ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ব আজ নতুন মেরুকরণ পথে~
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ "চিলি" এর মত মুসলিম দেশগুলো কি নিজেদের জাতিগত সমস্যা সমাধানে উচ্চকণ্ঠ হতে পারে না ?
বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাবশালী দুই দেশ চীন ও ভারত এবং মুসলিম দেশগুলো সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ যদিও এ সংকটে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন করে নি, আবার সরাসরি রাশিয়া কেও সমর্থন করে নি।
তবে কার্যকলাপের দ্বারা অনেক দেশ_ই আমেরিকার প্রতি যেমন বিরক্তি প্রকাশ করছে, তেমনই নতুন মেরুকরণ এর দিকে নৌকার পাল ঘুরিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনের সাথে রাশিয়ার ডলারের পরিবর্তে ইয়েন ও রুবলের দ্বারা ব্যবসা বাণিজ্যে করার ঐক্যমত বেশ পুরনো হলেও, ভারতের রাশিয়ার সাথে রুপি ও রূবলে লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য চালানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তাছাড়া সৌদিআরব ও আরব আমিরাত এর তেলের উত্তোলন ও মূল্য ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনকে কার্যত এড়িয়ে চলা এবং চীনা মুদ্রায় চীনের সাথে তেলবানিজ্য চালু করার ইঙ্গিত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ বিগত দিনগুলোতে এই দুইদেশেকে যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ দেশ হিসেবেই দেখে এসেছে সারাবিশ্ব।
এছাড়াও আরেক প্রভাবশালী মুসলিম দেশ তুরস্কও রাশিয়ার সাথে রুবল ও তুর্কি মুদ্রায় ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তাছাড়া কাতার তার গ্যাস এর দ্বারা ইউরোপ এ রাশিয়ার অভাব পূরণে অপারগতা প্রকাশ করে আমেরিকাকে যা বুঝানোর তা বুঝিয়ে দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত শত্রু ইরান ও ভেনিজুয়েলাকে ছাড় দিয়ে তেল সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে আমেরিকা, এক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেয়া ব্যতিরেকে এই দুইদেশ যে কখনোই আমেরিকার পক্ষাবলম্বন করবে না~ তা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়।
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে~
এককথায় এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সকল দেশই তাদের স্বার্থ বাগিয়ে নিতে সচেষ্ট হচ্ছে বা হওয়ার চেষ্টা করছে~
দেশের স্বার্থ তো বটেই; তবে দেশের উর্ধ্বে উঠে দীর্ঘদিনের জিয়ে থাকা জাতিগত সমস্যা গুলিও এই সময়ে দর কষাকষির মাধ্যমে সমাধান করে নেয়া যেতে পারে বলেই অনেকের অভিমত। যেমন: ফিলিস্তিন ইস্যু।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ "চিলি" এর প্রেসিডেন্ট "গ্যাব্রিয়েল বোরিক" অলরেডি ইউক্রেনের মতো ফিলিস্তিনের প্রতিও সংহতি প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ।
শুক্রবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট মনিটর।
তিনি চ্যানেল-১৩ নামের একটি টিভি চ্যানেলকে বলেন~
ইউক্রেনে যা ঘটছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যেমন : ইউক্রেনের মারিউপোল শহরের শিশু হাসপাতালে ও পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনীয় সামরিক ঘাঁটিতে রুশ আক্রমণের বিষয়ে আমরা অবহিত। এ যুদ্ধের কারণে আমরা ইউক্রেনীয় জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু, পৃথিবীতে আরো অনেক অঞ্চল আছে যেখানে অসংখ্য সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। উদাহরণ স্বরূপ আমরা ফিলিস্তিনের কথা বলতে পারি। অথচ, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের ঘটনা আমরা তেমন একটা দেখি না।
ফিলিস্তিনের বিষয়ে চিলির প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ফিলিস্তিনকে (ইসরাইল কর্তৃক) দখল করে রাখা হয়েছে। সেখানে কী ঘটছে তা আমরা খুব একটা জানি না।
চিলি দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ, এই দেশ যদি এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের জন্য সোচ্চার কণ্ঠ হতে পারে, তাহলে মুসলিম দেশগুলো একাট্টা হয়ে এই পরিস্থিতিতে কেন সোচ্চার কণ্ঠ হতে পারছে না ?
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সকল মুসলিম দেশগুলি; যদি নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি ফিলিস্তিন সহ নিজেদের জাতিগত অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়েও সোচ্চার কণ্ঠ হয়, তাহলে এরূপ অনেক সমস্যারই সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলেই অনেকে মনে করেন~
Comments
Post a Comment