পুতিন এর উদ্যেশ্য কি এবং উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের পথে কতটুকু সফল হতে যাচ্ছেন ? পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তা পোল্যান্ড থেকেই শুরু হবে, কেন বিশ্লেষক গণ এমন ধারণা পোষণ করেন ?
তার আগে জানা দরকার;~ পুতিন এর উদ্যেশ্য কি এবং উদ্যেশ্য বাস্তবায়নের পথে কতটুকু সফল হতে যাচ্ছেন ? পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?
নাটের গুরু "আলেকসান্দর দিগিন" এবং "ভ্লাদিমির পুতিন" বিষয়ে যেটুকু জানা যায়, তাতে সহজ বাংলায় বলা যেতে পারে যে উনারা সোভিয়েত আমলের সাম্রাজ্যবাদী ও কুলীন ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী। সে সময়ে বিশ্বব্যাপী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রভাব প্রতিপত্তি এবং মর্যাদার বিষয়টি উনাদেরকে নস্টালজিক করে রেখেছে। তাছাড়া পুতিনের বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙ্গে যাওয়ায় আক্ষেপ ফুটে ওঠেছে বহুবার এবং এক্ষেত্রে সাবেক সোভিয়েত নেতাদের সমালোচনা করতেও উনি ছাড়েন নি।
তবে পুতিন জানেন যে শত চেষ্টাতেও আর সোভিয়েত যুগে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলেও; একটি শক্তিশালী রুশ ফেডারেশন গঠনের মাধ্যমে অতীতের কুলীন আভিজাত্য ও প্রভাব প্রতিপত্তির কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তাছাড়া ওয়ার'শ এর বিলুপ্তির পর বর্তমান ন্যাটো কে কাউন্টার দিতে যে রাশিয়া একা sufficient না ~ এটাও পুতিন ভালোভাবে বোঝেন।
মূলতঃ একারণেই রাশিয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে, বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ সমূহের সমন্বয়ে (অনেকটা ওয়ার'শ ধাঁচের) একটি শক্তিশালী রুশ ফেডারেশন প্রয়োজন, যে ফেডারেশনের অন্তর্গত দেশ সমূহ অনেকটা বেলারুশ টাইপের আজ্ঞাবহ হবে।
২০০৮ সালে জর্জিয়াতে সামরিক অভিযান পরিচালনা, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল, ২০২০ সালে বেলারুশ আক্রমণ করে সেখানে রুশপন্থী সরকার কায়েম, এরপর কাজাখিস্থানে বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনী প্রেরণ, এবছর ইউক্রেনের দনেতস্ক ও লুহানস্ক কে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান; এমন কি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়গুলিকে একসুতায় গাথলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যেকোন ভাবেই হোক না কেন রাশিয়া সোভিয়েত আমলের অনুগত ২১ টি রাষ্ট্রে(সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ১৪ টি + ওয়ার'শ ভুক্ত ৭ টি)'র মত আজ্ঞাবাহী ৮/১০ টি রাষ্ট্রের একটি বলয় বা ফেডারেশন গঠন করতে চায়, যাতে ন্যাটোর সমকক্ষ কিন্তু বিরোধী একটি প্ল্যাটফর্ম পুনরায় বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্ব দিবে রাশিয়া।
এককথায় পুতিন পুনরায় বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধ কালীন বা শীতল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চায়, যাতে বিশ্বের যেকোন আন্তঃদেশীয় সমস্যা সমাধানে আমেরিকা একাই মোড়লগীরি ফলাতে না পারে, সবকিছুতেই যাতে রাশিয়ার একটি ভূমিকা থাকে। অর্থাৎ সোভিয়েত আদলে না হলেও একটু ভিন্ন আঙ্গিকে রাশিয়া'কে সোভিয়েত ইউনিয়নে'র আসনে আসীন করাই "পুতিন ও আলেকসান্দর দিগিন" এর লক্ষ্য।
"অনেকটা পুরানো মদ নতুন বোতলে রেখে পান করার মতো"; যেখানে স্বাদ ও গন্ধ আগের মতোই থাকবে কিন্তু সকলেই বুঝবে এটা নতুন কিছু~
এটা বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে ইউক্রেনে পুতিনের লক্ষ্য বা উদ্যেশ্য দুইটি ১) ইউক্রেন কে রাশিয়ার সাথে একীভূত করা, অথবা ২) ইউক্রেন এর সংবিধান পরিবর্তন করে স্থায়ীভাবে বেলারুশে'র মত রুশপন্থী সরকার ব্যবস্থা কায়েম করা।
সম্ভবত একনম্বর নয়, দুই নম্বর উদ্যেশ্য হাসিলের দিকেই এগুচ্ছে পুতিন। সেক্ষেত্রেও ইউক্রেন কে অনেকটাই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে~ ক্রিমিয়া, দনেতস্ক ও লুহানস্ক এর মত তিনটি প্রদেশকে ছেড়ে দিতে হবে রাশিয়ার হাতে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পিছনে আরেকটি অন্তর্নিহিত কারণ থাকতে পারে রাশিয়ার~ সেটি হলো অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে চীনের উত্থান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর চীন বিশ্বরাজনীতিতে বা মোড়ল_গীরিতে ক্রমেই দুই নম্বর আসনটি অধিকার করতে যাচ্ছিল, অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের আসনটি চীন দখল করতে যাচ্ছিল আর রাশিয়া তিন নম্বরে চলে যাচ্ছিলো~
তবে এখন রাশিয়া ইউক্রেনে successful হলে আগামী শত বছরের জন্য আমেরিকার কাউন্টার-পার্ট হিসেবে রাশিয়ার আসন পাকাপোক্ত হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে চীন যতোই অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাক না কেন ?
তাছাড়া আমেরিকার আজ্ঞাবহ দেশ যেমন ৮/১০ টা আছে; রাশিয়ারও তেমনই বেলারুশ, ইউক্রেন(হতে যাচ্ছে), কাজাখস্তান, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া তৈরি হয়ে গেছে। জর্জিয়া'ও যে অনুরূপ রাষ্ট্রে পরিণত হবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। তাছাড়া ভেনিজুয়েলা, ইরান, সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার জন্য বাড়তি শক্তি । এছাড়াও সৌদি আরব ও আরব আমিরাত, পাকিস্তান সহ মুসলিম দেশ গুলির আমেরিকার সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা এবং ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ হয়েও তুরস্কের নিরপেক্ষ আচরণ যে; পুতিন বা রাশিয়া'র জন্য ভবিষ্যতে সুখকর বার্তা নিয়ে আসছে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই~
কাজেই সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় যে রাশিয়া সঠিক পথেই এগুচ্ছে এবং বিশ্বরাজনীতিতে সোভিয়েতে'র আসনে আসীন হতে যাচ্ছে ~
পশ্চিমা মিডিয়ার প্রচার/প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?
পশ্চিমারা প্রথম থেকেই বলে আসছেন যে পুতিন তার যুদ্ধ কৌশলে ভুল করেছেন~। ভুলগুলো হলো যুদ্ধে বিমান বাহিনীকে সেভাবে ব্যবহার না করা, কিয়েভ দখলে ধীর গতি, রাশান পদাতিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেন অপেক্ষা অনেক বেশি, সর্বশেষ বলে বেড়াচ্ছেন রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র বা রসদ শেষ হয়ে আসছে~ ইত্যাদি ইত্যাদি।
সবথেকে হাস্যকর অপবাদ হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ কৌশলে ভুল করার অপবাদ। যে দেশটি অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধে, কোরিয়া যুদ্ধে, এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকা ও মিত্র বাহিনীকে পড়াস্থ করেছে শুধুমাত্র যুদ্ধ কৌশলের জোরে, সেই দেশটি নাকি ইউক্রেনের মত দেশের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করতে গিয়ে কৌশলে ভুল করবে ? পুতিন আসলে কি কি লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেনে অভিযান চালাচ্ছে সেটি পুতিন ছাড়া অন্য কেউই জানে না। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পুতিনের লক্ষ্য ইউক্রেন ধ্বংস বা দখল করা নয়; ইউক্রেন সরকার বা বাহিনীকে পরাজয় স্বীকারে বাধ্য করা অর্থাৎ সারেন্ডার করানো।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে "ভলদেমির জেলেনিস্কি" ন্যাটো তে যোগ নাদেয়া এবং ক্রিমিয়া ও দোনবাস কে স্বীকৃতি দানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও রাশিয়া'র পক্ষ্যথেকে আলোচনায় বসাতে অনাগ্রহ দেখানোর কারণে~
কারণ একমাত্র সারেন্ডার করলেই রাশিয়া ইউক্রেনে সরকার পরিবর্তন, সংবিধান পরিবর্তন, সেনাবাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ এবং সামরিক ঘটি স্থাপনের মাধ্যমে ইউক্রেনকে আজীবনের জন্য নতজানু রাখার সুযোগ পাবে, যেমনটি জাপান ও জার্মানির ক্ষেত্রে ঘটেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ও জার্মানি সারেন্ডার করার কারণে এখনও ঐসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখতে বাধ্য হচ্ছে, এমনকি বৈশ্বিক যে কোন ক্ষেত্রেই তারা আমেরিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। আর ইউক্রেন সব শর্ত মেনে নেয়ার পরও যদি রাশিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হয়, তাহলে কিন্তু একটি বিষয়ে রাশিয়াকে ছাড় দিতেই হবে, সেটি হলো ইউক্রেনের বর্তমান সরকার কে স্বীকৃতি দিতে হবে, কারণ আলোচনা তো সরকারের সাথে সরকারেরই হবে, সেক্ষেত্রে ভলোদেমির জেলোনিস্কিকে রাশিয়া ক্ষমতাচ্যুত বা পরিবর্তনের সুযোগ হারাবে।
অনেকেই রাশিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে কিয়েভ দখল করতে এতসময় নেয়ার পিছনে অনেকেই অনেক কারণ খুঁজছেন। আসল কারণ পুতিন-ই জানেন, তবে আগেই বলেছি রাশিয়ার লক্ষ্য ইউক্রেন কে সারেন্ডার করানো, নিরস্ত্র করানো, দখল বা ধ্বংস করা নয়। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের বাহির বাণিজ্য ও সমস্ত রসদ সরবরাহ বন্ধ করাটা রাশিয়ার জন্য সর্বাগ্রে জরুরি। রাশিয়া কিন্তু সেই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করে যাচ্ছে বা করে ফেলেছে। ইউক্রেনের আকাশপথ আগেই ধ্বংস করেছে, মারিওপল দখলে নিয়ে সমুদ্র বাণিজ্যের পথও বন্ধকরে দিয়েছে অলরেডি। মারিওপলের দখল নিতে রাশিয়া সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর পিছনে বেশ কয়টি কারণ আছে~ ইউক্রেনের বৈদেশিক বাণিজ্যের(এক্সপোর্ট/ইমপোর্ট) পুরোটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি রাশিয়া আর কখনোই মারীপলের নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে ছাড়বে না, সে যে ভাবেই আপোষ রফা হোক না কেন ? হয়তো ইউক্রেন কে মারীওপল বন্দর ব্যবহার করতে দিবে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে রাশিয়া, কারণ ভবিষ্যতে ইউক্রেন মোচড়ামুচড়ি করতে চাইলে এই মারিওপল হবে ইউক্রেনকে টাইট দেয়ার অন্যতম চাবি। তাছাড়া দনবাস ও ক্রিমিয়াও যাতে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মারিওপল্ ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারে সেটি নিশ্চিত করাও এই বন্দর ও বন্দর শহর দখলের অন্যতম কারণ। এই এলাকা দখলের আরেকটি কারণ হলো "আজব ব্রিগেড" নামক একটি নৃশংস ও উশৃঙ্খল বাহিনীকে শায়েস্তা করা, কারণ এই বাহিনীটি নৃশংসতায় বিশ্বে অত্যন্ত কুখ্যাত এবং ক্রিমিয়া দখলের সময় ইউক্রেনের এই বাহিনীটি বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল রাশিয়ার বিপক্ষে।
এখন আসছি রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে~ রাশিয়া কি এখনও তার যুদ্ধাস্ত্রের আধুনিক ও সময়ুপযোগী অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ ট্যাংক বহর যা একমাত্র রাশিয়ার_ই আছে, সেখান থেকে একটু ট্যাংকও কি রাশিয়া ব্যবহার করেছে এপর্যন্ত ? রাশিয়া তার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান গুলি থেকে একটি বিমানও কি এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে ? যা কিছু ব্যবহার করেছে তা মিগ-সিরিজের মন্ধত্বা আমলের বিমান গুলি আর সুখই-সিরিজের প্রথম দিককার বিমান গুলো; এমন কি পরীক্ষামূলক ভাবে যে দুইটি মাত্র হাইপারসনিক মিসাইল ছুঁড়েছে রাশিয়া তাও মিগ ২৯ বিমান থেকে,। রাশিয়া মিসাইল প্রযুক্তিতে বিশ্বের ১ নম্বর, এটা শুধু আমেরিকা নয় পুরো বিশ্বই জানে। এখনও কি রাশিয়া তার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই সেভাবে ব্যবহার করেছে ? এমন কি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা S_400 ও কি রাশিয়া এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে সেভাবে ? ২ টি মাত্র হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে, তাও আমেরিকাকে বুঝানোর জন্য যে তুমি পোল্যান্ড সীমানার যে দিক দিয়েই অস্ত্র গোলাবারুদ পাঠাও না কেন, তা ধবংসের জন্য এ ধরনের মিসাইল আক্রমণই যথেষ্ঠ। আর বেলারুশে মোতায়েন করা S 400 মিসাইল সিস্টেম থেকে কয়েকটি মিসাইল ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশে কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করেছে মূলতঃ বেলারুশ কে S 400 এর কার্যকারিতা বুঝিয়ে আশ্বস্থ করার জন্য যে, তোমার চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই, বেলারুশের আকাশ সীমা মুক্ত রাখতে এই S 400 যথেষ্ঠ~
T-72 ট্যাংক,আর্মড ভেহিকেল, রকেট লঞ্চার সহ রাশিয়া এপর্যন্ত যে অস্ত্রগুলো ইউক্রেনে পাঠিয়েছে~ সবগুলোই গত শতাব্দীর সোভিয়েত আমলের তৈরী, আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে এই অস্ত্র গুলোই সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে ব্যবহার করেছে, এমন কি হিজবুল্লাহ/হুতী বিদ্রোহীরাও এর থেকে আধুনিক রকেট লঞ্চার সহ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে । শুধুমাত্র বাতাসের অক্সিজেন ব্যবহার করে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করার মতো দু একটি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র রাশিয়া এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে~
তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে রাশিয়া কেন এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে ? এর কারণ হতে পারে দুইটি~ ১) ন্যাটো কে সরাসরি ফেস করার জন্য আধুনিক অস্ত্র ভান্ডার যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা, ২) বছর বছর মেইনটেন্যান্স এর বিশাল খরচের হাত থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মন্ধাত্ম আমলের অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে শেষ করে দেওয়া এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ঘাটি করে বাকিথাকা এইসব অস্ত্র ইউক্রেনেই রেখে দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ব্যয়ভার ইউক্রেনের উপর চাপানো।
রাশিয়া হেরে যাচ্ছে, অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, একসপ্তাহে যে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় সেই যুদ্ধ একমাস পারলেও রাশিয়ার প্রাপ্তি সামান্যই~ইত্যাদি~ইত্যাদি~~ এসবই আমেরিকা ও মিত্রদের প্রপাগান্ডা, যাতে পুতিন পুরনো অস্ত্র ছেড়ে আধুনিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার শুরু করে। রাশিয়ার আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার যত খালি হবে ন্যাটো ততই সস্তি পাবে, সমস্যা হচ্ছে রাশিয়ার আধুনিক অস্ত্র ভান্ডার প্রায় পুরোটাই অক্ষত এখনও, একারণেই আমেরিকা সহ ন্যাটো জোট এতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এবং ন্যাটোভুক্ত সকল দেশ আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক অস্ত্র সহ নিজেদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে~ এমন কি ন্যাটো ধরেই নিয়েছে যে রাশিয়া ইউক্রেনে থিতু হয়ে পোল্যান্ডে আক্রমণ চালাবে, মূলতঃ এই বিষয়ে আলোচনা করতে, প্রস্তুতি নিতে এবং পোল্যান্ড কে সাহস দিতে বাইডেন ইউরোপ তথা পোল্যান্ড সফরে আসছেন।
উনারা (ন্যাটো) খুব ভালো করেই জানেন যে, ৬৫ কি: মি: দীর্ঘ এই মান্ধত্বা আমলের T-20 ট্যাংক ও আর্টিলারি যুদ্ধাস্ত্রের বহর রাশিয়া আর কোন কালেই নিজ দেশে ফেরত নিবে না, যুদ্ধের পর যা কিছু থেকে যাবে, তা হয় ইউক্রেনে ঘাটি গেড়ে রেখে দিবে, নয়তো অন্যকোন দেশ আক্রমণে ব্যবহার করবে রাশিয়া। সেক্ষেত্রে পোল্যান্ড হতে পারে নেক্সট টার্গেট~
কারণ ~~ আজ আর নয়। যদি সম্ভব হয় তো পরে আরেকদিন পোল্যান্ড কেন্দ্রীয় তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ বাধার যৌক্তিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যাবে~
Comments
Post a Comment