Skip to main content

আমরা কি মানুষ ? না কি আমরা আগে রাজনীতিবিদ বা হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান, বৌদ্ধ পরে মানুষ ?

 যে জাতির অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষই আগে রাজনীতিবিদ, পরে মানুষ বা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, এমনকি চাকুরীজীবী বা ব্যবসায়ী ~ সে জাতি কখনোই অসাম্প্রদায়িক হতে পারবে না, সাম্প্রদায়িক হানাহানি থেকে মুক্তি পাবে না, সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু এর মত আজব ও বৈষম্যমূলক নীতির চক্র থেকে বেড়হয়ে আসতে পারবে না।  

সেই জাতির একজন হয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বিচার চাওয়া বা মাস্টারমাইন্ড এর মুখোশ উন্মোচন করতে চাওয়া বা সাম্প্রদায়িকতা'র বিষদাত চিরতরে উপরে ফেলার স্বপ্নদেখা_টা পাগলামী বা উন্মাদনা ব্যতীত আর কিছু নয়। 

আমরা অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত ও দুঃখীত যে পুরো জীবনভর এই মানুষদের মাঝে বড়ো হয়েও আবেগের বশে এখনও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি । অন্যদের কথা এর কি বলবো ? আজকে নিজেকেই নিজের কাছে অত্যন্ত ছোট ও যান্ত্রিক মানবাকৃতির জন্তু মনে হচ্ছে । 

আমাদের, বিশেষ করে আমার এই সহজ জিনিসটা বুঝতে এতদিন লেগে গেলো যে,  আমরা সর্বাগ্রে বিএনপি বা আওয়ামীলীগ বা জামাত বা অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শী, অতঃপর আমরা হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা মুসলমান তথা "মানুষ" ?  

বাঙ্গালী_জাতীয়তাবাদের বিষয় তো আরও অনেক পরে, আর বাংলাদেশী_জাতীয়তাবাদ ?? সে তো মুখের বুলি, রাজনৈতিক হাতিয়ার মাত্র। 


নিজেদের, তথা নিজেকেই গালি দিতে ইচ্ছে করছে, এই ভেবে যে~ 

         কেন আমরা আর_সবার মত পারলাম না হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে, পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বিরোধী মিছিলের অগ্রভাগে থাকতে ? 

         কেন আমরা পারলাম না, রাতে বা সকালে অন্য ধর্মালম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে, লুটপাট করে পরের দিন রাস্তার ওই মোড়ের সমাবেশে দাড়িয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে অপরাধীদের বিচার চাইতে ??


জামাত_শিবিরের কথা না হয় বাদই দিলাম ~

"ভিপি নুর" তিনি যদি ঢাকা ইউনভার্সিটির সবথেকে সচেতন ও প্রগতিশীল ছাত্রদের ম্যান্ডেট নিয়ে আজকে রাতের আধারে অনুসারীদের দিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে পরেরদিন তাদেরকে দিয়েই সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মিছিল করাতে পারে~ তাহলে আমি বা আমরা কেন পারলাম না  দুই/চার/বিশজন কর্মী পাঠিয়ে ভাঙচুর পরবর্তী মিছিল মিটিং ও সমাবেশ করতে ? 

আমরাও তো একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি'র একটা ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছি, আমাদেরও তো অনেক অগ্রজ ও অনুজ নেতাকর্মী ছিল, তাহলে আমি বা আমরা কেন পারলাম না ? আমরাও তো অনেক অগ্রজ ও অনুজদের নিয়ে জীবিত সাকা চৌধুরীর বাহিনীর বিপক্ষে লড়াই করা, মিছিল ও মিটিং করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন  ছাত্রনেতা, তাহলে আজ কেন শিক্ষাদীক্ষা ও প্রগতিশীলতার ধ্বজাধারী এসব ছাত্রনেতাদের মত আমরাও স্রোতের অনুকূলে গা ভাসাতে পারলাম না ? 


এটাই তো বাংলাদেশ, এটাই তো বাংলাদেশীদের নীতি আদর্শ তথা সংস্কৃতি~ যেখানে সবথেকে আগে নিজ_স্বার্থ, তারপর রাজনৈতিক_স্বার্থ, তারপর ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদের_স্বার্থ, সবশেষে দেশের_স্বার্থ । 

           যেখানে একই রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় দুই নেতার ভোটের বা সমর্থনের গ্যাড়াকলে বলির পাঠা হয় সাধারণ মানুষ, 

             যেখানে ভিন্নভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বলির পাঠা হয় সাধারণ মানুষ, 

             যেখানে ভোটের রাজনীতিতে বলির পাঠা হয় সাধারণ মানুষ, 

              যেখানে ধর্মীয় নেতাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে বলির পাঠা হয় সাধারণ মানুষ, 

              যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থে জিহাদী চেতনায় বলির পাঠা হয় সাধারণ মানুষ।

এক কথায়, যে দেশে সাধারণ মানুষদের জন্মই হয় কোন না কোন দিক থেকে অসাধারণ মানুষদের স্বার্থ হাসিলের নিমিত্তে~ আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু আমার ? এই সত্যটি বুঝতে লেগে গেল প্রায় ৪৫ বছরের অধিক কাল, আমি তাহলে কি ? অসাধারণ মানুষ ? নাকি সাধারণ মানুষ ? নাকি তার চাইতেও নিচের কোন প্রজাতি ? অনেকটা যান্ত্রিক মানবাকৃতির জন্তু টাইপের ??

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...