ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা মিডিয়া ও দেশ গুলির মিথ্যাচার~
👉 "কিয়েভ পোস্ট" ইউক্রেনের প্রথম সারির একটি পত্রিকা। যুদ্ধের প্রথম দিনে এই পত্রিকায় বেশ কয়েকটি রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করার ছবি ছাপা হয়। পরে দেখা যায় যে ছবি গুলো ২৪ সে জুলাই ১৯৯৩ সালের।
👉 Riho Terras নামক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য এবং এস্তোনিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্মির পোশাক পরা Dynamo Kiev Football Team ফুটবল টিমের দেশ রক্ষার্থে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার একটি ছবি পোস্ট করেন, যা পৃথিবী ব্যাপী লাখ লাখ শেয়ার হয়।
Football Factly নামক আরেকটি টুইটার অ্যাকাউন্ট; যার ফলোয়ার সংখ্যা ৪৩০০০০~ এই অ্যাকাউন্ট থেকেও উক্ত ফুটবল টিমের ছবি শেয়ার করা হয় যে ফুটবলাররা মাতৃভূমির টানে আগ্রাসী রাশিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে~
পরবর্তীতে এরকম অনেকেই উক্ত ছবি দিয়ে পোস্ট দিতে থাকে~
কিন্তু কয়েকদিন পর প্রমাণিত হয় যে উক্ত ছবির মানুষগুলোর সঙ্গে উক্ত ফুটবল টিমের কোন সম্পর্কই নেই। তারা ডানপন্থী উগ্র কোনো দলের সদস্য।
অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম; ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ? তিনিও জেনে বুঝে এরকম মিথ্যাচার করতে পারেন ? তাহলে আমেরিকা এবং নাটোর আজ্ঞাবাহী মিডিয়াগুলোকে দোষ দিয়ে লাভ কি ?
👉 ইউক্রেনের TB-2 ড্রোন দ্বারা রাশিয়ার যেসমস্ত ট্যাংক ধ্বংসের ছবি পশ্চিমা মিডিয়া সহ বাংলাদেশী মিডিয়া প্রচার করে উক্ত ড্রোন আর তুরস্কের গুণগান গাইতে গাইতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিল; সেই ছবি ও ভিডিও গুলির বেশিরভাগই সিরিয়াতে সিরীয় ট্যাংক এর উপর উক্ত ড্রোনের হামলার ছবি ও ভিডিও। তবে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ছবিগুলো উল্টো দিক থেকে দেখিয়েছে যাতে তাৎক্ষণিক ভাবে কেউ বুঝতে না পারে~
👉 আকাশে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ বিমানের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। শিরোনামঃ করা হয় "ইউক্রেনের আকাশে রাশিয়ার শতশত বিমান";~ ছবিটি লাখ লাখ শেয়ার হয়।
পরে দেখা যায় ২০২০ সালের ৪ মে ছবিটি অন্য শিরোনামে পোস্ট করা হয়েছিল। অর্থাৎ এটি অন্য কোন যুদ্ধের ছবি।
👉 কিছুদিন আগে পশ্চিমা মিডিয়া রাশিয়ায় একটি পুতিন বিরোধী বিক্ষোভের ভিডিও প্রকাশ করে খবরের হেডলাইন করে, কিন্তু ভিডিও টি কয়েক বছর আগের রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নভানিল কে গ্রেফতার করার কারণে পুতিন বিরোধিতায় রাশিয়ানদের বিক্ষোভের ভিডিও, কিন্তু সেটি এখন যুদ্ধের কারণ দেখিয়ে প্রচার করাহয় বিশ্বব্যাপী।
👉 মারিওপলের বিখ্যাত মসজিদ ; যেটিকে তুরস্কও তৈরি করে দিয়েছিল। ইউক্রেন সরকার_সহ সরা বিশ্ব মিডিয়া কয়েকদিন টানা প্রচার করে যে, রাশিয়া উক্ত মসজিদে হামলা চালিয়েছে এবং ঐ মসজিদে আশ্রয় নেয়া ৮০ জন তুরস্কের মুসলিম নাগরিক ভাগ্যে কি হয়েছে তার কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের মিডিয়া গুলোতেও ঢালাও ভাবেই এই খবরের বঙ্গানুবাদ প্রচার করা হয়েছে। আমি যমুনা টিভি এর খবরে দুই দিন শুনেছি।
এখন তুরস্ক থেকে খোঁজখবর করে বিবৃতি দেয়া হয়েছে যে, ওই মসজিদে এপর্যন্ত কোন হামলা হয় নি, মসজিদ থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একবার হামলা হয়েছিল, কিন্তু মসজিদের কোন ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া তুরস্কের নাগরিকদেরও কিছু হয় নি।
👉 কয়েকদিন আগেই সরা বিশ্বে ফলাও করে প্রচার করা হয় যে হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ইউক্রেনের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। আমিও দেশী খবরের কাগজে খবরটি পড়েছি। এখন বলা হচ্ছে সেটিও ফেক খবর। উনি কোন দান/ছদগা করেন নি।
👉 "ঘোস্ট অফ কিয়েভ" শিরোনামে একটি খবর বিশ্বব্যাপী সবচাইতে বেশি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে ইউক্রেনীয় মিগ ২৯ নামক একটি বিমানের ক্যারিশমা, বলা হচ্ছিল এই বিমানের পাইলট একাই বেশ কয়েকটি রাশান সুখই ২২ বিমান ডগফাইটের মাধ্যমে ভূপাতিত করেছে।
মূলতঃ পশ্চিমা মিডিয়া এই মিগ২৯ এর পাইলটকে ghost of kiev আখ্যা দিয়েছে, তাকে কিংবদন্তি বানিয়েছে, অনেকটা মহামানব বানিয়ে ছেড়েছে। পরবর্তীতে ডগফাইট এর উক্ত ভিডিওটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে ভিডিওটি হাই রেজুলেশনের মাধ্যমে তৈরি করা একটি ভিডিও, অনেকটা ভিডিও গেমের মত বা এনিমেটেড ফিল্ম এর মত আর্টিফিশিয়াল, অরিজিনাল নয়। অথচ সরা বিশ্বব্যাপী কি প্রচরটাই করা হয়েছে ইউক্রেনের হয়ে ??
👉 ট্রাক্টর দিয়ে একটি যুদ্ধ বিমান কে টেনে নেয়া হচ্ছে ~ এমন একটি ছবি ছাপিয়ে ইউক্রেনীয় কৃষকরা রাশান ভূপাতিত বিমানকে ট্রাক্টর দিয়ে টেনে সরিয়ে নিচ্ছে মর্মে খবর ভাইরাল হয়। মূলতঃ খবর এবং ছবি দুটোই ভুয়া। এটি ২০১১ সালে জর্জিয়ার একটি ছবি এখন পোস্ট করে ইউক্রেন বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
👉 সম্প্রতি পুতিন রাশান এয়ারলাইনস কর্মীদের (বিমানবালা) সাথে একটি মিটিং করেন যেখানে তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু পশিমা মিডিয়ায় প্রচার করা হয় যে পুতিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, হলোগ্রমিং এফেক্টের মাধ্যমে সেখানে পুতিনের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে।
👉 Donald Trump এর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা George Papadopouls ৪ মার্চ তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট এ শেয়ার করেন যে জেলেনোস্কী ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। যা ছিল ডাহা মিথ্যা।এই পোস্টের বরাত দিয়ে পরবর্তীতে চীন ও রাশিয়া তাদের মিডিয়াতেও অনুরূপ খবর প্রচার করে।
👉 কিছুদিন আগেই একটা ছবি ও খবর বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হয়, যেখানে বলা হয় যে ভলদেমির জেলেনোস্কির স্ত্রী যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। ছবিতে যে মহিলাকে দেখানো হয়, তিনি আসলে উনার স্ত্রী নন । তিনি ইউক্রেনের আর্মির একজন সদস্য, এবং ছবিটিও তোলা হয় যুদ্ধের অনেক আগে। তবে মহিলার চেহারার সাথে উনার কিছুটা মিল আছে।
👉 এবার CNN এ প্রচারিত একটি ভিডিও এর বিষয়ে বলি~ এই ভিডিও প্রচার করে সিএনএন দাবি করে যে রাশিয়া গোপনে ভেনিজুয়েলায় সেনা পাঠাচ্ছে । যদি আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে যায় তো রাশিয়া ভেনিজুয়েলা থেকেও আমেরিকার বিপক্ষে যুগপৎ হামলা চালাবে। অথচ ভিডিও টি ২০১৬ সালের। কিন্তু এখন ইউক্রেন ইস্যুতে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে~
,👉 ইউক্রেনের আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে রাশান হেলিকপ্টার এর ছবি একটি টুইটার একাউন্ট থেকে যুদ্ধের ৭ দিন পর পোস্ট দেয়া হলে প্রথম দিনেই ভিউ হয় আড়াই লাখের উপর, শেয়ারের হিসাব নেই। অথচ ছবিটি ২০১৬ সালের অনলাইন পোস্ট এও পাওয়া গেছে পরবর্তীতে।
👉 Carl Bild সুইডেনের সাবেক প্রধান মন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পদে দায়িত্বে রত , তিনি বাচ্চারা ট্যাংক বাহি আর্মি বহরকে স্যালুট করছে~ এরকম একটি ছবি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেন এবং লিখেন যে ইউক্রেনের শিশুরা তাদের যোদ্ধাদের যেভাবে সম্মান জানাচ্ছে তা মানুষ মনে রাখবে দীর্ঘকাল। কিন্তু ছবিটি ২০১৬ সালের কোন এক মহড়ার ছবি ছিল।
👉 সম্প্রতি পশ্চিমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর ভাইরাল হয় যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পুতিনের বিপক্ষে বিদ্রোহ বা ক্যু করার পাঁয়তারা করছে~ যা ডাহা মিথ্যা।
👉 রাশিয়ার ট্যাংক ধ্বংসের যে ছবি গুলো দেখানো হয় তার অনেক ছবিই ২০১৪ সালের ক্রিমিয়া দখল এবং অন্যান্য যুদ্ধের ছবি এডিট করে। এবং ইউক্রেন অফিসিয়ালি এসব ছবি ও খবর প্রচার করছে~
👉 ইউক্রেনের আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে রাশান হেলিকপ্টার এর ছবি একটি টুইটার একাউন্ট থেকে যুদ্ধের ৭ দিন পর পোস্ট দেয়া হলে প্রথম দিনেই ভিউ হয় আড়াই লাখের উপর, শেয়ারের হিসাব নেই। অথচ ছবিটি ২০১৬ সালের অনলাইন পোস্ট এও পাওয়া গেছে পরবর্তীতে।
এরকম হাজার হাজার, লাখ লাখ খবর প্রচার করা হচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়াতে; যেগুলি শুধু মিথ্যা নয়, ডাহা মিথ্যা। তবে যুদ্ধের এটিও একটি পার্ট ~ যেখানে এগিয়ে থাকাই বড় কথা~
Comments
Post a Comment