Skip to main content

ইউক্রেন কে বলির পাঠা বানিয়ে কার কি লাভ/ক্ষতি হতে যাচ্ছে ? বিশেষ করে আমেরিকার ?

 ইউক্রেন কে বলির পাঠা বানিয়ে কার কি লাভ/ক্ষতি হতে যাচ্ছে ?

যদিও এখনও সঠিক ভাবে বলার সময় আসে নি যে ইউক্রেন থেকে কার কি লাভ/ ক্ষতি হচ্ছে; তবে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলি থেকে যা কিছু বোঝা যাচ্ছে ~

#আমেরিকা:

এ বিষয়ে হয়তঃ বিশ্বের কোন মানুষেরই বুঝতে বাকি নেই যে, ইউক্রেনকে কে বলির পাঠা বানিয়েছে ? কিন্তু কেন ইউক্রেনকে বলির পাঠা বানানো হলো ? ইউক্রেনে আমেরিকার লাভ/ক্ষতি বুঝতে হলে অতীতের কিছু বিষয় জানতে ও বুঝতে হবে`

১.

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এর বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান; ফলশ্রুতিতে এরদোয়ান এর রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক তৈরি~

২. 

দীর্ঘমেয়াদি ইরাক আগ্রাসনে সুবিধা করতে না পারা, এমনকি শেষ পর্যন্ত শত্রু রাষ্ট্র ইরানের বলয়ে ইরাকের চলে যাওয়া ~

৩,

গাদ্দাফিকে অপসারণ ও হত্যা করতে পারলেও লিবিয়া পুনর্গঠনে ব্যর্থতা~

৪.

রাশিয়ার কারণে সিরিয়ায় বাসার সরকারের পতন ঘটাতে  ব্যর্থতা এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া~

৪.

বিভিন্ন কারণে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সাথে  সম্পর্কের অবনতি ও উক্ত রাষ্ট্র দ্বয়ের চীন মুখী নীতি গ্রহণ~

৫.

দীর্ঘ ২০ বছর আগ্রাসন চালিয়েও শেষপর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে দৃষ্টিকটু ভাবে পশ্চাদপসরণ~

৬.

গত ট্রাম্প আমলে ন্যাটো এর বন্ডিং অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। বর্তমান বাইডেন আমলে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সাবমেরিন ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স এর সাথে আমেরিকার সম্পর্ক তলানিতে চলে যায়, যার ফলে ন্যাটো এর ভাঙ্গন অনেকটাই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়~

৭.

অর্থনৈতিক ভাবে চীনের উত্থান এবং চীন ও রাশিয়ার সীমাহীন বন্ধুত্ব, তাছাড়া হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তিতে উক্ত দুই দেশের আশাতীত অগ্রগতি; পক্ষান্তরে আমেরিকার ব্যর্থতা ~


উপরোক্ত বিষয়গুলো বিশ্বদরবারে আমেরিকার মোড়ল গীরি অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে~

বিশেষ করে ন্যাটোতে ভাঙ্গনের সুর আমেরিকাকে অনেকটাই বিচলিত করে তোলে, কারণ ন্যাটো শুধু আমেরিকার মোড়ল গীরী ফলানোর প্ল্যাটফর্মই নয়; আমেরিকার অস্ত্র বাণিজ্যের এক বিশাল বজারও বটে~

এমন একটি প্ল্যাটফর্ম ভেঙ্গে যাওয়া এবং বাজার তছনছ হয়ে যাওয়া অস্ত্র ব্যবসায়ীদের জন্য যে বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতো; সে বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। তাছাড়া এসব অস্ত্র ব্যবসায়ীদের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক কিছুই নির্ভর করে; এমন কি ক্ষমতায় থাকা /নাথাকা পর্যন্ত~


এই পরস্থিতিতে নানাবিধ উদ্যেশ্য হাসিল করতেই অনেক প্ল্যান/প্রোগ্রাম এবং অর্থ ব্যয়ে ইউক্রেনে পুতুল সরকার কায়েম; অতঃপর ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে রাশিয়াকে দিয়ে ইউক্রেনে আগ্রাসন পরিচালনা~


* প্রথম ও প্রধান উদ্যেশ্য ইউরোপে রাশিয়া ভীতি পুনরুজ্জীবিত করে ন্যাটো এর উপযোগিতা বুঝিয়ে দেয়া এবং ন্যাটোকে সুসংহত করন। বলা যায় এক্ষেত্রে আমেরিকা ১০০% সফল। 

* ঝিমিয়ে পড়া অস্ত্র ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করন। এক্ষেত্রেও আমেরিকা সফল। উল্লেখ্য; শুধুমাত্র জার্মানী এই অর্থবছরে ১১৩ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় ঘোষণা করেছে, যার অধিকাংশই আমেরিকার কোষাগারে ঢুকবে। অন্যান্য দেশের হিসেব নাই বা উল্লেখ করলাম~


মূলতঃ ফুসলিয়ে-ফসলিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে যুদ্ধে জড়ানোতে আমেরিকার কোনোই লস নেই; কারণ এ যুদ্ধে রাশিয়ার জয় বা উত্থান হলে ইউরোপ,অস্ট্রেলিয়া জাপান সহ বিশ্বের একটি বড় অংশ আমেরিকার উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, এমন কি স্নায়ু যুদ্ধকালীন সময়ের মত রমরমা ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে, যা আমেরিকার করোনা কালীন ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে সহায়তা করবে।


আবার রাশিয়া যদি আশানুরূপ ভাবে জয়ী না হয়, অবরোধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যদি ভেঙ্গেপরে অর্থাৎ রাশিয়া যদি উল্টো বুর্বল হয়ে পড়ে; সেক্ষেত্রেও একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার মোড়ল গিরী আরও অনেকদিন নিশ্চিত হয়ে যাবে, কারণ চীন বলয় তখন রাশিয়ার কারণেই পিছিয়ে যাবে সবকিছু থেকে~


এখানে মারা পড়ছে ইউক্রেন নাগরিক, ধ্বংস হচ্ছে ইউক্রেনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার, অস্ত্র/গোলা/বারুদ/সৈন্য খোয়া যাচ্ছে রাশিয়ার, অবরোধের স্বীকার হচ্ছে রাশিয়া~ এখানে আমেরিকার ক্ষতি কোথায় ???


হ্যা আমেরিকারও লস হতে পারে, তবে সেটি বোঝা যাবে পড়ে~

ইউরোপ যদি রাশিয়া থেকে রুবোলে গ্যাস তেল কিনতে বাধ্য হয়, ইন্ডিয়া যদি রুপিতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করে, চীন যদি ইয়েন ও রুবলের বিনিময়ে রাশিয়ার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করে, সৌদি ও আরব আমিরাত যদি চীন ও রাশিয়ার সাথে দিনার, ইয়েন ও রুবলের মাধ্যমে সমস্ত লেনদেন শুরু করে, তাহলে অবশ্যই আমেরিকার ডলার বিশ্ব বাণিজ্যে বড় একটা ধাক্কা খাবে। পেট্রোডলার তার অবস্থান হারাবে। একক বিশ্ব মুদ্রা হিসেবে ডলার তার অবস্থান হারাবে ~


আমেরিকা নিজে  না জড়াতে চাইলেও পোল্যান্ড, গ্রিস ও তুরস্ক'কেউ এই যুদ্ধে জড়ানোর পাঁয়তারা করেছিল কিন্তু সেটি সম্ভব হয় নি ~

আরেকদিন এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে~

বি: দ্রঃ 

ইউক্রেন, রাশিয়া ও ইউরোপের এই যুদ্ধে লাভ/ক্ষতি পরবর্তী পোস্টে~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...