বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে যে কারণে~
১) বিশ্বের সবথেকে বড় ও সর্বাধুনিক ২ টি বিমান বাহিনীর ১ টি হয়েও পুতিনের বিমানবাহিনীকে ব্যবহার না করে ভবিষ্যতের আরও বড় যুদ্ধের জন্য রেখে দেয়া~
২) বিশ্বের সবথেকে অত্যাধুনিক ও কার্যকরী ক্ষেপণাস্ত্র বহরকে এখনও সেভাবে ব্য৩য় বহার না করে ভবিষ্যতের আরও বড় যুদ্ধের জন্য রেখে। দেয়া~
৩)উল্লেখ্য; এখন অব্দি মাত্র ১৮০ টি নিম্ন ও মাঝারি মানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এফেকটিভ ও কার্যকরী ক্রুজ/ব্যালেস্টিক/হাইপারসনিক মিসাইল গুলি ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেয়া ~
৪) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির যুদ্ধের কায়দায় সৈন্য ও ট্যাংক বহর কে কাজে লাগানো, কারণ ন্যাটোর মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রে সমৃদ্ধ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে মূলতঃ এই ট্যাংক ও সৈন্য বহর তেমন কোন কাজেই আসবে না। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতি একটু বেশি হলেও সনসমনি যুদ্ধে অনভিজ্ঞ ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের বড় যুদ্ধের জন্য অভিজ্ঞ করে তোলা। মৃত আর ইউক্রেনীয় দের হাতে ধরা পরা নাদান যোদ্ধারা যে ন্যাটোর সাথে যুদ্ধে কোন কাজেই আসবে না সে বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়া। মূলতঃ এসব অকার্যকর যোদ্ধারা ছাঁটাই হয়ে টিকে থাকা অভিজ্ঞ ও কার্যকরী যোদ্ধাদের দিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়া। ইউক্রেন যুদ্ধকে অনেকটা নিজ পদাতিক বাহিনীর জন্য শুদ্ধি অভিযান হিসেবে গ্রহণ করার মতো পুতিনের মনোভাব~
৫) সামর্থ্য থাকতেও ইউক্রেনের বিমান বাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ও পদাতিক বাহিনীকে ধ্বংস করে না বিয়ে নিজ বাহিনীর সাথে সামনা সামনি যুদ্ধ করার সুযোগ দেয়া~ অনেকটা নিজের বাহিনীকে হাতে কলমে ফিল্ড প্রাকটিস এর সুযোগ করে দেয়া যাতে ভবিষ্যতের সর্বাত্মক যুদ্ধে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়~
৬) বিশ্বের সর্বাধিক ৩ টি নৌবাহিনীর একটি হয়েও সেভাবে নৌ শক্তিকে কাজে না-লাগানো এবং রাশিয়ার গর্ব সাবমেরিনকে সেই অর্থে ব্যবহার না করে ভবিষ্যতের জন্য বসিয়ে রাখা~
৭) স্যাটেলাইট ডেস্ট্রয়ার ও সাইবার অ্যাটাক বাহিনীকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য বসিয়ে রাখা~
৮) S-400 সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক Air defence system ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার না করে রাশিয়া ও বেলারুশে মোতায়েন করে রাখা~
৯) রাজধানী সহ পুরো ইউক্রেনের পতন বা দখলের পরিবর্তে নিউক্লিয়ার প্লান্টগুলি দখলে অগ্রাধিকার দেয়া~
১০) বিশ্বে প্রথম বারের মত নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে সরাসরি আক্রমণ করা, যা এযাবৎকালে আমেরিকাও কখনো চিন্তা করেনি। কারণ নিউক্লিয়ার প্লান্ট বিস্ফোরণ আর নিউক্লিয়ার বোমা বিস্ফোরণে'র মধ্যে আসলে তেমন কোন পার্থক্য নেই। এই আক্রমণ দিয়ে কি পুতিন এটাই বোঝাতে চাইলেন কি-না যে, নিউক্লিয়ার যুদ্ধ নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন~
১১) নিউক্লিয়ার বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখার জন্য পুতিনের নির্দেশনা~
১২) তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পুনরায় পরমাণু অস্ত্রের ব্যাবহারের প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলন~
১৩) ইচ্ছেকৃত যুদ্ধের ধীরগতি এবং সময়ক্ষেপণ করা ~
যেখানে যুদ্ধের বিশাল-ব্যয় সীমিত রাখতে আগ্রাসন কারি বাহিনী সবসময় সীমিত সময়ে যুদ্ধ শেষ করার কৌশল গ্রহণ করে থাকে, সেখানে পুতিন ইচ্ছেকৃত ভাবে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলিকে অসহিষ্ণু করে তুলে অথবা ইউক্রেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অনেকটা সফলতা দেখিয়ে, ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের সরাসরি অংশ নিতে প্রলুব্ধ করা~ অর্থাৎ যুদ্ধকে দ্বিপাক্ষিক না রেখে বহুপাক্ষিক করে দিয়ে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করা~
১৪) পুতিনে'র সবশেষ বক্তব্য~ "পুতিন আর রাশিয়া বিহীন পৃথিবীর প্রয়োজন আছে কি ?"
তার এই বক্তব্যের ভিতরেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উনি এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন অবরোধ দিয়ে হোক আর যুদ্ধ করেই হোক ? পুতিন বা রাশিয়ার পতন নিশ্চিত হলে, উনি সারা পৃথিবী ধ্বংস করতেও পিছপা হবেন না। কারণ মি: পুতিনের নিকট এই পৃথিবী নামক গ্রহটি কয়েকবার ধ্বংস করার মতো মারণাস্ত্র এখনও আছে~
কাজেই না বুঝে যারা হাউকাউ করছেন, অবরোধ দিচছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। যেভাবেই আপনারা পুতিন এবং রাশিয়া'র পতন ঘটাতে চান না কেন ? (সেটি হতে পারে যুদ্ধের মাধ্যমে, হতে পারে অবরোধের মাধ্যমে) তাতে শুধু পুতিনে'র বা রাশিয়া'র পতন ঘটবে না , পুরো বিশ্বের-ই পতন ঘটতে পারে সেক্ষেত্রে। অর্থাৎ পুরো বিশ্বকেই ধ্বংস করে দিতে পারে এই পাগলাটে পুতিন~
কাজেই সময় থাকতে সুধী সাবধান হয়ে যাও~
১৫) প্রথমেই পদাতিক বাহিনী ব্যবহারে যে নিজদেশে'র সেনাসদস্যদের হতাহতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, এটা পুতিনের অজানা থাকার কথা নয়; তাছাড়া নিজদেশে বিমানবাহিনী ব্যবহার না করা এবং ইউক্রেন এর বিমানবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন না করা, যে রাশান সৈন্যদের হতাহতের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিবে, সেটিও নিশ্চয় পুতিনের অজানা নয়; এর আগেও পুতিন বিষ/গ্যাস প্রয়োগ সহ নানাবিধ উপায়ে নিজ/ভিন্ন দেশের বহুত মানুষকে হত্যা করেছে~
অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি~ নিজদেশের বা শত্রুদেরশের সৈন্য হতাহত বা মানুষের মৃত্যু নিয়ে পুতিনের তেমন কোন মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। পুতিনের মাথায় শুধু একটি বিষয়ই থাকে সবসময়, সেটি হলো নিজের ও রাশিয়ার মর্যাদা ও শক্তিমত্তা সমুন্নত রাখা। এই দুইটি বিষয়ের যে-কোনটি'র জন্য পুতিন পারে না~ এমন কোন কিছু নেই । পশ্চিমারা যেভাবে পুতিন ও রাশিয়াকে চেপে ধরতে চাইছে, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে, অর্থাৎ তৃতীয় বা পারমাণবিক যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলতে পারে পুতিন। সজ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট-এ আক্রমণ করার পারমিশন দিয়ে পুতিন কিন্তু সেরকম ইঙ্গিত অলরেডী দিয়ে দিয়েছেন~
কাজেই সময় থাকতে সুধী সাবধান~
Comments
Post a Comment