"" বন্ধু নয় এমন দেশকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে হবে রাশান মুদ্রা রুবল এর বিনিময়ে"~
PUTIN: The Boss
ওস্তাদের মাইর শেষরাতে~
একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট ও আজগুবি অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া এবং ন্যাটো~
হামকি, ধামকি আর একের পর এক অবরোধ দিয়েই যাচ্ছে আমেরিকা আর ইউরোপ ~
গত একটি মাস চুপচাপ বসে বসে অবলোকন করে গেছেন পুতিন; টু শব্দটি করেন নি ~
অবশেষে একমাস পূর্তির সন্ধিক্ষণে কৌশলগত প্রথম অস্ত্রটি ছাড়লেন পুতিন; দ্য বস্~
"" বন্ধু নয় এমন দেশকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে হবে রাশান মুদ্রা রুবল এর বিনিময়ে"~
সিদ্ধান্ত টি কার্যকর হবে এক সপ্তাহ পর হতে, এজন্য রাশিয়ান ব্যাংক গুলোকেও এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন পুতিন~
বলেই বাহুল্য; রাশিয়া বন্ধু দেশের তালিকা নয়, বরং বন্ধু নয় এমন দেশের তালিকা করেছেন~
অনেকেই মনে করতে পারেন; এ আর এমন কি ? দরকার পড়লে রুবল দিয়েই কিনবে তেল ও গ্যাস।
বিষয়টি এত সহজ নয়~
দেশগুলিকে প্রথমে রাশিয়ার ব্যাংক থেকে ডলার বা ইউরো দিয়ে রাশান মুদ্রা রুবল কিনতে হবে, তার পর উক্ত রুবল দিয়ে নগদ পেমেন্ট এর মাধ্যমে কিনতে হবে তেল ও গ্যাস । কারণ ব্যাংক এর লেনদেনের মাধ্যম সুইফ্ট এর উপর আমেরিকা ও ইউরোপ আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে~
রাশিয়ার বন্ধু নয়; এমন দেশের তালিকায় আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো ভুক্ত সব দেশই আছে~
আমেরিকার সাথে তাল মিলিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলি রাশিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহ সকল ব্যবসা বাণিজ্যের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে, এমন কি Air line's এর উপরও ~
আসুন, এখন একটু হিসেব মিলিয়ে দেখি~
কে কেমন সমস্যায় আছে বা পড়তে যাচ্ছে ?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কে প্রতিদিন অন্তত একশত কোটি ইউরো মূল্যের গ্যাস ও তেল কিনতে হয় রাশিয়া থেকে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত ১১৫ কোটি ডলারের তেল/গ্যাস কিনতে হয় ইউরোপকে রাশিয়া থেকে।
অর্থাৎ এখন ইউরোপকে তেল গ্যাস ঠিক মত পেতে হলে প্রতিদিন অন্তত১১৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে রাশান ব্যাংক হতে রুবল কিনতে হবে, অতঃপর উক্ত রুবল দিয়ে আবার তেল ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এতে রুবলের ফ্লো বা চাহিদা বেড়ে যাবে, অর্থাৎ রুবলের মান বিশ্ববাজারে বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য; অবরোধের কারণে রুবলের দাম কিছুটা কমে গিয়েছিল, কিন্তু পুতিনের ঘোষণার পরই রুবলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।
তাছাড়া তেল/গ্যাস বেচাকেনার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ইন্ডিয়া, চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যেই নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন যদি ইউরোপকেও রুবলে তেল/গ্যাস কিনতে হয় তো~
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের আধিপত্য বেশ খানিকটা খর্ব হবে।
শুধু কি এই উদ্যেশ্যে পুতিন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ? অবশ্যই নয়। আরও অনেক গুলি উদ্যেশ্য আছে~
ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপকে নগদ ইউরো নিয়ে রাশিয়ায় এসে রুবল কিনতে হবে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই air lines এর উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে অথবা ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং ব্যাংক টু ব্যাংক রুবল কিনতে হবে ও বিল পরিশোধ করতে হবে।
মূল উদ্যেশ্য হলো অন্য আরেকটি ~ সেটি হলো ইউরোপে তেল/গ্যাস সাপ্লাই একেবারে বন্ধ করে না দিয়ে একটু কমিয়ে দেয়া, যাতে মিল কারখানা গুলো পুরো বন্ধ না হয়ে অর্ধার্ধি চলমান থাকে, গ্যাসের অভাবে ইউরোপের ঘরগুলি শীতে পুরোপুরি ঠান্ডা না হয়ে গেলেও বর্তমানের মত সবসময় হিটারের মাধ্যমে গরম রাখতে না পারে।
অর্থাৎ পুতিন চাচ্ছে ইউরোপের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাক এবং নাগরিক সুবিধার অভাবে ইউরোপে গণ অসন্তোষ শুরু হোক।
অনেকেই বলতে পারেন; সেক্ষেত্রে পুতিন ইউরোপের বাজারে তেল/গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ দিলেই তো পারে ?~
না পারে না, কারণ নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ দিলে পুতিনকে প্রথমে নিজ থেকে তেল/গ্যাস সাপ্লাই ১০০% বন্ধ করতে হবে । সেক্ষেত্রে ইউরোপ আরও বেশি সমস্যায় পড়লেও পুতিন বা রাশিয়া নিজেও কম সমস্যায় পড়বে না, কারণ এই যুদ্ধকালীন সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের পথ একেবারে বন্ধ করে দিলে যুদ্ধ চালানোও যেমন কঠিন হয়ে পড়বে, তেমনই রাশিয়াও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
পুতিনের বর্তমান সিস্টেমে এমনিতেই তেল/গ্যাস সাপ্লাই কমে আসবে, কারণ রাশিয়ার ব্যাংক গুলির প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুবল সরবরাহ করার ক্ষমতা নেই, অর্থাৎ কোন ভাবেও যদি ইউরোপের দেশ গুলি প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুবল কিনতে চায়, তাহলেও রাশিয়ার ব্যাংক গুলি তা সরবরাহ করতে পারবে না। সর্বোচ্চ প্রতিদিন ৬০/৭০ কোটি ইউরো মূল্যের রুবল সরবরাহ করার ক্ষমতা রাখে রাশান ব্যাংক গুলি ।
এক্ষেত্রে রাশিয়া তেমন ক্ষতির সম্মুখীন হবে না, কারণ চাহিদার কারণে রুবলের দাম যে হারে বাড়তে থাকবে তাতে সরবরাহ একটু কমলেও পুষিয়ে যাবে~
যদি সিদ্ধান্তটি সত্যি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়; সেক্ষেত্রে আরেকটি সুবিধা হয়তো পাবে রাশিয়া~
সেটি হলো ঘরবাড়ি গরম রাখা এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গণঅসন্তোষের ভয় ইউরোপের দেশগুলির সরকারপ্রধানরা গোপনে গোপনে রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ করে তাদের দেশে চাহিদামতো তেল-গ্যাস সাপ্লাইয়ের তদবির করতে শুরুকরতে পারে।
সেক্ষেত্রে রাশিয়া তাদেরকে আলাদা আলাদাভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত আরোপ করার সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য; পুতিন তার দেশবাসীর অসন্তোষ যেভাবে দমন করার ক্ষমতা রাখে, ইউরোপের কোন সরকার প্রধানই সেই ভাবে তার দেশের জনগণের অসন্তোষ দমন করার ক্ষমতা রাখে না। সেক্ষেত্রে তাদের সরকারের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
কাজেই ইউরোপের দেশগুলোর সরকারকে টিকে থাকতে হলে এক্ষেত্রে বাইডেন নয়, বরং পুতিনের সাথেই যোগাযোগ করতে হতে পারে ভবিষ্যতে ~
এক কথায় বলা যায়; ""পুতিন এক ঢিলে একটি পাখি নয়, বরং অনেকগুলি পাখি মেরে ফেলেছে।""
আমি ১০০% নিশ্চিত যে; শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকাও কখনো ভাবতে পারেনি যে, পুতিন এই রকম একটা চাল চলতে পারে?
এখানেই পুতিন সবার থেকে আলাদা; একারণেই পুতিন; The Boss~
(ওস্তাদ-রা কিছুক্ষণ পরপরই একটু একটু খোঁচা দেয় না, দরকার পড়লে শেষরাতে এমন মাইর দেয় যে পরের দিন মাজা সোজা করার উপায় থাকে না)
বি: দ্রঃ অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন যে বাড়তি তেল গ্যাস ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে নেবে। আমরা সকলেই দেখতে পেয়েছি যে, তেলের-ঝুলি নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেন ভেনিজুয়েলা, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং কাতারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুফল পায়নি।
ভালোবাসা, আনুগত্য, অথবা ভয়; যে কারণেই হোক না কেন রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ঘাটতি অন্য কোন দেশ পূরণ করতে আসবে বলে মনে হয় না।
আর যদি কোন দেশ সে ঘাটতি পূরণের সিদ্ধান্ত নেয়ও; তাহলেও প্রস্তুতি সহ সাপ্লাই করতে অন্তত ৮/১০ মাস লেগে যেতে পারে~
~ততদিনে কেল্লা ফতে~
আর এইটুকু বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না~
ধন্যবাদ~
Comments
Post a Comment