Skip to main content

পশ্চিমা দেশ ও মিডিয়াগুলোর প্রচার/প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?

পশ্চিমা দেশ ও মিডিয়াগুলোর প্রচার/প্রচারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?


পশ্চিমারা প্রথম থেকেই বলে আসছেন যে পুতিন তার যুদ্ধ কৌশলে ভুল করেছেন~                                                      ভুলগুলো হলো যুদ্ধে বিমান বাহিনীকে সেভাবে ব্যবহার না করা, কিয়েভ দখলে ধীর গতি, রাশান পদাতিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেন অপেক্ষা অনেক বেশি, সর্বশেষ বলে বেড়াচ্ছেন রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র বা রসদ শেষ হয়ে আসছে~ ইত্যাদি, ইত্যাদি। 


সবথেকে হাস্যকর অপবাদ হচ্ছে রাশিয়ার  যুদ্ধ কৌশলে ভুল করার অপবাদ । 

পুতিনের যুদ্ধ কৌশলটা কি, সেটা কি পশ্চিমারা জানে ? এই যুদ্ধে রাশান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে, এখন পর্যন্ত সেটি কি আমেরিকা বা পশ্চিমারা জানতে পেরেছে ?

এই যুদ্ধ কে পরিচালনা করছে, এখন অব্দি সেটিই যদি পশ্চিমা গোয়েন্দা বাহিনীগুলো জানতে সক্ষম না হয়, তাহলে যুদ্ধ কৌশল বা যুদ্ধের উদ্যেশ্য সম্পর্কে তারা কিভাবে ধারণা পেতে পারে ?

একথা অনস্বীকার্য যে, পুতিন এই যুদ্ধ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছেন, কৌশল এবং উদ্যেশ্য তিনি কাউকেই জানতে বা বুঝতে দিচ্ছেন না।


যে দেশটি অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধে, কোরিয়া যুদ্ধে, এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মত প্রক্সি যুদ্ধে আমেরিকা ও মিত্র বাহিনীকে পড়াস্থ করেছে শুধুমাত্র যুদ্ধ কৌশলের জোড়ে, সেই দেশটি নাকি ইউক্রেনের মত দেশের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করতে গিয়ে কৌশলে ভুল করবে ? 

পুতিন আসলে কি কি লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেনে অভিযান চালাচ্ছে সেটি পুতিন ছাড়া অন্য কেউই জানে না। 

তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, পুতিনের লক্ষ্য ইউক্রেন ধ্বংস বা দখল করা নয়; ইউক্রেন সরকার বা বাহিনীকে পরাজয় স্বীকারে বাধ্য করা অর্থাৎ সারেন্ডার করানো।


বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে "ভলদেমির জেলেনিস্কি" ন্যাটো তে যোগ না-দেয়া এবং ক্রিমিয়া ও দোনবাস কে স্বীকৃতি দানের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও রাশিয়া'র পক্ষ্যথেকে আলোচনায় বসাতে অনাগ্রহ দেখানোর কারণে~


কারণ একমাত্র সারেন্ডার করলেই রাশিয়া ইউক্রেনে সরকার পরিবর্তন, সংবিধান পরিবর্তন, সেনাবাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ এবং  সামরিক ঘটি স্থাপনের মাধ্যমে ইউক্রেনকে আজীবনের জন্য নতজানু রাখার সুযোগ পাবে, যেমনটি জাপান ও জার্মানির ক্ষেত্রে ঘটেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ও জার্মানি সারেন্ডার করার কারণে এখনও ঐসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখতে বাধ্য হচ্ছে, এমনকি বৈশ্বিক যে কোন ক্ষেত্রেই তারা আমেরিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। 


আর ইউক্রেন সব শর্ত মেনে নেয়ার পরও যদি রাশিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হয়, তাহলে কিন্তু একটি বিষয়ে রাশিয়াকে ছাড় দিতেই হবে, সেটি হলো ইউক্রেনের বর্তমান সরকার কে স্বীকৃতি দিতে হবে, কারণ আলোচনা তো সরকারের সাথে সরকারেরই হবে, সেক্ষেত্রে ভলোদেমির জেলোনিস্কিকে রাশিয়া ক্ষমতাচ্যুত বা পরিবর্তনের সুযোগ হারাবে।


অনেকেই রাশিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে কিয়েভ দখল করতে এতসময় নেয়ার পিছনে অনেকেই অনেক কারণ খুঁজছেন। আসল কারণ পুতিন-ই জানেন। তবে আগেই বলেছি রাশিয়ার লক্ষ্য ইউক্রেন কে সারেন্ডার করানো, নিরস্ত্র করানো, দখল বা ধ্বংস করা নয়। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের  বাহির বাণিজ্য ও সমস্ত রসদ সরবরাহ বন্ধ করাটা রাশিয়ার জন্য সর্বাগ্রে জরুরি। রাশিয়া কিন্তু সেই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করে যাচ্ছে বা করে ফেলেছে। ইউক্রেনের আকাশপথ আগেই ধ্বংস করেছে, মারিওপল দখলে নিয়ে ইউক্রেনের সমুদ্র বাণিজ্যের পথও বন্ধকরে দিয়েছে অলরেডি। 

মারিওপলের দখল নিতে রাশিয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর পিছনে বেশ কয়টি কারণ আছে~ 

ইউক্রেনের বৈদেশিক বাণিজ্যের(এক্সপোর্ট/ইমপোর্ট) পুরোটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি রাশিয়া আর কখনোই মারীওপলের নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে ছাড়বে না, সে যে ভাবেই আপোষ রফা হোক না কেন ?

 হয়তো ইউক্রেন কে মারীওপল বন্দর ব্যবহার করতে দিবে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে রাশিয়া, কারণ ভবিষ্যতে ইউক্রেন মোচড়ামুচড়ি করতে চাইলে এই মারিওপল হবে ইউক্রেনকে টাইট দেয়ার অন্যতম চাবি। তাছাড়া দনবাস ও ক্রিমিয়াও যাতে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মারিওপল্ ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারে সেটি নিশ্চিত করাও এই বন্দর ও বন্দর শহর দখলের অন্যতম কারণ। 

এই এলাকা দখলের আরেকটি কারণ হলো "আজব ব্রিগেড" নামক একটি নৃশংস ও উশৃঙ্খল বাহিনীকে শায়েস্তা করা, কারণ এই বাহিনীটি নৃশংসতায় বিশ্বে অত্যন্ত কুখ্যাত এবং ক্রিমিয়া দখলের সময় ইউক্রেনের এই বাহিনীটি বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল রাশিয়ার বিপক্ষে।


এখন আসছি রাশিয়ার যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে~

 রাশিয়া কি এখনও তার যুদ্ধাস্ত্রের আধুনিক ও সময়ুপযোগী অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ ট্যাংক বহর যা একমাত্র রাশিয়ার_ই আছে, সেখান থেকে একটি ট্যাংকও কি রাশিয়া ব্যবহার করেছে এপর্যন্ত ? 

রাশিয়া তার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান গুলি থেকে একটি বিমানও কি এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে ? যা কিছু ব্যবহার করেছে তা মিগ-সিরিজের মন্ধত্বা আমলের বিমান গুলি আর সুখই-সিরিজের প্রথম দিককার বিমান গুলো; এমন কি পরীক্ষামূলক ভাবে যে দুইটি মাত্র হাইপারসনিক মিসাইল ছুঁড়েছে রাশিয়া, তাও মিগ ২৯ বিমান থেকে,। 

রাশিয়া মিসাইল প্রযুক্তিতে বিশ্বের ১ নম্বর, এটা শুধু আমেরিকা নয় পুরো বিশ্বই জানে। এখনও কি রাশিয়া তার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই সেভাবে ব্যবহার করেছে ? 

এমন কি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা S_400 ও কি রাশিয়া এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে সেভাবে ? 

২ টি মাত্র হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে, তাও আমেরিকাকে বুঝানোর জন্য যে তুমি পোল্যান্ড সীমানার যে দিক দিয়েই অস্ত্র গোলাবারুদ পাঠাও না কেন, তা ধবংসের জন্য এ ধরনের মিসাইল আক্রমণই যথেষ্ঠ।  আর বেলারুশে  মোতায়েন করা S 400 মিসাইল সিস্টেম থেকে কয়েকটি মিসাইল ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশে কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। এটা করেছে মূলতঃ বেলারুশ কে S 400 এর কার্যকারিতা বুঝিয়ে আশ্বস্থ করার জন্য যে, তোমার চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই, বেলারুশের আকাশ সীমা মুক্ত রাখতে এই  S 400 যথেষ্ঠ~


এখন অব্দি রাশিয়া কি তার শক্তিশালী নৌ বাহিনীকে এই যুদ্ধে ব্যবহার করেছে ? এতগুলো হাই প্রযুক্তির সাবমেরিন, ফ্রীগেট সহ নৌবাহিনীর কোন যুদ্ধ জাহাজ কি এখন পর্যন্ত ব্যবহার করেছে রাশিয়া ? 

শুধুমাত্র কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরে এগুলিকে যুদ্ধ_প্রস্তুতি নিয়ে বসিয়ে রেখেছে।


T-72 ট্যাংক,আর্মড ভেহিকেল, রকেট লঞ্চার সহ রাশিয়া এপর্যন্ত যে অস্ত্রগুলো ইউক্রেনে পাঠিয়েছে বা ব্যবহার করছে~ সবগুলোই গত শতাব্দীর সোভিয়েত আমলের তৈরী, আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে এই অস্ত্র গুলোই সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে ব্যবহার করেছে।

 এমন কি হিজবুল্লাহ/হুতী বিদ্রোহীরাও এর থেকে আধুনিক রকেট লঞ্চার সহ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে । শুধুমাত্র বাতাসের অক্সিজেন ব্যবহার করে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করার মতো দু একটি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র রাশিয়া এপর্যন্ত ব্যবহার করেছে, বাকি সবগুলিই মান্ধাতা আমলের সোভিয়েত যুগের যুদ্ধাস্ত্র~


তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে রাশিয়া কেন এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে ? এর কারণ হতে পারে দুইটি~ 

১) ন্যাটো কে সরাসরি ফেস করার জন্য আধুনিক অস্ত্র ভান্ডার যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা~

২) বছর বছর মেইনটেন্যান্স এর বিশাল খরচের হাত থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মন্ধাত্ম আমলের অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে শেষ করে দেওয়া এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ঘাটি করে বাকিথাকা এইসব অস্ত্র ইউক্রেনেই রেখে দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ব্যয়ভার ইউক্রেনের উপর চাপানো। 


উনারা (ন্যাটো) খুব ভালো করেই জানেন যে, ৬৫ কি: মি: দীর্ঘ এই মান্ধত্বা আমলের T-20 ট্যাংক ও আর্টিলারি যুদ্ধাস্ত্রের বহর রাশিয়া আর কোন কালেই নিজ দেশে ফেরত নিবে না ।  যুদ্ধের পর যা কিছু থেকে যাবে, তা হয় ইউক্রেনে ঘাটি গেড়ে রেখে দিবে, নয়তো অন্যকোন দেশ আক্রমণে ব্যবহার করবে রাশিয়া। 


রাশিয়া হেরে যাচ্ছে, অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, একসপ্তাহে যে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় সেই যুদ্ধ একমাস পার হয়ে গেলেও রাশিয়ার প্রাপ্তি সামান্যই~ইত্যাদি~ইত্যাদি~~ 

এসবই আমেরিকা ও মিত্রদের প্রপাগান্ডা, যাতে পুতিন পুরনো অস্ত্র ছেড়ে আধুনিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার শুরু করে। রাশিয়ার আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার যত খালি হবে ন্যাটো ততই সস্তি পাবে। 

সমস্যা হচ্ছে রাশিয়ার আধুনিক অস্ত্র ভান্ডার প্রায় পুরোটাই অক্ষত এখনও, একারণেই আমেরিকা সহ ন্যাটো জোট এতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এবং ন্যাটোভুক্ত সকল দেশ আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক অস্ত্র সহ নিজেদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে~ এমন কি ন্যাটো ধরেই নিয়েছে যে রাশিয়া ইউক্রেনে থিতু হয়ে পোল্যান্ডে আক্রমণ চালাবে, মূলতঃ এই বিষয়ে আলোচনা করতে, প্রস্তুতি নিতে এবং পোল্যান্ড কে সাহস দিতে বাইডেন ইউরোপ তথা পোল্যান্ড সফরে আসছেন।


সবথেকে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, আমেরিকা সহ পশ্চিমা মিডিয়া জিকির তুলেছে যে রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে আসছে, রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে~

সেক্ষেত্রে আমার একটি প্রশ্ন আছে ~


গত প্রায় ২০/২৫ বছর যাবত রাশিয়া প্রতিবছর প্রায় ১৫/২০ হাজার কোটি ডলার করে সামরিক খাতে ব্যয় করে আসছে, নিশ্চয় এই টাকার উল্যেখযোগ্য একটি অংশ অস্ত্র নির্মাণে ব্যয় করেছে রাশিয়া ? 

তাহলে এই অস্ত্রগুলো কোথায় গেলো ? 


নিশ্চয় পুতিন তার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোকে টাইম মেশিনে ১৯৫০/৬০ এর  দশকে পাঠিয়ে দিয়ে T_72 এর মত ট্যাংক আর রকেট লঞ্চার তৈরি করেন নি ? 

নিশ্চয় তিনি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতেই উক্ত টাকা ব্যয় করেছেন ? 

তাহলে সেগুলো গেলো কোথায় ?

উত্তর: ন্যাটোর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে সেগুলিকে সংরক্ষণ করছে রাশিয়া~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...