সঙ্গত কারণেই ইউক্রেন যুদ্ধে উল্টো হওয়া বইতে শুরু করেছে~
শুরু হতে যাচ্ছে স্নায়ু-যুদ্ধ বা শীতল-যুদ্ধ পরিস্থিতি~
শেষ হতে চলেছে দুর্বল রাষ্ট্রের উপর আমেরিকার একক সিদ্ধান্তে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের দিন~
আমেরিকা'র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা যে রাশিয়ান অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি; সেকথা অনস্বীকার্য। এমনকি রাশান মুদ্রা রুবলে'র দামের পতনও আশানুরূপ ভাবে ঘটাতে পারেনি আমেরিকা। ফলশ্রুতিতে যুদ্ধের গতিতো কমেই নি; বরং বেসামরিক মৃত্যু কমাতে বিমান বাহিনী ব্যবহার না করা এবং যুদ্ধবিরতি সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায়; পুতিন বা রাশিয়ার সুনাম গাইতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী~
আগেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী-কে ইউক্রেন ইস্যুতে সাবধান করে দিয়েছিলেন।
এবার রাশিয়ার বিপক্ষে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে চীন সরাসরি ফ্রান্স ও জার্মানি-কে সাবধান করে দিলেন। বলেদিলেন রাশিয়া স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ; বিধিনিষেধ আরোপ করে ইউরোপ নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছে ~
চীন যে এইসব বিধিনিষেধ এর তোয়াক্কা করবে না, সেবিষযটিও জানিয়ে দিয়েছেন অকপটে~
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইউক্রেন ইস্যুতে অলরেডি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এক হাত নিয়েছেন। তাদের পাকিস্তানকে ইউক্রেন ইস্যুতে গৃহীত পদক্ষেপে নাক না গলাতে বলেছেন ~
ভারতও ইউরোপীয় ইউনিয়নেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটাবেন না অর্থাৎ রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছেদ করবে না ~
ইউক্রেন পরিস্থিতিতে তেলের জন্য ভেনিজুয়েলার দ্বারস্থ হয়েও সুবিধা আদায় করতে পারেনি আমেরিকা।
উল্টো বাইডেনের ফোন সৌদি আরব ও আরব আমিরাত রিসিভ করছে না ~!!!!~
এ এক বিস্ময়কর ঘটনা বটে~ রাশিয়ার উত্থান ও ইউক্রেনের পরিণতি সৌদিআরব ও আরব আমিরাতকে যে এরূপ দুঃসাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই~
একটি মুসলিম দেশও আমেরিকা তথা ন্যাটোর পক্ষাবলম্বন করে নি, এটি একটি বিস্ময় জাগানিয়া খবর বটে !~!
এদিকে আমেরিকার রাশিয়ান তেলের উপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে, রাশিয়ার তেল/গ্যাস বন্ধের হুমকিতে ইউরোপে বিভক্তির রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে~
ইউরোপের সাথে আমেরিকার দুরত্ব ক্রমেই বাড়ছে~
আমেরিকার রাশান তেলের উপর নিষেধাজ্ঞায়, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার ক্রস করলে এই বিভক্ত যে অন্যরূপ ধারণ করবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই~
রাশিয়ার ভয়ে অথবা বেশি দামের আশায় যে, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইরান ও ভেনিজুয়েলা অতিরিক্ত তেল উত্তোলনে রাজি হবে না, একথা বুঝতে জ্ঞানী হওয়ার দরকার পড়ে না~
আমেরিকার সবথেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র ইজরাইলও আমেরিকার অনুরোধে ইউক্রেনকে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে রাজি হয় নি~
প্রথমে আমেরিকা পোল্যান্ড কে মিগ ২৯ বিমান ইউক্রেন কে দিতে বলেছিল, পরবর্তীতে পোল্যান্ডের সরাসরি ইউক্রেনকে মিগ২৯ বিমান না দিয়ে আমেরিকার হাতে দিতে চাওয়ায় (যাতে আমেরিকা ইউক্রেনকে সরবরাহ করে) এখন স্বয়ং আমেরিকাই পিছুটান দিয়েছে। কোন ভাবেই তারা রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। পোল্যান্ড ন্যাটো সদস্য দেশ হওয়ায় পোল্যান্ডের এই উদ্যোগ আমেরিকা তথা ন্যাটোকে বিপদে ফেলতে পারে বলেই আমেরিকা মনে করে~
এর আগে ভলদেমির জেলেনোষ্কির ইউক্রেনের আকাশকে "নো ফ্লাই জোন" ঘোষণার বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছিল আমেরিকা~
এহেন পরিস্থিতিতে ভলদেমির জেলেনোস্কি ন্যাটো জোটে অংশ নেয়ার আগ্রহ থেকে সরে এসেছেন!🤔😇
তিনি বলেছেন যে ন্যাটো রাশিয়াকে সামনাসামনি ফেস করতে ভয় পায়, আর এরূপ ভীত একটি সংগঠনের সদস্য কোন দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি থাকতে চান না।
এমনকি রাশিয়া যে দুই শহরকেন্দ্রিক অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করেছেন; সেক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখাচ্ছেন মি: ভলদেমির জেলেনোস্কি , অর্থাৎ তিনি সেটিও মেনে নিতে যাচ্ছেন।
এক কথায় বলা যায়; মি: ভলদেমির জেলেনোস্কি বুঝতে পেরেছেন যে ন্যাটো তাকে গ্যাছে তুলে দিয়ে মই টান দিয়েছেন~
ইউক্রেন ধ্বংসে ন্যাটোর বা আমেরিকার কিছুই
আসে/যায় না ~
ন্যাটোর উদ্যেশ্য মূলতঃ রাশিয়াকে দুর্বল করা বা নিঃসংগ করা, কারণ ন্যাটো বা আমেরিকা রাশিয়াকে ভয় পায় ~
কিন্তু বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে আমেরিকা বা ন্যাটোর সেই আশাতেও যে গুড়েবালি তা "ভলদেমির জেলেনোস্কি" দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন।
কারণ ভারত ও চীনের অর্থনীতি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর অর্থনীতির কয়েকগুণ, তাছাড়া আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্কের মত দেশও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন করেছে~
এক্ষেত্রে রাশিয়া, চীন ও ভারত swift এর বিকল্প চায়না'র উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতিতে লেনদেনের ঘোষণা দিয়েছে ~
এক কথায় ইউক্রেন যুদ্ধ যে বৈশ্বিক হাওয়া উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে~ সেকথা দেরিতে হলেও ভলদেমির জেলেনোস্কি বুঝতে পেরেছেন।
√ √ সাধুবাদ ভলদেমির জেলেনোস্কি কে দেরীতে হলেও বৈশ্বিক হাওয়া বদল বুঝতে পারার জন্য~
√ √ স্বাগতম মি: পুতিনকে বৈশ্বিক হাওয়ার গতিপথ বদলে দেয়ার জন্য~
* বিশ্বের প্রতিটি দেশ; প্রতিটি মানুষ; যুদ্ধবাজ একক নেতৃত্ব থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়~
* ডাবল নেতৃত্ব কে ব্যালান্স করে দুর্বল দেশগুলি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায়~
Comments
Post a Comment