছিল, কারণ সমস্ত বিশ্বই পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। কিন্তু ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্থান নিজেই সরাসরি ভারতকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে; অনেকের মতেই এটা ছিল পাকিস্তানের পরাজয়ের দ্বিতীয় পদক্ষেপ ।


*** ঠিক এসময়ই Indira Gandhi বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র গুলোতে কূটনৈতিক সফর করা শুরু করেন, এ সফরের মূল উদ্যেশ্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া অমানবিক গণহত্যা, ভারতে আশ্রয় নেয়া কোটি শরণার্থীদের দুর্দশা ও ভারতের অবস্থা এবং ভারতের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিকতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বুঝিয়ে বলা ।


এ ছফরে আমেরিকা'র অবস্থানে'র পরিবর্তন না হলেও, ফ্রান্স ও জার্মানি'র অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছিল, পরবর্তীতে আমেরিকা'র দুই দুইবার যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে ফ্রান্স ও জার্মানি ভোট দানে বিরত থেকে পরোক্ষভাবে সোভিয়েত তথা ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের পক্ষই অবস্থান  নিয়েছিল। 


ঠিক অনেকটা বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধে চীন, ভারত, বাংলদেশ, আরব আমিরাত সহ ৩৫ টি দেশের ভোট দানে বিরত থেকে অনেকটাই রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন এর মতো। 


এটাকেও মার্কিনীদের ৩ নম্বর পরোক্ষ পরাজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে।


এসময় ভারতীয় বিমান বাহিনী, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বিত আক্রমণে পাকবাহিনীর পরাজয় যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে এবং উল্টো স্বাধীন জম্মু/কাশ্মীর পাকিস্থানে'র হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে~ ধরে নিয়ে, আমেরিকা'র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে (সপ্তম নৌবহর দ্বারা) পড়ার শঙ্কা দেখা দেয় । 


বিশেষ করে কিসিঞ্জার পশ্চিম পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। 


√√ ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে একটি স্বাধীনত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। "হেনরি কিসিঞ্জার" লিখেছেন, 'ইন্দিরা গান্ধী'র দেয়া সেই স্বীকৃতির ফলে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার সব সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।


আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তার 'হোয়াইট হাউস ইয়ারস' বইয়ে লিখেছেন, শুধু পূর্ব পাকিস্তান নয়, বরং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর'কে পাকিস্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। 


তাছাড়া কিসিঞ্জার মনে করতেন যে, একই সঙ্গে পূর্বপাকিস্তান ও কাশ্মীর হারালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র বিশ্বে টিকে থাকতে পারবে না।


√√ এহেন পরিস্থিতিতে সোভিয়েত রাশিয়া ভারত'কে যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে আনতে বলে, অন্তত যুদ্ধকে আরও কিছুদিন দীর্ঘায়িত করতে বলে, কারণ ভারতের নৌবাহিনীর এমন কোন সক্ষমতা ছিল না, যা দিয়ে ভারত আমেরিকার সপ্তম নৌবহরকে পরাভূত করতে পারে~ সেক্ষেত্রে সোভিয়েত নৌবাহিনীকে দায়িত্ব নিতে হবে, কিন্তু সোভিয়েত নৌ-বাহিনীকে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে বেশ কিছুদিন সময়ের প্রয়োজন ছিল সেসময়। পক্ষান্তরে জাপানি নৌঘাঁটিতে অবস্থান রত মার্কিন সপ্তম নৌবহর মাত্র কয়েকদিনেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে সক্ষম ছিল সেসময়। 


√√ যথারীতি ইন্ডিয়া পূর্ব পাকিস্তানে আক্রমণের গতি কমিয়ে দিয়ে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত পাকিস্তানী ছোট আকৃতির জাহাজগুলি ধ্বংসের দিকে মনোনিবেশ করে, যাতে এসময়ের মধ্যে মার্কিন সপ্তম নৌবহর এসে পৌঁছলেও পাকিস্তানী ছোট ছোট জাহাজ গুলি মার্কিন বড় জাহাজ গুলি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ খালাস করতে না পারে। 


√√ এসময় জতিসংঘে আমেরিকার যেকোন প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো না-দিয়ে বা বিরোধিতা না-করে, সোভিয়েত রাশিয়া'র পক্ষহতে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে; কাল-ক্ষেপণ এর নির্দেশ দেয়া হয় জাতিসংঘে'র ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি "অমর সেন" এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে'র স্থায়ী প্রতিনিধি "ইয়াকফ মালিক" কে । 


√√ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠায়।


যথারীতি যুদ্ধবিরতি'র সেই প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়নে'র স্থায়ী প্রতিনিধি "ইয়াকফ মালিক" (কালক্ষেপণের জন্য) বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন'কে আলোচনায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে বলে বিতর্কের সৃষ্টি করে । পাকিস্তান ও চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তি তর্ক উত্থাপন করতে থাকে, পরদিন  নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবিত এই বিতর্কে সবচেয়ে তির্যক মন্তব্যটি করেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি 'সমর সেন'~ 


বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে বিতর্কে অংশগ্রহণের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘"বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে এই প্রশ্নে আলোচনা হবে, প্রিন্স অব ডেনমার্ককে বাদ দিয়ে হ্যামলেট নাটকের মঞ্চায়ন এর মতই।’" এভাবেই বিতর্কে বিতর্কে কাল ক্ষেপণ চলতে থাকে~


√√ ৮ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়। কিন্তু ভারত এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধ বিরতির কোন প্রস্তাব তারা মানবে না।


নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের পক্ষে ১০৪টি ভোট পড়েছিল এবং বিপক্ষে ছিল ১১টি ভোট।


√√  ৯ই ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের কৃষিমন্ত্রী "ভ্লাদিমির মাৎকেভিচ" ওয়াশিংটন সফরে যান।


এদিকে, আমেরিকার ক্রমাগত চাপের কারণে এক পর্যায়ে সোভিয়েত নেতা "লিওনিদ ব্রেজনেভ" একটি প্রস্তাব দেন আমেরিকা'র কাছে।


"হেনরি কিসিঞ্জারে'র বর্ণনা মতে, "ব্রেজনেভ" যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তার অন্যতম বিষয় ছিল, ২৫শে মার্চের আগে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে যে পর্যায় থেকে আলোচনা ভেঙ্গে দিয়েছিল, সেখান থেকেই পুনরায় আলোচনা শুরু করা।


√√  ১০ই ডিসেম্বর' 'ব্রেজনেভে'র পরামর্শের ভিত্তিতে  পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট "ইয়াহিয়া খানে'র সাথে আলোচনা করে আমেরিকা। এর ভিত্তিতে নতুন একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়।


তবে এই প্রস্তাবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি বাদ দেয়া হয়। পাকিস্তান এবং আমেরিকা চেয়েছিল আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা।


              ১০ই ডিসেম্বর সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী "হেনরি কিসিঞ্জার'  এই প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন সোভিয়েত দূতের কাছে। কিন্তু এরপর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।


√√ ১০ই ডিসেম্বর সন্ধ্যে ছয়টা নাগাদ নিউইয়র্কে সিআইএ'র একটি অফিসে বৈঠক করেন হেনরি কিসিঞ্জার এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত হুয়াং হুয়া।


ওই বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন যে পশ্চিম, পাকিস্তান যদি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যায়, তাহলে দুই দেশ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করবে।


√√  ১১ই ডিসেম্বর; নিউইয়র্কে পাকিস্তানে'র "জুলফিকার আলী ভুট্টো'র সাথে এক বৈঠক করেন 'হেনরি কিসিঞ্জার'। ওই বৈঠকে 'জুলফিকার আলী ভুট্টোকে মি. কিসিঞ্জার বলেন যে আমেরিকা পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চায়।


এজন্য চীনের সাথে একত্রিত হয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার জন্য মি. ভুট্টোকে পরামর্শ দেন মি. কিসিঞ্জার।


এই অবস্থায়~


√√  ১২ই ডিসেম্বর সকালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার এবং হোয়াইট হাউজ চীফ অব স্টাফ - এ তিনজন মিলে ওভাল অফিসে এক বৈঠকে বসেন।


তাদের বৈঠক চলার সময় সোভিয়েত ইউনিয়নে'র দূত ফোন করে বলেন, যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে এর আগে আমেরিকা যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সে ব্যাপারে রাশিয়ার উত্তর আসছে।


আরও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর "প্রেসিডেন্ট নিক্সন" হটলাইনে একটি বার্তা পাঠান সোভিয়েত ইউনিয়নে'র কাছে।


ওই বার্তায় বলা হয়, ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সোভিয়েতে'র কাছ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় ভারত-পাকিস্তান ইস্যুকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে যাবে আমেরিকা। সেখানে একবার সিদ্ধান্ত হলে সেটি পরিবর্তন করা যাবে না।


√√  এর মধ্যে রণতরীকে(৭ম-নৌবহর) বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করার জন্য নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট নিক্সন। "হেনরি কিসিঞ্জার' আবার সোভিয়েত দূতকে হটলাইনে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে বলেন, "সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।"


√√  ১২ই ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে হটলাইনে সোভিয়েত ইউনিয়নে'র উত্তর আসে আমেরিকার কাছে। ওই বার্তায় বলা হয়, "ভারত পশ্চিম পাকিস্তান আক্রমণ করবে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না"। 


আরও বলাহয়~


বিষয়টি নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন কয়েকবার ভারতের কাছে জানতে চেয়েছিল, কিন্তু কোন পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়নি।


√√ এরই মধ্যে মাল্লাক্কা প্রণালী পেরিয়ে মার্কিন রণতরী(৭ম নৌবহর)  বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে।


'ফরেন রিলেশন্স অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস, সাউথ এশিয়া ক্রাইসিস' শিরোনামে যেসব দলিল অবমুক্ত করার হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে~, 


√√ ১৪ই ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নে'র দূত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি নিয়ে আসেন হোয়াইট হাউজে'র চীফ অব স্টাফের কাছে।


সেই চিঠিতে বলা হয়, ভারতের কাছ থেকে এই মর্মে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে যে, পশ্চিম পাকিস্তানে আক্রমণ করার কোন পরিকল্পনা তাদের নেই।


তবে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারত হামলা করবে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায়নি।


এদিকে~


√√  ১৪ই ডিসেম্বর ফ্রান্স এবং ইতালি নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব তোলে। কিন্তু ওই প্রস্তাবে শুধু পশ্চিম পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল।


একই সাথে পোল্যান্ডের একটি খসড়া প্রস্তাবও আসে। 


√√ ১৫ই ডিসেম্বর পোল্যান্ডের এই খসড়া প্রস্তাবটি আলোচনায় আসে নিরাপত্তা পরিষদে।


এই প্রস্তাবের পেছনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন ছিল এবং ভারত 'অনিচ্ছাসত্ত্বেও' সেটি মেনে নিয়েছিল।


নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, যদি পাকিস্তানী সেনা প্রত্যাহার হয় এবং আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে আলোচনা হতে পারে।


এই প্রস্তাবের অন্যতম বিষয় ছিল - যুদ্ধবিরতি এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানী সেনা প্রত্যাহার করা। অর্থাৎ পাকিস্থান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্যুতি বা স্বাধীনতা।


এসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেও "যুদ্ধ নয়, রাজনৈতিক সমাধান" শিরণমে এক প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিশোধে উত্থাপন করে~


সোভিয়েতের এ প্রস্তাবে পাকিস্তান অনিচ্ছা সত্বেও আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়। 


√√ মূলতঃ ৬ই ডিসেম্বরের পর হতে সমস্ত উদ্যোগই ছিল  কাল-ক্ষেপণ বা যুদ্ধের সময় বৃদ্ধির জন্য সোভিয়েত রাশিয়ার কটুকৌশল, যাতে আমেরিকার ৭ম নৌবহর আসতে সময় নেয় এবং তার আগেই রাশিয়া'র পাঠানো নৌবহর বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে যেতে পারে~


উল্লেখ্য; ডিসেম্বর এর ১২ তারিখে নিক্সন ইয়াহিয়াকে জানিয়েছিল যে, সপ্তম নৌবহর তাদের সহায়তায় রওনা দিয়েছে।  ইয়াহিয়াসহ পাকিস্তানী মাথামোটা নেতৃবৃন্দ  এসংবাদে উল্লসিত হয়ে সোভিয়েতের রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাবনা'র উপর আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। ।


√√√  অনেকেই বলেন এটি ছিল পাকিস্তান এবং আমেরিকার জন্য চতুর্থ এবং শেষ পরাজয়।


* কারণ ততদিনে পরমাণু অস্ত্র বোঝাই তিনটি সোভিয়েত সাবমেরিন, অনেকের মতেই ৬টি সাবমেরিন ও ডেস্ট্রয়ার-সহ প্রায় ২৪/২৫ টি রণতরী বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে গেছে~


 * এর মধ্যেই মার্কিন সপ্তম নৌবহরও বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি মোড় নেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে~


* অবশেষে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সপ্তম নৌবহর পিছু হটতে বাধ্য হয়~ 


* আমেরিকার সর্বশেষ প্রক্সি যুদ্ধ জয়ের স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে~


* ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক পরাজয় স্বীকার করে নেয়~


 * পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয় এবং বাংলাদেশ নামক এক নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে বিশ্ব মানচিত্রে~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...