Skip to main content

সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের করণীয়

 সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের করণীয়~

উচিৎ ফেসবুক ও ইউটিউব এ আরও বেশি বেশি নজরদারি~


         উপমহাদেশে  বাংলাদেশ-ই একমাত্র রাষ্ট্র, যেখানে এখনও কোন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এককভা ভাবে ক্ষমতাসীন হওয়ার সুযোগ পায়নি। সেই মত বড় আকারের কোন ধর্মীয় দাঙ্গা-পরিস্থিতিও তৈরী হয়নি। গত ৫০ বছরে সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে যা কিছু ঘটেছে সেগুলো কোন মহল বা ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির পাঁয়তারা মাত্র এবং বাংলাদেশ সেগুলিকে দমন করতে সফল হয়েছে বলেই বিশ্ববোদ্ধাদের অধিকাংশের অভিমত। 

এছাড়াও উপমহাদেশের অন্যান্য রাষ্ট্রে সংগঠিত হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দাঙ্গা-ফ্যাসাদের সাথে বাংলাদেশে সংগঠিত হওয়া ঘটনা গুলোকে তুলনা করলে অনুরূপ সত্যতাই প্রমাণিত হয়।


বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ভাবে স্থিতিশীল এই ইমেজ অনেকেরই ভালো লাগছে না, বা অনেকেরই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; সরকার যদি এদের বিপক্ষে সময়মত এবং সমুচিত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে বলেই বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন~

নিম্নোক্ত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বারা ঘটানো দুইটি ঘটনা এবং ফেসবুক ব্যবহারকারী কতিপয় মানুষের কাণ্ডকারখানা পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও সহজ হবে বুঝতে~

১.

সুইডেন প্রবাসী "দেবদুলাল মুন্না" সাহেবের আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়, যার হেডিং ছিল; “বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েদেরও বোরখা পরতে হবে এখন" ! 

ময়মনসিংহের  "দাপুনিয়া কাওয়ালটি ইসলামিয়া হাই স্কুল এন্ড কলেজে'র  দশম শ্রেনীর ছাত্রী "চৈতী রাজভর"কে বোরখা পড়ে ক্লাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে,,, এটা নাকি ঐ স্কুল এর অলিখিত নিয়ম,,,, ইত্যাদি ইত্যাদি,,,

সুইডেন থেকে একজন বাংলাদেশ এর একটি স্কুলের ঘটনা কে নিয়ে লিখলেন, আর ভেতো-বাঙ্গালী হিসেবে তা যাচাই বাছাই না করে  ভাইরাল করে দিলাম আমরা !!!

         অতঃপর  ১১ এপ্রিল, ২০২২ এ যমুনা টিভি উক্ত বিষয়ের উপর একটি  অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে~

 এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাধ্যতামূলকভাবে  বোরখা পরানোর সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং উক্ত শিক্ষার্থীর বাবাকে উদ্ধৃত করে সেখানে বলা হয় যে, বান্ধবীদের সাথে মিল রেখে শুধুমাত্র শখের বশেই সেই শিক্ষার্থী বোরকা পরেছিল। 

           সেক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে, সুইডেন প্রবাসী উক্ত ভদ্রলোক বিষয়টি জানলেন কিভাবে এবং পোস্ট করলেন কিভাবে ?

যমুনা টিভি এর প্রতিবেদন এ উল্লেখ করা হয়~ 

* উক্ত স্কুলের শিক্ষিকা 'গোপা সরকার' উক্ত ছাত্রীর বোরকা পরা একটি  ছবি তোলেন প্রথমে ।

* এরপর বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সহ উক্ত ছবিটি পাঠান বেসরকারি সংস্থা "হাঙ্গার প্রোজেক্টে'র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী "জয়ন্ত করে'র কাছে। 

* মি: জয়ন্ত কর এসব সরবরাহ করেন নান্দাইল সমূর্ত্ত জাহান মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক "অরবিন্দ পাল'কে। 

* অতঃপর "অরবিন্দ পাল' তা সরবরাহ করেন সুইডেনে অবস্থানরত "দেব দুলাল মুন্না'কে এবং তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে এই উস্কানিমূলক খবরটি পোস্ট করেন। 

পয়েন্ট আকারে বিষয়টি উল্লেখ্য করলাম এই কারণে যে, পাঠক যেন চ্ক্রন্তটির গভীরতা সহজেই বুঝতে পারে~

উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ সহ আমরা যারা ঘটনার সত্যতা না জেনেই পোস্টটি লক্ষ লক্ষ বার শেয়ার করেছি,

তারা কি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে  দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে উপরোক্ত সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হবো না  ?

প্রশ্ন টা সকলের কাছেই রইলো, সাথে প্রতিবেদনটি কমেন্টস এ সংযুক্ত করা হলো~

২.

"মুফতি নূর হোসেন নেছারী" নামক জনৈক ধর্ম ব্যবসায়ী তার বয়ানে যা বলেছেন তা নীচে হুবহু তুলে ধরা হলো :


"মন্দির ঘরে "খোদা" বানাইছে, ১০টা হাত। কয়টা হাত জোরে কন? ১০ হাত এর দুর্গা দেবী। নাম কী কন? দেবী দুর্গাা। কী যে সুন্দর চেহারা। হুহুহুহু। সিনেমার নায়িকা ফেল। যদি কথা কইতে পারতো তাহলে বিয়ে করে ফেলতাম। এমন সুন্দর চেহারা। আল্লাহু আকবর। 

মন্দির ঘরের ভিতর খোদা বানাইছে হাত ১০টা। তবু খোদা দাঁড়াইতে পারে না। খোদার গোয়ার ভিতরে আক্কিওয়ালা বাঁশ মোড়াইয়া মোড়াইয়া ভরে।"


এই বিকৃত রুচির ধর্ম ব্যবসায়ীর কথা না হয় বাদই দিলাম; যারা এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, তারা কি ধর্ম অবমাননা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত দানের আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে নি ? তারা কি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে না  ?

প্রশ্নটা সকলের কাছেই রইলো, সাথে ভিডিওটি কমেন্টস এ সংযুক্ত করা হলো~


উপসংহার : বহির্বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সহ দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সরকারের উচিত ফেসবুক ও ইউটিউব এর উপর আরও কঠোর নজরদারি। যারাই সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে কোন ঘটনার সত্যতা যাচাই বাছাই না করে শেয়ার করবে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে, আর যারা অনুরূপ ঘটনা ঘটানোর সাথে যুক্ত থাকবে, তাদের বিষয়ে zero tolerance নীতিতে এগুতে হবে সরকারকে, তবেই ~~~ অন্যথায় পস্তাতে হবে~~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...