Skip to main content

পক্ষপাতদুষ্ট জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক

 তুমি কি সেই আগের মতই আছো? না-কি বদলে গে--ছো ? খুব জানতে ইচ্ছে করে~

অলস শুক্রবারে শুয়ে শুয়ে মান্নাদের গান শুনছিলাম~

হটাৎ জাতিসংঘ আর বিশ্ব-ব্যাংক এর কথা মনে পড়ে গেলো~

উল্লেখ্য; এই  সংস্থা দুইটি সম্পর্কে বিশ্ববাসীর একটি গ্রহণযোগ্য বৈশ্বিক ধারণা এতদিন ছিল, কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুতে এই সংস্থা দুটির কার্যকলাপে মানুষের সেই ধারণায় অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে~

সাধারণ মানুষের মতো 'রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান' সহ অনেক রাষ্ট্রনায়কেরাও ভাবতে শুরু করেছে~

জাতিসংঘ ও বিশ্ব-ব্যাংক ন্যাটোর মতো পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষাকারী সংস্থায় পরিণত হচ্ছে না তো ?-?-?


যে কার্যকলাপ গুলির কারণে সংস্থা দুইটি এরূপ প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে ?-----

* এপর্যন্ত জাতিসংঘ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে,আগ্রাসী বাহিনী বা দেশের প্রতি নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে, মোট দুইবার বিশেষ সাধারণ সভা আহবান করেছে; ১৯৮২ ও ২০২২ সালে । মূল উদ্যেশ্য ছিল রাশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে একটা প্লাটফর্মে দাড় করানো। 

২০০১, ২০০৩ ও ২০১১ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় আগ্রাসন চালালেও জাতিসংঘ এরূপ কোন উদ্যোগ নেয় নি। 

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন তো জগতেই পারে যে, জটিসংঘ কি রাশিয়া বিরোধী কোন পশ্চিমা জোট ???

তাছাড়া যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করে জাতিসংঘ ইউক্রেন কে ১৭০ কোটি ডলার সহায়তা করার উদ্যোগ নিলেও; অদ্যবধি আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন বা ফিলিস্তিন এর জন্য যুদ্ধকালীন সময়ে এরূপ সহায়তার কোন উদ্যোগ নেয়নি। 

ধরা হয় শুধু সিরিয়া'ই যুদ্ধের কারণে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এর বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, অন্যান্য দেশগুলির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর নাই বা উল্লেখ করলাম ?

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন তো উঠতেই পারে জাতিসংঘ কি কোন পশ্চিমা জোট ? যার দায়িত্ব শুধু পশ্চিমাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা ?


এবার আসি বিশ্ব ব্যাংকের কোথায়~

ইউক্রেন যুদ্ধের ৬ দিনের মাথায় তারা ইউক্রেনকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, সহজ শর্তে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে ইউক্রেনকে এই সংস্থাটি। কিন্তু অতীত ইতিহাসে যুদ্ধকালীন সময়ে এই সংস্থাটি অন্যকোন দেশের সহায়তায় এভাবে এগিয়ে আসেনি। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন বা ফিলিস্তিন ইত্যাদি  দেশ কখনোই যুদ্ধকালীন সময়ে এই সংস্থা থেকে এরূপ সহায়তা পায় নি । উল্টো আফগানিস্থান সহ অনেক দেশেই যুদ্ধকালীন সময়ে পূর্ব প্রতিশ্রুত ঋণ বা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে এই সংস্থাটি।

সেক্ষেত্রে তো প্রশ্ন জাগতেই পারে, বিশ্বব্যাংক কি পরিবর্তিত হয়ে পশ্চিমা ব্যাংক হতে যাচ্ছে ?


একারণেই জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংককে উদ্যেশ্য করে  মান্নাদের গানের সাথে তাল মিলিয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছে~

তুমি কি সেই আগের মতই আছো, নাকি ব-দ-লে গে-ছো ?? খুব জানতে ইচ্ছে করে আমার জানতে ইচ্ছে করে ~ ~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...