Skip to main content

"আলেকসান্দর দাগিন" উগ্র জাতীয়বাদী এবং রুশ শাসকশ্রেণির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী একজন আধ্যাতিক গুরু ও দার্শনিক।

 আমরা লৌহমানব পুতিনকে চিনি, কিন্তু আমরা কি পুতিনের আধ্যাতিক/রাজনৈতিক গুরু এবং উপদেষ্টাকে চিনি ? পশ্চিমারা যাকে পুতিনের মস্তিষ্ক হিসেবে চেনে ?

উনার নাম "আলেকসান্দর দাগিন" । 

রাশিয়ার চলমান সমরদর্শন সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নিতে হলে আমাদের পুতিনের পিছনের এই মানুষটির দিকে মনোযোগ দিতে হবে~ 

সোভিয়েত পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার প্রতিটি সামরিক অভিযান [[জর্জিয়া (২০০৮), ক্রিমিয়া (২০১৪), বেলারুশ (২০২০), কাজাখস্তানের (২০২২) পর ইউক্রেনের (২০২২)]] এর পিছনে রয়েছে যার অদৃশ্য হাত। যিনি রাশিয়ার জন্য ফিরিয়ে আনতে চান সেই অতীত আভিজাত্য/কৌলীন্য/সম্ভ্রম/শক্তি ও প্রভাব/প্রতিপত্তি, তিনি "আলেকসান্দর দাগিন" ।


#একজন_আলেকসান্দর_দাগিন" ::~ 

৬০ বছর বয়সী দাগিন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের শিরোমণি, উগ্র জাতীয়বাদী এবং রুশ শাসকশ্রেণির ওপর  ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী একজন আধ্যাতিক গুরু ও দার্শনিক। 

তিনি অত্যন্ত মেধাবী, অনেকগুলো ভাষায় পারদর্শী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন।

রাজনীতির উপর উনি একটা থিওরী দিয়েছেন যাকে "The Fourth Political Theory" বলা হয়। 

তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন~ "তিনি বাম ও ডানের সীমানায় আটকে নেই—তবে তিনি অবশ্যই মধ্যপন্থীদের বিরুদ্ধে’!"

মধ্যপন্থী’ বলতে দাগিন উদারনৈতিক গণতন্ত্রীদের বোঝান।

তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শনে যুক্ত করেছেন আধ্যাত্মবাদ ও ধর্মকে। ইউরোপের দক্ষিণপন্থী বুদ্ধিজীবীরা উনার ভক্ত। 

উনি উনার ভক্ত, সমর্থক, শ্রোতা এবং পাঠকদের যে স্বপ্ন দেখান~ সেখানে সমাজতন্ত্র বা গণতন্ত্রের কোন জায়গা নেই, যেখানে রাষ্ট্রই সর্বেসর্বা এবং প্রচার মাধ্যমগুলো শুধু জাতীয় স্বার্থের বুলি আওড়ানো'র মাধ্যম-মাত্র~

তিনি একটি বই লিখেছেন, যার নাম  ‘ফাউন্ডেশন অব জিওপলিটিকস’ । এখানে তিনি বিস্তারিতভাবে দেখিয়েছেন যে, কীভাবে রাশিয়াকে আবার আশপাশের অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জায়গায় যেতে হবে?

 বইটিকে "ভ্লাদিমির পুতিন" রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানের পাঠ্য পুস্তক  বানিয়ে দিয়েছেন। 

"আলেকসান্দর দাগীন" সরাসরি রাজনীতি না করে মূলতঃ মেঠো রাজনীতির বদলে রাশিয়ার শাসক এলিটদের উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শ দিয়ে প্রভাবিত করার পথে নামেন এবং সফল হন। 

দাগিন তাঁর এই কৌশলের নাম দিয়েছেন "অধিরাজনীতি" (মেটা-পলিটিকস)। 

তাঁর মতে, রাজনীতিতে সফল হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পাল্টানো এ সময়ে জরুরি।


#আলেকসান্দর_দাগিণ_এর_অভিলাষ ::~

দাগিন মনে করেন, সাম্য ও সমানাধিকার একটা বাতিল ধারণা। ইউরোপকে এখন মনোযোগ দিতে হবে ‘ইউরেশিয়া’ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায়, যে সাম্রাজ্যে নায়কের আসনে থাকবে রুশরা। 

অর্থাৎ এটা হবে ‘বৃহত্তর এক রাশিয়া’,। 

পুরোনো সামাজিক বন্ধনকে খাটো করে, এমন সব নাগরিক স্বাধীনতার বিপক্ষে তিনি। 

এ রকম ভাবনার কারণে দাগিনকে রাশিয়ার বাইরে ইউরোপের অনেক উগ্র জাতীয়তাবাদী'রাও গুরু মানেন। তুরস্কের জাতীয়তাবাদী'রাও উনার বেশ ভক্ত।

 দাগিনের প্রভাব বাড়ছে আমেরিকার রিপাবলিকানদের ওপরও। ট্রাম্প যে ‘লৌহমানব’ পুতিনের ক্রমাগত প্রশংসা করেন এবং নিজেও ওই রকম এক শাসক হওয়ার গোপন বাসনা পোষণ করেন, তাতে দাগিনের দর্শনে অবদান আছে।

পুতিনকে ‘লৌহমানব’ করে তুলেছে এই দাগিনের দর্শন।


#পুতিন_ও_দাগিন_কতটা_ঘনিষ্ঠ ::~

পুতিনের ভাবনা-চিন্তা-সিদ্ধান্তে দাগিনের বেশ প্রভাব আছে। কেউ কেউ দাগিনকে বলছেন পুতিনের ‘রাসপুতিন’। আরও বেশি খোঁজখবর রাখা ব্যক্তিরা বলছেন দাগিন হলেন ‘পুতিনের মস্তিষ্ক’।

দাগিনের ১৯৯৭ সালে লেখা ‘ফাউন্ডেশন অব জিওপলিটিকস’ বইটিকে পুতিনের গত ২০ বছরের বিদেশনীতির গাইড বই হিসেবে গণ্য করা যায়। 

অন্যভাবে বললে, দাগিনের ‘স্বপ্ন’ বাস্তবায়ন করতেই হয়তো পুতিনকে দুমার সাহায্য নিয়ে সংবিধানে অদল-বদল ঘটিয়ে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে হবে; ১৯৯৯ সালে শুরু হয়ে ইতিমধ্যে যে শাসনের প্রায় দুই যুগ হতে চললো।


#ইউক্রেন_আগ্রাসনে_কি_দাগিনের_ভূমিকা::~ 

জর্জিয়ায় রুশদের অভিযানের সময় দাগিন "দক্ষিণ ওশেতিয়া'য় গিয়েছিলেন এবং জর্জিয়ায় তাঁর দেশের সামরিক অভিযান সমর্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তিবলিশ, ক্রিমিয়া, ইউক্রেনসহ এসব অঞ্চল রুশদের।’

সর্বশেষ আগ্রাসনকালে ইউক্রেনের দুটি অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন হতে পুতিন যেভাবে উৎসাহ জোগালেন, ঠিক সেভাবেই ২০০৮ সালে 'দক্ষিণ ওশেতিয়া'কে ‘স্বাধীন’ করে রাশিয়া নিজ কবজায় নেয়। দাগিন সে সময় 'দক্ষিণ ওশেতিয়া'য় রকেট লাঞ্চার হাতে প্রতীকী ছবি তোলেন এবং সেটা ইন্টারনেট জগতে তুমুল সাড়া জাগিয়েছিল।

জর্জিয়া, ইউক্রেনসহ আশপাশের দেশগুলোর ভেতরে "রাশিয়ামুখী স্বাধীনতাসংগ্রাম’গুলোকে দাগিন মনে করেন ‘রুশ বসন্ত’। জর্জিয়ার দক্ষিণ ওশেতিয়া, ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক ইত্যাদি এলাকায় যারা রুশ বসন্তের গোড়াপত্তন করেছে, সবাই দাগিনের ভক্ত। দাগিন আলাপ-আলোচনায় বরাবরই ইউক্রেনকে ‘নিউ রাশিয়া’ বলতেন। পুতিনও এখন সেটাই অনুসরণ করেন।

রাশিয়া যখন জর্জিয়ায় সেনা পাঠায়, দাগিন সে সময় ২০০ ‘স্বেচ্ছাসেবক’ নিয়ে ওখানে সেমিনার করে বলছিলেন, এই লড়াই দুটি ‘সভ্যতার সংঘাত। আমাদের আমেরিকার হেজিমনি শেষ করতে ইউক্রেন পর্যন্ত যেতে হবে’ (স্পাইজেল, ২৫ আগস্ট ২০০৮)।

২০১৪ সালের ১০ জুলাই বিবিসিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে দাগিন আরেকবার খোলামেলাভাবে পুতিনকে ইউক্রেন দখলের আহ্বান জানান। সে সময় তাঁর যুক্তি ছিল, ‘রাশিয়াকে তার নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে ইউক্রেন পেতে হবে।’

দাগিনের কথা রেখেছেন পুতিন। পুতিনের এসব অভিযান দাগিনের সুপারিশমতো ‘বৃহত্তর রাশিয়া’ গড়ারই পদক্ষেপমাত্র। ক্রিমিয়ার মতো ইউক্রেন অভিযানের পর বিভিন্ন জরিপে রাশিয়াজুড়ে জনগণের মধ্যে পুতিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এভাবেই দাগিন-পুতিন মৈত্রীর ভেতর দিয়ে নতুন শতাব্দীতে নতুন রাশিয়ার নবজন্ম হচ্ছে, যা ১৯৯০ সালে ভেঙেপড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের চেহারার একদম বিপরীত।

 

#দাগিনকে_নিয়ে_পশ্চিমের_দুর্ভাবনা::~

দাগিনকে নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা উদ্বিগ্ন। অন্তত এসব দেশের ভাবুকদের বিভিন্ন লেখনীতে সেটা স্পষ্ট।  দাগীণ কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগের শেষ নেই। সেখানে অনেকের অভিমত, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য হিলারির প্রচারণায় রাশিয়ার নাক গলানোর কারণ আসলে দাগিনের দার্শনিক উসকানি। 

যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ‘কেকেকে’-র সঙ্গে দাগিনের দহরম-মহরম প্রকাশ্যেই দেখা যায়।

দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে দাগিন এও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদারনৈতিক আদর্শ আর কিছু নয়, স্বর্গে যাওয়ার পথে এক বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা মাত্র~~~~~~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...