আনন্দবাজার পত্রিকা সহ ভারতের মিডিয়া যেন বন্ধু প্রতিম ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরাতে উঠেপড়ে লেগেছে~
গতবছর এপ্রিল মাসে যখন প্রতিদিন লক্ষাধিক ভারতীয় করোনায় আক্রান্ত হচ্ছিল এবং প্রতিদিন কয়েক হাজার করে মানুষ মৃত্যুবরণ করছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার বন্ধুপ্রতিম ভারতের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল~
করোনা শনাক্তের কিট ও পিপিই সহ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কার্যকরী বেশকিছু ঔষধ তখন বাংলাদেশ ভারতকে সরবরাহ করেছিল।, এসব ওষুধের মধ্যে ছিল প্রায় দশ হাজার ডোজ ইনজেক্টেবল অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ, ওরাল অ্যান্টি-ভাইরাল, ৩০ হাজার পিপিই কিট এবং কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট।
যথাযথ কূটনৈতিক প্রসিডিওর মেনেই ভারত সরকার তখন তা গ্রহণ করেছিল, অথচ এতদিন পর সেইসব ঔষধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হয়েছিল কি না ? এক্সপায়ার ডেট ঠিকমত উল্লেখ ছিল কি না ? ইত্যাদি ইত্যাদি নানারকম প্রশ্ন তোলা হচ্ছে আনন্দবাজার সহ ভারতীয় মিডিয়ায়~
বলাই বাহুল্য যা বাংলাদেশের জন্য অপমানকর ~
উল্লেখ্য; ভারত বিভাগ বা বাংলা বিভাগে বাংলাদেশ বা পশ্চিম বঙ্গের মানুষের কোন হাত ছিল না। বলাযায় জিন্নাহ আর নেহেরুর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হিন্দু/মুসলিম সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে সামনে এনে ভারত বিভাগের কারণে বাংলা আজ দুইভাগে বিভক্ত ~
ভৌগলিক ভাবে বাংলা বিভক্ত হলেও দুই বাংলার মানুষের অন্তরের টান বা একে ওপরের প্রতি অনুভূতির কমতি ছিল না কিছুদিন আগ পর্যন্তও~
১৯৭১ এ দুই বাংলার মানুষের এক হয়ে পাক বাহিনীর বিপক্ষে লড়াই, লক্ষ লক্ষ পূর্ববাংলার মানুষকে পশ্চিম বাংলায় আতিথেয়তা প্রদান, সেই সম্পর্কের-ই নজির~
আজ থেকে ১৬/১৭ বছর আগে আমাকে কলকাতায় প্রায় একমাস করে দুইবার দুইমাস থাকতে হয়েছিলো~
তখনও আমি ওখানকার সাধারণ মানুষের বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যে আবেগ, অনুভূতি ও হৃদয়ের টান দেখেছি ? তা এক কথায় অনন্য।
প্রতিদিন বিকেলে কলকাতা নিউমার্কেটের সামনে সময় কাটাতে যেতাম, ওখানকার ছেলে মেয়েরা ঘিরে ধরত; বাংলাদেশ সম্পর্কে কত কিছুই না জানতে চাইত ? অনেকেই তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে শোনা বাংলাদেশের গল্প শেয়ার করতো, বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন এবং আতিথেয়তার সাথে ওদের নিম্নমুখী পারিবারিক বন্ধন ও যান্ত্রিক জীবনকে মিলিয়ে আক্ষেপ করতো~
ওরা বাংলাদেশ বলতো না, বলতো ঢাকা। ঢাকা দিয়েই বাংলাদেশকে বোঝাতো অনেকটা।
বলা যায় নিউমার্কেট ও প্রেসিডেন্সি কলেজ কেন্দ্রিক আমার বিশাল দুইটি সার্কেল তৈরি হয়েছিল তখন~
মনেই হতো না বিদেশ আছি।
একবার এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল; বলাই বাহুল্য ঐ থানার কয়েকজন অফিসার আমার বন্ধুতে পরিনত হয়েছিল। ওদের মধ্যে কারও নাইট ডিউটি থাকলে আমাকে চলে আসতে বলতো, অনেক রাত ওদের গাড়িতে ঘুরে ঘুরে রাতের কলকাতা দেখেছি~
কিছু বছর আগেও তো ক্রিকেটে বাংলাদেশের যেকোন জয়কে আনন্দবাজার পত্রিকা এমন ভাবে ছাপাত বা প্রতিবেদন প্রকাশ করতো যেন তা বাঙ্গালীর জয়, ওদের খুবই আপনজনের জয় ~
বাংলাদেশের কাছে ভারত যেদিন প্রথম হারে সেদিনের আনন্দবাজার পত্রিকার হেডিং যদি কারও মনে থাকে তাহলে তিনিও আমার সাথে বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন।
বোধ হয় হেডিংটা ছিল এইরকম~ "১১ বাঙ্গালীর কাছে ভারতের পরাজয়" হুবহু মনে নেই, তবে এইধরনের কিছু একটা হবে~
কিন্তু কোন এক অজানা কারণে এই আনন্দবাজার পত্রিকা সহ ইন্ডিয়ার মিডিয়া যেন বাংলাদেশের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে ~
বাংলাদেশের যে কোন সফলতা ও ভালো কাজের মধ্যেও তারা খারাপ কিছু খুঁচিয়ে বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে ~
তারা বাংলাদেশকে আর বন্ধুপ্রতিম সহযোগী কোন দেশ ভাবতে পারছে না, অনেকটা প্রতিযোগী ভাবতে শুরু করেছে~
এক প্রতিযোগীকে হেয় করতে অন্য প্রতিযোগী যেমন মুখিয়ে থাকে, ঠিক তেমনই ভারত যেন বাংলাদেশকে সর্বক্ষেত্রে হেয় করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ইদানিং~
আমরা আশাকরি, অদূর ভবিষ্যতে এই নেতিবাচক মানসিকতা থেকে দুই দেশের জনগন তথা দুই বাংলার জনগন বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হবো এবং একই পরিবারের দুই ভাই আলাদা হয়ে গেলেও যেমন সম্পর্ক থেকেই যায়, তেমনই বাংলাদেশের সাথে পশ্চিম বঙ্গের সম্পর্কও যেন অটুট থাকে চিরকাল~ এই কামনাই করি।
~আজিজ মিশির সেলিম~
Comments
Post a Comment