Skip to main content

রম্য রচনা ~প্রেক্ষাপট আমেরিকা ও রাশিয়ার দ্বন্দ্ব এবং সংঘাত

একটি রম্য রচনা 🤩 হাস্য রসাত্মক ছোট গল্প:

গল্পের নাম: "ব্লেড"

প্রেম/বিরহে জর্জরিত ও ঈমানদারী/বেইমানীতে ভরা, কয়েকটি পরিবারের প্রভাব/প্রতিপত্তি নির্ভর, নিদারুণ এক প্রেমের গল্পঃ এটি~

মূলতঃ দুই প্রেমিক ও অসংখ্য প্রেমিকা নির্ভর এই প্রেম কাহিনী। 

প্রেমিক যুগলের নাম দেয়া যেতে পারে "রাশিয়া" ও "আমেরিকা" এবং অসংখ্য প্রেমিকাদের মধ্যে অন্যতম জর্জিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, পোল্যান্ড, কানাডা সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


১৯৪৫ সাল পরবর্তী সময়ে সারাবিশ্বে দুই পরিবারের রাজত্ব শুরু হয়; 

একটি আমেরিকা কেন্দ্রিক পরিবার,যার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল ১২ জন, যার আরেক নাম ন্যাটো পরিবার।


দ্বিতীয়টি রাশিয়া কেন্দ্রিক পরিবার, যার সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫ জন, যার আরেক নাম সোভিয়েত পরিবার বা সোভিয়েত ইউনিয়ন।


প্রথম দিকে অর্থবিত্ত ও প্রভাব প্রতিপত্তিতে সোভিয়েত পরিবার এগিয়ে থাকলেও; সময়ের সাথে সাথে এবং অন্তর্কলহ ও দুর্নীতির কারণে সোভিয়েত পরিবারের অর্থ-বিত্ত, শান-শওকত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। 

পক্ষান্তরে সময়ের সাথে উল্টো গতিতে আমেরিকা পরিবারের সবকিছুই ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করে। 

অনেকটা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠে আমেরিকা পরিবার। 

ছোটলোক হটাৎ করে বড়লোক হয়ে গেলে যা হয়; 

হটাৎ টাকা-পয়সা'র মালিক হয়ে আমেরিকা পরিবারে'র ঠাট-বাট আর ফুটানি'তে সোভিয়েত পরিবার তো বটেই, পৃথিবীর অন্যান্য ছোটখাটো পরিবার গুলোর জীবনও অতিষ্ট হয়ে ওঠে। 


অন্যদিকে অভাবের সংসারে যা হয়, সোভিয়েত পরিবারে তাই শুরু হয়~

কলহ, বিবাদ ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায় সোভিয়েত পরিবারে। 

সেইসাথে চিরশত্রু আমেরিকার ফুটানি ও লোভে পড়ে সোভিয়েত পরিবারের তিন সদস্য পোল্যান্ড, বেলারুশ ও ইউক্রেন এর ষড়যন্ত্রে ১৯৯১ সালে পুরো সোভিয়েত পরিবার ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সোভিয়েত পরিবারের কর্তা ব্যক্তি "রাশিয়া" হতাশা ও দুঃখে শয্যাশায়ী একজন রুগ্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয় । 


রাশিয়ার এই দুর্দশা ও রুগ্নতার সুযোগ নেয় আমেরিকা। আমেরিকার পুরনো রাগ, জেদ ও ক্ষোভ গুলি প্রতিহিংসায় রূপ ন্যায় । 


উল্লেখ্য; অতীতে অনেক দ্বন্দ্বে এই রাশিয়ার কারণে আমেরিকাকে নাজেহাল হতে হয়েছিল, বলাযায় নাকে খত দিতে হয়েছিল। যেমন কোরিয়া দ্বন্দ্ব, ভিয়েতনাম দ্বন্দ্ব, বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব ইত্যাদি।


প্রতিহিংসা থেকে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে আমেরিকা। 

একদিকে ভেঙ্গে যাওয়া সোভিয়েত পরিবারের সদস্যদের ভুলিয়ে ভালিয়ে বা লোভ দেখিয়ে, নিজের পরিবারে যুক্ত করে নিজের পরিবারের সংখ্যা যেমন বাড়াতে বাড়াতে ১২ থেকে ৩০ (ন্যাটোর সদস্য বর্তমানে ৩০) এ উন্নীত করে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য ছোটখাটো পরিবার গুলোর উপরও অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে জুলুম ও অত্যাচার চালাতে শুরু করে। 

যেমন: ইরাক পরিবার, সিরিয়া পরিবার, লিবিয়া পরিবার ইত্যাদি।

এক কথায় পুরো পৃথিবী বা বিশ্ব একক কর্তৃত্বে এবং সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।


ঠিক এই পর্যায়ে ফিরে তাকাই সোভিয়েত পরিবারের দিকে~

সোভিয়েত পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার মুহূর্তে (১৯৯১ সালে)

কর্তাব্যক্তি রাশিয়া রুগ্ন ও দুর্বল থাকায় পোলান্ড সহ নিজের পরিবারের সদস্যদের বেইমানী করে আমেরিকা পরিবারের যুক্ত হওয়ার দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার না থাকলেও; সময়ের সাথে সাথে রাশিয়া ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে, অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে  অতীত জ্ঞান-গরিমা ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে নিজের শক্তিমত্তা বাড়াতে শুরু করে রাশিয়া।


এসময়ের মধ্যে রাশিয়া পরিবারের সহযোগী আরেক পরিবার, চীন হঠাৎ করেই আঙ্গুল ফুলে একেবারে কলাগাছ নয়; বরং বট-গাছে পরিণত হয়। 

এসময় আমেরিকা পরিবারের সাথে এই চীন পরিবারের অর্থ-বিত্ত,প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ঠাট-বাট এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। 

আমেরিকা পরিবারকে কাউন্টার দিতে এ সময় চীন পরিবার, তার পুরনো বড়-ভাই রাশিয়া পরিবারের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়। 

একটু সুস্থ হয়ে ওঠা রাশিয়া পরিবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি খর্ব করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। 

এ সময় আমেরিকা দ্বারা আক্রান্ত "সিরিয়া-পরিবারে" সরাসরি ঢুকে যায় রাশিয়া এবং আমেরিকার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে সফলও হয় রাশিয়া, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে। 


 এ সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেকে অনেকটাই প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা-পরিবার, অতঃপর  চীন-পরিবারকে সাইনবোর্ড বানিয়ে যেমন অস্ট্রেলিয়া কেন্দ্রিক পরিবারগুলির দিকে হাত বাড়ায়;  তেমনি সোভিয়েত পরিবারে'র বাকি থাকা দুই সদস্য জর্জিয়া ও ইউক্রেনকে নিজের পরিবারের যুক্ত করতে উঠে পড়ে লেগে যায় আমেরিকা-পরিবার বা ন্যাটো-পরিবার। 


বলা যায়; জর্জিয়া ও ইউক্রেনকে ব্যবহার করে আমেরিকা পরিবার পুনরায় রাশিয়া পরিবারকে রুগ্ন  ও শয্যাশায়ী করার এক মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেয় । 

        এই কারণে কটু চালে অভ্যস্ত আমেরিকা জর্জিয়া ও ইউক্রেনকে স্বয়নে/স্বপনে, বিপদে/অপদে, জাগরনে/মরনে এবং দুনিয়া/আখেরাতে একসঙ্গে থাকবে বলে কথা দেয়; অনেকটা বাংলা সিনেমায় ভিলেন'রা নায়িকাকে পটানোর জন্যে যেমন ভালো মানুষ সেজে নানান ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয় বা লোভ দেখায়, ঠিক তেমন-ই।


যথারীতি বাংলা সিনেমার মতোই জর্জিয়া ও ইউক্রেন আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ও লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। রাশিয়া যতই তাদেরকে বুঝাতে চায়, ততই তারা আমেরিকা আমেরিকা জপ করতে থাকে। তারা আমেরিকা পরিবার বা ন্যাটো পরিবারে যুক্ত হতে মরিয়া হয়ে উঠে ।


অনেকটা বাধ্য হয়েই ঘুরে দাঁড়ানো রাশিয়া জর্জিয়াকে একটা  ঠাটানি (আক্রমন) দেয়। 

যথারীতি আমেরিকা এ সময় জর্জিয়াকে বিপদের মুখে ফেলে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়।

বাস্তবতা হলো; জর্জিয়ার এই পরিণতি এবং আমেরিকার এই বেইমানী দেখে ইউক্রেনের শিক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও,  নির্বোধের মতো উল্টো  আমেরিকার সাথে যুক্ত হতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউক্রেন।


রাশিয়া ইউক্রেনকে যতই বোঝাতে থাকে যে, আমেরিকা তোমাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না, যেখানে আমি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে দাঁড়িয়েছি সেখানে আমেরিকা কিভাবে তোমাকে নিরাপত্তা দিতে আসবে আমার দোরগোড়ায় ? আমেরিকা তোমাকে যা যা বলছে সব মিথ্যা বলছে~


কিন্তু বিধি বাম, কে শোনে কার কথা ? 

ইউক্রেন শুধু আমেরিকা, আমেরিকা এবং ন্যাটো, ন্যাটো জব করতে শুরু করে। অনেকটা স্বয়নে/স্বপনে লাইলি যেমন মজনু/ মজনু জব করতো ? ঠিক তেমনই  ইউক্রেনও আমেরিকা আর ন্যাটো/ন্যাটো জব করতে থাকে।


ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হল। ব্যর্থ প্রেমিকের মতো রাশিয়া ক্ষিপ্ত ও পাগলপ্রায় হয়ে ইউক্রেনের উপর হামলে পড়লো~

যথারীতি আমেরিকা তার দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে নিরাপদ দুরুত্বে অবস্থান নিয়েছে, স্বয়নে/স্বপনে, বিপদে/অপদে, জাগরনে/মরনে এবং দুনিয়া/আখেরাতে একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি গুলো শিকেয় উঠেছে,।

আমেরিকা এখন চিল্লাচ্ছে তার পরিবার অর্থাৎ ন্যাটো পরিবারে কোন আঘাত করা হলে সাথে সাথে প্রতিঘাত করা হবে, ন্যাটো পরিবারের কোন সদস্যের উপর আঘাত আসলে আমেরিকা নিজে তাকে রক্ষার্থে এগিয়ে আসবে,,,,,ইত্যাদি ইত্যাদি,,,, 

সেরকম কিছু ঘটলে; আমেরিকা তাদের সাহায্যার্থেও কচু-টা এগিয়ে আসবে, যথারীতি তখনও নিরাপদ দুরূত্বে অবস্থান নিবে~ আর বলতে থাকবে আজকে ছেড়ে দিলাম, কাইলকা দেইখা লোমু~~~

কিন্তু এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, রাশিয়া একই অপরাধে জর্জিয়াকে যে পরিমাণ শাস্তি দিয়েছিল, ইউক্রেনকে তার চাইতে অনেক বেশি শাস্তি দিচ্ছে ~

বলা যায়,  ইউক্রেনকে একটা ধমক বা ঠাটানি দিয়ে নিজের বশে আনার সক্ষমতা রাশিয়ার থাকলেও; রাশিয়া তা না করে বরং ইউক্রেনকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে বা ধ্বংস করে দিচ্ছে, ইউক্রেনের সমস্ত সৌন্দর্য ধুলিস্যাৎ করে দিচ্ছে । 


কিন্তু কেন ?


এ কথার উত্তর জানতে হলে আমাদেরকে একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। সোভিয়েত পরিবারে যে ১৫ জন সদস্য ছিল, তার মধ্যে রাশিয়ার সবচাইতে আপন জন ছিল এই ইউক্রেন । বলা যায় রাশিয়া শুরু থেকেই ইউক্রেনকে  তার নিজের অংশ ভাবতো, অর্থাৎ রাশিয়ার সবচাইতে আপনজন বা  ভালোবাসার পাত্র ছিল এই ইউক্রেন।

সবচাইতে ভালোবাসা পাত্র বা কাছের মানুষ যদি বেইমানি করে, তাহলে তার উপরে রাগ, জেদ ও ক্ষোভ হয় ঠিক তার উল্টো অর্থাৎ ঐ পরিমাণই তীব্র। 

হয়তো একারণেই ইউক্রেন নেটো বা আমেরিকা পরিবারে যুক্ত হবে না ঘোষণা দেওয়ার পরেও, রাশিয়া এখনো ইউক্রেনকে শাস্তি দিয়েই যাচ্ছে ~


এই গল্পের সমাপ্তি টানার সময় এখনো আসেনি, তবে আমরা চাইব রাশিয়া এবং ইউক্রেন যেন নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারে এবং আবার পূর্বের ন্যায় নতুনভাবে সম্পর্কে জড়াতে পারে ~


পাঠকের মনে কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকে যেতেই পারে~

সেটি হলো এই গল্পের নামটা কেন "ব্লেড" রাখলাম ?

মূলতঃ এই গল্পের মূল চরিত্র বা খেলোয়াড় হচ্ছে আমেরিকা। এই আমেরিকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এই গল্পের নাম রাখা হয়েছে ব্লেড ।

কারণ "আমেরিকা" আর "ব্লেড" উভয়ই যাইতেও কাটে, আসতেও কাটে~🤔~

অর্থাৎ আমেরিকার বন্ধু হলেও বিপদ, আবার শত্রু হলেও বিপদ~

অর্থাৎ আমেরিকার সাথে যে ধরনের সম্পর্কই রাখুন না কেন? আপনি বিপদে পরবেন_ই ~

উদাহরণ: 

ইউক্রেন, জর্জিয়া, ইরাক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন । এরা সকলেই আমেরিকার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বা আছে এবং এই আমেরিকার কারণেই এরা কোন না কোনভাবে বিপদের মধ্যেই ছিল বা আছে। 

অনেকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন আবার কিসের বিপদে আছে ?

আমেরিকার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কতটুকু বিপদের মধ্যে আছে, অন্য আরেকটি গল্পে তা না হয় আলোচনা করা যাবে ?


আবার আমেরিকার শত্রু তথা উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইরান, আফগানিস্তান, রাশিয়া ইত্যাদি কতটুকু বিপদের মধ্যে আছে তা নিয়ে কি আলোচনার দরকার আছে ?

হিরো বলেন আর ভিলেন-ই বলেন ? এই গল্পের মূল চরিত্র আমেরিকাকে কেন্দ্র করেই এই গল্পের নাম রাখা হয়েছে "ব্লেড" ।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন~🥱🙄🤔😀😇😲😃

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...