Skip to main content

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা

 পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তালাতালি, ঠেলাঠেলি, গুতাগুতি  ক্রমেই বেড়ে চলেছে~


বিষয়টি এখন শুধু রাশিয়া ইউক্রেন আর ন্যাটোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেলারুশ কেও যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রী সহ বেলারুশের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া বাইডেন, হিলারী ক্লিনটন সহ আমেরিকান ব্যক্তিবিশেষের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। 

অন্যদিকে ইউরোপের তিন দেশের প্রধানমন্ত্রীর ইউক্রেন সফরকে কেন্দ্র করে রাশিয়া কিয়েভে আক্রমণ জোরদার করেছে। 

আমেরিকা রাশিয়ার সাথে চীন কেও জড়িয়ে ফেলার পায়তারা করছে। 

অন্যদিকে রাশিয়া বা পুতিন খুবই ঠাণ্ডা মাথায় ধীরেসুস্থে একের পর এক ইউক্রেনের সিম-সাম সুন্দর শহর গুলি ধ্বংস করে চলেছে। 

সাধারণত যুদ্ধে যে কোন দেশের রাজধানীর পতন এবং সরকারের পতন কে উক্ত দেশের পতন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, এ কারণে যুদ্ধে সাধারণত রাজধানী আগে আক্রান্ত হয় এবং রাজধানীর পতন ঘটাতে যুদ্ধরত দেশ গুলি সর্বনিম্ন_সময়ে  সর্বোচ্চ_শক্তি প্রয়োগ করে।


 এক্ষেত্রে  পুতিন উল্টো পথের পথিক। প্রায় ১৪/১৫ দিন হয় রাজধানী অবরোধ করে, বসে বসে ইউক্রেনের অন্যান্য শহরগুলো ঠান্ডা মাথায় ধ্বংস করে চলেছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধে হার/জিত কোন বিষয় নয় পুতিনের কাছে, ইউক্রেনকে ধ্বংস করাই পুতিনের একমাত্র লক্ষ্য । 

অন্যদিকে আমেরিকা~ ইউক্রেন আক্রান্ত হওয়ার আগে রাশিয়াকে প্রতিনিয়ত ইউক্রেন আক্রমণে যেমন উস্কানি দিয়েছিল !!! এখন বেলারুশ ও চীনকে রাশিয়ার সাথে সহযোগী হতে অনুরূপ উস্কানি দিয়ে চলেছে~ 


নিষেধাজ্ঞার কারণে শুধু তেল-গ্যাস এবং কয়লার সমস্যা ও মূল্যবৃদ্ধি নয়;  WHO বলেছে নিষেধাজ্ঞার কারণে সারাবিশ্ব  খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হবে, বিশেষ করে ইউরোপ এবং আফ্রিকা কঠিন সংকটের সম্মুখীন হবে, কারণ তাদের প্রধান খাদ্য গম এবং রাশিয়া ও  ইউক্রেন মিলে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ গম উৎপাদন করে থাকে। যুদ্ধ শুরুর এই কয়েকদিনের মাথায় গম এবং আটার দাম সারাবিশ্বে প্রায় 40% শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ইউরোপ এবং আফ্রিকায় গম এবং গম জাতীয় খাদ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে, ফলশ্রুতিতে দেশে দেশে সন্ত্রাস বিদ্রোহ ও খাদ্য ঘাটতি চরম আকার ধারণ করবে। 


এহেন পরিস্থিতিতে ইউরোপ এবং আমেরিকার নাগরিক গণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা নিউক্লিয়ার যুদ্ধের আশঙ্কায় রেডিয়েশন বিরোধী ট্যাবলেট কিনে মজুদ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এক নিউইয়র্ক সিটিতে গত কয়েক দিনে প্রায় 15 মিলিয়ন রেডিয়েশন এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ট্যাবলেট বিক্রয় হয়েছে। 

বলা হচ্ছে এই ট্যাবলেট বাজারে আসা মাত্র নিমিষেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। 


এদিকে ন্যাটোর চুক্তির আওতায় জার্মানিতে আমেরিকার অনেকগুলি পারমানবিক বোমা মোতায়েন করা আছে, কিন্তু এই বোমা গুলি নিক্ষেপের জন্য উপযুক্ত বিমান জার্মানির কাছে না থাকায়,  তড়িঘড়ি করে জার্মানি আমেরিকার কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের উপযুক্ত বেশকিছু বিমান ক্রয় করতে যাচ্ছে। 

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যে ইউরোপ এবং আমেরিকা পারমাণবিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ~


তাহলে কি পারমাণবিক যুদ্ধ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন ?


আশার কথা হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ইউক্রেনকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ভুক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করা বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভুল ছিল। এখন এই ভুলের মাশুল শুধু ইউক্রেনকে দিতে হচ্ছে না, তাদেরকেও এই ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে।


 সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সুযোগ তৈরি হয়েছিল রাশিয়ার সাথে ইউরোপের সম্পর্কোন্নয়নের এমনকি বন্ধু রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার। সেই সুযোগ তো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো গ্রহণ করেই নি, বরং ইউক্রেন এবং জর্জিয়াকে ন্যাটোভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাশিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে । 


এরকম দ্ব্যর্থহীন স্বীকারোক্তি বিশ্ববাসীকে যেমন যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশার  আলো দেখাচ্ছে~

তেমনই পোল্যান্ড সহ ইউরোপের তিন দেশের প্রধানমন্ত্রীর ইউক্রেনে গিয়ে ভলদেমির জেলোনস্কির সাথে দেখা করার উদ্যোগ এবং জার্মানির পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ করার উপযুক্ত বিমান ক্রয়, ইউরোপ জুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের, তথা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।


আমরা তৃতীয় বিশ্বের শান্তিকামী দেশের শান্তিকামী জনগণ আশা করি~ 

বাইডেন, পুতিন ও ভো___  জেলোনস্কী সহ অপরাপর বিশ্বনেতাদের শীঘ্রই শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে রেহাই পাবে~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...