Skip to main content

জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তথা সভ্য ইউরোপীয় ও আমেরিকানদের বর্ণবাদী আচরণ।

 #প্রেক্ষাপট: রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন।

>> আমেরিকান ও ইউরোপীয়দের সভ্যতার আড়ালে অসভ্য দ্বৈতনীতি এবং বর্ণবাদী আচরণ~

>> জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংকের মত বৈশ্বিক সংস্থা গুলির পক্ষপাতমূলক আচরণ~


এপর্যন্ত জাতিসংঘের হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৫৩৬ এবং গৃহহীনদের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। আজকে সম্ভবত যুদ্ধের ৭ম দিন। সমস্ত ইউরোপ ও আমেরিকান মিডিয়া ইউক্রেনিয়ানদের প্রতি সহানুভূতিশীল খবরাখবর প্রচার করছে। যুদ্ধের বিপক্ষে বললে ভুল হবে, আগ্রাসী রাশিয়ার বিপক্ষে সর্বত্র মিছিল মিটিং ও সমালোচনার ঝড় বইছে। যে যেভাবে পারছে ইউক্রেনের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। মিডিয়া ভলদেমির জেলেনস্কিকে সাহসী হিরো,অনেকটাই অতিমানব হিসেবে তুলে ধরছে।

সবথেকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যে বিষয়টি তা হলো জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়া; মূলতঃ এই বিশেষ অধিবেশন টি ডাকা হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। আরও স্পেসিফিক ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় ইউক্রেনের পক্ষে ও রাশিয়ার বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানান দেয়ার জন্যই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একইভাবে একই উদ্যেশ্যে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে~

এতক্ষণ যা কিছু বললাম তার সবকিছুই মানবতার পক্ষের কথা । মানুষ নির্যাতিতের পক্ষে নির্যাতনকারীর বিপক্ষে দাড়াবে সেটিই তো স্বাভাবিক। জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠান যেকোন নির্যাতিত জাতির পক্ষে এবং নির্যাতনকারীর বা আগ্রশনকারীর বিপক্ষে দাড়াবে সেটাই তো বিশ্বের সমস্ত জাতি আশা  করে । জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ধারক ও বাহক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশসমূহ ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে দাড়াবে, এটাই বিশ্ববাসী প্রত্যাশা করে।


#একটু_পিছন_ফিরে_দেখা_যাক ইতিহাস কি বলে ?

এর আগে যুদ্ধকালীন সময়ে নির্যাতিত জাতির পক্ষে এবং আগ্রাসী জাতির বিপক্ষে জাতিসংঘের এরূপ বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে ১৯৮২ সালে আফগানিস্থানে সোভিয়েত ইউনয়নের আগ্রাসন কালীন সময়ে। 

১৯৮২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত এই ৪০ বছরে জাতিসংঘ এইরূপ আর বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রজনিয়তা অনুভব করেনি, অর্থাৎ এই ৪০ বছরে জাতিসংঘের হিসেবে এরূপ আর কোন অনৈতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তৈরি হয়নি । জাতিসংঘ তো সকল জাতির জন্য একটি বৈশ্বিক সংস্থা, নিশ্চয় এসময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যকোন জাতি আগ্রাসনের শিকার হলে জাতিসংঘ এরূপ বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে উক্ত জাতির পক্ষে দাড়াতো ?


√ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর অ্যামেরিকা আফগানিস্থানে ন্যাটো বাহিনীর ছত্রছায়ায় আগ্রাসন শুরু করেছিল; যা পরবর্তী ২০ বছর ধরে চলমান ছিল।  ন্যাটো বাহিনীর নামে প্রায় ৮ লক্ষ সৈন্য এ আগ্রাসন বা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল; এ যুদ্ধে ৪৭ হাজার ২৪৫ জন বেসামরিক আফগান, ৬৬ হাজার আফগান সৈন্য ও পুলিশ এবং ৫১ হাজার ১৯১ জন তালেবান আফগান নিহত হয়েছিল । ২০ বছর ব্যাপী এই যুদ্ধকে জাতিসংঘের কাছে অনৈতিক কোন যুদ্ধ বা আগ্রাসন মনে হয়নি, অথচ এই আফগানিস্তানে যখন সোভিয়েত রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছিল তখন কিন্তু জাতিসংঘের কাছে ঠিকই তা অনৈতিক যুদ্ধ বা আগ্রাসন হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল!! সে কারণেই ১৯৮২ সালে আফগান যুদ্ধকে (সোভিয়েত রাশিয়ার আফগানিস্থানে আক্রমণ) কেন্দ্রকরে জাতিসংঘ বিশেষ সাধারণ অধিবেশন আহ্বান করেছিল, কিন্তু২০০১ সাল পরবর্তী প্রায় ২০ বছর ব্যাপী ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্থানে যুদ্ধে লিপ্ত থাকলেও জাতিসংঘের সময় হয়ে ওঠেনি বিশেষ অধিবেশন ডাকার !! তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ৫ দিনের মাথায় বিশেষ অধিবেশন ডাকার মত সময় কিন্তু জাতিসংঘের হয়েছে ।


√ আসুন ফিরে তাকাই ইরাক যুদ্ধের দিকে~

২০০৩ সালের ১৯শে মার্চ আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করে, এযুদ্ধে  ন্যাটো বাহিনীর প্রায় ১,৭৭,১৯৪ জন সৈন্য অংশ নিয়েছিল যার মধ্যে ১,৩৩,০০০ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য, ৪৫,০০০ ছিল ব্রিটিশ সৈন্য আর বাকিরা অন্যান্য দেশের। সর্বমোট ২১ দিনের সর্বাত্মক এই যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ১৫০,০০০ থেকে ১০ লক্ষের মত। আশ্চর্যের বিষয় ইউক্রেন যুদ্ধের ৫/৬ দিনে পাচশতাধিক মানুষের মৃত্যু জাতিসংঘের নিকট এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও প্রায় দশ লক্ষের মত ইরাকি মানুষের মৃত্যু কিন্তু জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে কোন গুরুত্ব পায়নি ? যে-কারনে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেন যুদ্ধের ৫ দিনের মাথায় বিশেষ সাধারণ অধিবেশন ডাকলেও, প্রায় ১ মাস স্থায়ী ইরাক_যুদ্ধ কালীন সময়ে এরূপ বিশেষ সাধারণ সভা  ডাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।


√ আসুন ফিরে তাকাই সিরিয়া যুদ্ধের দিকে~

২০১১ সালে আরব বসন্তের (পশ্চিমাদের উস্কানি বসন্ত) নামে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিভীষিকায় পড়ে সিরিয়ার জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার লোক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকল্যে সিরিয়ার জনগণের সাড়ে ১১ শতাংশই নিহত বা আহত হয়েছে। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বলা হয়েছে ১৯ লাখ। যুদ্ধ শুরুর আগে ২০১০ সালে সিরিয়ার মানুষের গড় আয়ু যেখানে ছিল ৭০ বছর, সেটাই ২০১৫ সালে নেমে দাঁড়ায় ৫৫ বছর ৪ মাসে। দেশটির অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

ইউক্রেন যুদ্ধের ৫ দিনের মাথায় জাতিসংঘ বিশেষ অধিবেশন ডাকলেও বছরের পর বছর ধরে চলা এই সিরিয়া যুদ্ধের জন্য অদ্যবধি জাতিসংঘ বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন অনুভব করে নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কথা আর নাই বা উল্লেখ করলাম?


√ উল্টো ঐ বছরই (২০১১ সাল) জাতিসংঘ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে ন্যাটো বাহিনীকে আগ্রাসন চালাতে অনুমতি দেয়; অদ্যবধি যে রাষ্ট্রে যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান। বলছিলাম লিবিয়ার কথা~

 সৈরচার পতনের নামে একটি সমৃদ্ধ জনপদ, জাতি ও দেশকে লন্ডভন্ড করে দেয়া হয়েছে। তাও আবার এই জাতিসংঘের তত্বাবধানে ¿


√ ফিলিস্তিন সংকটের শুরু সেই ১৯৪৮ সালে। এবছর সংগঠিত হওয়া ইহুদীদের সাথে আরবদের যুদ্ধটি আরবদের দৃষ্টিতে যা মহাবিপর্যয় হিসেবে পরিচিত। এরপর ১৯৬৭ সালে আরেকটি যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর, সিরিয়ার গোলান মালভূমি, গাযা, এবং মিশরের সিনাই অঞ্চল দখল করে নেয় এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব বসত ভিটা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করে। এরপর থেকে আর কখনোই তাদের বা তাদের বংশধরদের নিজস্ব ভিটেমাটিতে ফিরতে দেয়নি ইহুদীরা। ইসরায়েল এখনো পশ্চিম তীর দখল করে আছে। গাযা থেকে তারা যদিও সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে, জাতিসংঘের দৃষ্টিতে এটি এখনো ইসরায়েলের দখলে থাকা একটি এলাকা। উল্টো ইসরায়েল এখন পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী বলে দাবি করছে। গত ৫০ বছর ধরে ইসরায়েল এসব দখলীকৃত জায়গায় ইহুদী-বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। ছয় লাখের বেশি ইহুদী এখন এসব এলাকায় বসবাস করে।

অথচ অদ্যবধি জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কখনই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অধিবেশন তো দূরের কথা, জোড়ালো প্রতিবাদ করতেও দেখা যায়নি। 


জাতিসংঘ যে দুইবার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে সে দুইবারই প্রতিপক্ষ বা আগ্রাসী বাহিনী হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়া ছিল। আমেরিকা বা মিত্রদের ন্যাটো বাহিনীর আগ্রাসনে জাতিসংঘকে কখনোই এরূপ বিশেষ ভূমিকায় দেখা যায় নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে জাতিসংঘ কি ন্যাটোর মত অনুরূপ কোন পশ্চিমা জোট ? যাদের কাজই হচ্ছে শুধুমাত্র পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা ? 

আজকের খবরে দেখলাম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইউক্রেনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে, জাতিসংঘ ইউক্রেনের সহায়তার জন্য জরুরী ভিত্তিতে আরও ১৭০ কোটি ডলারের তহবিল চেয়েছে দাতা দেশগুলির কাছে। অথচ ইরাকী, ফিলিস্তিনী, সিরীয়,লিবীয় ও আফগানদের ক্ষেত্রে যুদ্ধাবস্থায় এই বিশ্বসংস্থা গুলোকে কখনোই এরূপ সহায়তা করতে দেখা যায়নি। উল্টো আফগানদের জন্য তাদের নিজস্ব ফান্ড আটকে রাখা হয়েছে, পূর্ব প্রতিশ্রুত ঋণ স্থগিত করেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। 

আজকে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ঠাই দেয়ার জন্য সব দেশ যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে~ অথচ সিরীয়, এশীয় ও আফ্রিকান শরণার্থীদের এই দেশ-গুলোতে ঢুকতে না দেয়ার কারণে অনেক শরণার্থীকে শীতে জমে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এমনকি ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের মধ্য হতে শেতাঙ্গদের নির্বিঘ্নে বর্ডার ক্রস করতে দেয়া হলেও এশীয় ও কৃষ্ণাঙ্গ ইউক্রেনীয়দের বেলায় নানাবিধ সমস্যা তৈরী করা হচ্ছে। এমন কি বসে/ট্রেনে উঠার ক্ষেত্রেও শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রায় ৬০ লক্ষ আফগান উদ্বাস্তু বা শরণার্থী, ৪০ লাখ সিরীয় শরণার্থী, ১৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং ইরাকী ও ফিলিস্তিনী-সহ বিশ্বের অন্যকোন শরণার্থীদের বেলায় ইউরোপকে কখনোই এত উদার হুস্ত হতে দেখা যায়নি । তাহলে কি এটা বর্ণবাদী আচরণ নয় ? সভ্য ইউরোপ কি এখনও অসভ্য বর্ণবাদী আচরণ থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছে ? 

টিভি ক্যামেরার সামনেও অনেক ইউরোপীয় কে বলতে দেখা যাচ্ছে যে ~ এরূপ আগ্রাসনের ঘটনা ইরাক, সিরিয়ার মত দেশে ঘটতে পারে, কিন্তু ইউরোপের মত সভ্য দেশে এরূপ আগ্রাসনের কথা উনারা ভাবতেই পারছেন না ?  অর্থাৎ ইরাক/সিরিয়া অসভ্য জাতি, তাদের উপর আগ্রাসন চালানো যেতেই পারে, কিন্তু ইউক্রেন তো সভ্য ইউরোপীয় দেশ, তাদের উপর কেন আগ্রাসন চালানো হবে ?

এটাই হচ্ছে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ধারক ও বাহক ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের ততোধিক সভ্য মানুষের সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ !!!

পশ্চিমা মিডিয়ার কথা আর কি বলবো ? উপরে উল্লেখিত যুদ্ধ গুলোতে আফগান, ইরাকী, সিরীয় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে এসব মিডিয়াকে কখনোই দাড়াতে দেখা যায় নি। উল্টো ইনিয়ে বিনিয়ে তাদেরকে প্রতিপক্ষ বা সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানো হয়েছে, পক্ষান্তরে ইউক্রেনীয় দের দেখানো হচ্ছে দেশপ্রেমিক হিসেবে। ফিলিস্তিনী জনগন পাথর ছুড়ে ইসরায়েলী বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তাদেরকে এসব মিডিয়া সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে, এখন ইউক্রেনীয় জনগন পেট্রোল বোমা বানিয়ে রাশিয়ার বাহিনীকে প্রতিহত করলেও তাদেরকে মহামতি দেশপ্রেমিক যোদ্ধা বলা হচ্ছে~ 

কিন্তু কেন এমন দ্বৈতনীতি ? কেন একই বিষয়কে কেন্দ্র করে একজনকে ভিলেন আবার অপরজনকে নায়ক বানানো হচ্ছে? এটাই কি শিক্ষা ও সভ্যতার মাপকাঠি ?

অনেকেই আমার এই লেখায় ইউক্রেনের বিপক্ষ এবং রাশিয়ার পক্ষ দলে ভাবতে পারেন, কিন্তু আমি আসলে তা নই। আমি সমস্ত আগ্রাসন, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরোধী। ইউরোপীয়দের এহেন আচরণে আমার নিজেকে অত্যন্ত ছোট মনে হওয়ায় লিখতে বসেছি~

শুধু আমি নই, স্বয়ং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েব এরদোগানও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে~ এ যেন সভ্যতার আলোকে বর্ণবাদের আরেক রূপ~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...