কেন এই মিথ্যাচার ?
কেন শুধু শুধু পশ্চিমা মেডিয়ার চামচামি ?
আদৌ কি কোন লাভ আছে জেনেবুঝে অন্যের মিথ্যাচারে সুর মিলানোয়?
বলছিলাম আমাদের দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোর কথা।
বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া গুলো যেন পশ্চিমা মিডিয়া গুলোর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে~
অনেকটা যেন প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে কে কতভাবে পশ্চিমাদের খুশি করতে পারে ? এমন কি দুইদিন আগের খবর যখন ভুয়া বা মিথ্যাচার হিসেবে বিদেশী কোন কোন মিডিয়ায় স্বীকার করে নেয়া হচ্ছে তখনও তা বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া চেপে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে এগিয়ে jamuna TV বা যমুনা প্রচার মাধ্যম। ইউক্রেনের মারিওপলের সুলতান সুলেমান মসজিদ ধ্বংস, "ঘোস্ট অফ কিয়েভ", তুরস্কের TB2 ড্রোন কর্তৃক রাশিয়ার ট্যাংক ধ্বংসের ভিডিও, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান ইত্যাদি মিথ্যাচার গুলি আমি কয়েকদিন আগের পোস্টে শেয়ার করেছি।
গত তিন চার দিন হলো প্রচার করা হচ্ছিল যে রাশিয়ার সৈন্য বাহিনীর রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, ইউক্রেনের আর্মি কিয়েভের চারপাশে অবস্থানরত রাশান সৈন্যদের ঘেরাও করে ফেলেছে, তারা পরাজিত হতে যাচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি ~
আজকে আবার প্রচার করা হচ্ছে যে রাশান আর্মি কিয়েভ ঘেরাও করে রাখায় ভিতরে অবস্থানরত ইউক্রেনিয়ান সন্যদের রসদ সরবরাহ করা যাচ্ছে না, রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে যুদ্ধের জন্য রক্ষিত ফান্ডের ৯৩% শেষ হয়ে গেছে কাজেই এই যুদ্ধ আর বেশিদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়~
আবার ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনোস্কি ইকোনমিস্ট কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল বলছেন যে, বিপুল পরিমাণে রাশান আর্মি নতুন করে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢুকছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় এক খোরসান নগরীতে ২০০০ এর উপর মিসাইল আক্রমণ চালিয়েছে; এমতাবস্থায় পশ্চিমারা সঠিক ভাবে এগিয়ে না আসলে তাদের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়~
আজকে হয়তো আবার পশ্চিমা মিডিয়াসহ বাংলাদেশী মিডিয়ায় এর উল্টো কাহিনী শুনব বা শোনানো হবে~, কারণ জেলেনোস্কীর এরকম স্বীকারোক্তি বহুবার পশ্চিমা মিডিয়া এমনকি পরবর্তীতে ইউক্রেন মিডিয়াও নাকচ করে দিয়েছে বহুবার।
বোঝাই যায় জেলেনোস্কী পশ্চিমাদের পক্ষ হতে খুব চাপের মধ্যে আছেন, পরিস্থিতি সাপেক্ষে তিনি কোন কিছু বললেও পশ্চিমাদের চাপে পরবর্তীতে তিনি আবার সেখান থেকে ফিরে আসেন।
রাশিয়ার দেয়া শর্ত তিনি অনেকগুলি মেনে নিচ্ছেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েও পরবর্তীতে আবার সেখান থেকে পিছপা হয়েছেন বহুবার। একারণে রাশিয়াও আর তার কথার খুব একটা মূল্যায়ন করছেন না ইদানিংকাল।
বলাই বাহুল্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও তদনুযায়ী নেয়া পদক্ষেপের ফসল এই যুদ্ধ~
যুদ্ধের ফিল্ড হিসেবে ইউক্রেন ব্যবহৃত হলেও যুদ্ধে লিপ্ত মূলতঃ রাশিয়া ও ন্যাটো; আরও স্পেসিফিক ভাবে বলতে গেলে এই যুদ্ধের প্রতিপক্ষ মূলতঃ আমেরিকা ও রাশিয়া, কিন্তু যুদ্ধের ময়দান হচ্ছে ইউক্রেন।
অনেকটা আগের দিনের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধের মতো, যেখানে দুই পক্ষ ঘোষণা দিয়ে একটি ময়দানে যুদ্ধে লিপ্ত হতো~
আফসোস যে দুই পরাশক্তির বলি হচ্ছে শান্তিপ্রিয় এক জনগোষ্ঠী "নিরীহ ইউক্রেনিয়ান" ~
এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শুরু মাসখানেক আগে হলেও, ক্ষেত্র তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই, বলাযায় সিরিয়ায় রাশিয়ার বাহিনী উপস্থিত হওয়ার পর থেকে~
এই যুদ্ধের পিছনের কারিগররা অনেক দীর্ঘ মেয়াদী প্ল্যান ও প্রোগ্রাম নিয়ে নেমেছেন, কাজেই জেলেনোস্কির মত পুতুল রাষ্ট্র নায়কের স্বীকারোক্তি বা আপোষ রফায় কোন কিছু যায় আসে না।
এখানে যেমন আমেরিকার অনেক হিসাব নিকাশ আছে, তেমনই রাশিয়ারও অনেক হিসাব নিকাশ আছে, এই দুই পক্ষের হিসাব/নিকাশ এবং চাওয়া/পাওয়া যখন এক বিন্দুতে মিলবে তখনই যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে যাবে~
অন্যথায় গতি কমিয়ে আসলেও চালু থাকবে এই যুদ্ধ~
কিন্তু অদ্যবধি গতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং সবেমাত্র রাশিয়া তার আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে বলা যায়~
লভিভ ও খোরাসান শহরে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র গুলি তারই প্রমাণ দেয়।
বলা যেতে পারে~ এই যুদ্ধ শুধু মাত্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নয়; বরং স্নায়ু-যুদ্ধ বা শীতল-যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর যুদ্ধ এটি, বিশ্বকে নতুনভাবে মেরুকরণের যুদ্ধ এটি~
সংগত কারণেই এই যুদ্ধের গতি প্রকৃতির দিকে সচেতন মহলের দৃষ্টি অতি তীক্ষ্ণ। এই যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ যেখানে হারজিতের মাধ্যমে ফয়সালা না হয়ে সর্থ্য-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ভিত্তিতে ফয়সালা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি~
যুদ্ধে কোন পক্ষই সত্যি কথা বলে না~ এটাই সর্বাংশে সত্যি। তার পরেও আমরা তৃতীয় পক্ষ যারা, তারা সত্যের কাছাকাছি কিছু একটা শুনতে চাই, ডাহা মিথ্যা শুনতে চাই না, অথবা এক পক্ষীয় বা পক্ষপাত দুষ্ট কোন সংবাদ আমরা শুনতে চাই না। ~
ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন এর সংবাদ মাধ্যমগুলো সত্যিকথা না বললেও আল-জজিরা বা তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম গুলি অনেকটাই নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করে যাচ্ছে ~
আমরা চাই আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যম গুলো তাদেরকে ফলো করুক~
নিদেনপক্ষে কোন প্রচারিত সংবাদ ভুয়া বা ভুল প্রমাণিত হলে তা পূর্বের ন্যায় গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হোক ~
সচেতন নাগরিক হিসেবে এটাই আমাদের কাম্য~
Comments
Post a Comment