Skip to main content

যুদ্ধের বিরুদ্ধে পুতিনকে কিছু বলা, আর আত্মহত্যা করা একই কথা~

 'পুতিন ও মস্কোর ক্ষমতা বুঝতে পশ্চিমারা ব্যর্থ'~

পুতিন এবং অন্যকারো মধ্যে শক্তিমত্তার দূরত্ব ; পৃথিবী এবং মহাজাগতিক কোন বস্তুর দূরত্বের মতো।

তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পুতিনকে কিছু বলা, আর আত্মহত্যা করা একই কথা~


ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের জবাবে দেশটির ধনকুবের ব্যবসায়ী, যাদেরকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহচর ভাবা হয়, তাদের ওপর যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন সরকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


এইসব রাজনীতি বহির্ভূত ধনাঢ্য ব্যবসায়িগণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণ হিসেবে আমেরিকা এবং ইউরোপ যুক্তি দাঁড় করিয়েছে যে, উনারা যেহেতু সরকারের কাছাকাছি অবস্থান করেন এবং দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন; সেইহেতু উনারা চাইলে পুতিনকে চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন~

যদিও আসল কারণ এইটি নয়; এর পিছনে অন্তর্নিহিত অন্য কারণ আছে~


এইরূপ একজন রাশান ধনকুবের; মিখাইল ফ্রিডম্যান;  যিনি নিজেও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন; 

উনার দৃষ্টিতে পুতিন~

রাশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী এক ধনকুবের বলেছেন, পশ্চিমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞাই ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে তার আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত করবে না। একইসঙ্গে পশ্চিমাদের সতর্ক করে তিনি জানান, মস্কোর ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা~


তিনি মনে করেন, পুতিনের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের কেউই তার সাথে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে- এমন সম্ভাবনা নেই।


এই রুশ ধনকুবের আরও বলেন, "পুতিন এবং অন্য কারো মধ্যে শক্তিমত্তার দূরত্ব পৃথিবী এবং মহাজাগতিক কোন বস্তুর দূরত্বের মতো।" তাই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পুতিনকে কিছু বলা কারো জন্য আত্মহত্যার মতো হবে।"


আলফা ব্যাংকের স্বত্বাধিকারী ধনকুবের মিখাইল ফ্রিডম্যান আরও বলেন, প্রভাবশালী রুশ ধনকুবেরদের দিয়ে পুতিনকে চাপ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা পশ্চিমাদের একটি অবাস্তব কৌশল ও লক্ষ্য।


ফ্রিডম্যান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা লোকেরা যদি বিশ্বাস করে যে, নিষেধাজ্ঞার কারণে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা পুতিনের সাথে যোগাযোগ করবে এবং তাকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলবে, এবং এটি কার্যকর হবে বা হতে পারে; তাহলে আমি মনে করি আমরা সবাই বড় সমস্যায় পড়েছি, নয়তো আমরা পাগল হয়ে গেছি।


তিনি বলেন, এর অর্থ দাড়ায়; যারা(পশ্চিমারা) এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা রাশিয়া কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।


সম্প্রতি ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন ফ্রিডম্যান নিজেও। কিন্তু তিনি মনে করেন, পুতিনের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের কেউই তার সাথে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে- এমন সম্ভাবনা নেই।


পশ্চিমারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের দ্বারাই পুতিনকে দুঃসাহসী করে তুলেছে~ 

জর্জিয়া ও বেলারুশে অভিযান পরিচালনা এবং ক্রিমিয়া দখল করার পর পশ্চিমাদের চুপচাপ থাকা বা গা-বাঁচিয়ে চলার নীতিই পুতিনকে ক্রমান্বয়ে সাহসী থেকে দুঃসাহসী করে তুলেছে ~


তাছাড়া ইউক্রেন আক্রমণের পর আমেরিকা সহ ন্যাটোভুক্ত ৩০ টি দেশের আচরণ যে পুতিনকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই~


আমেরিকা সহ ৩০ টি দেশের জোট যদি তোতাপাখির মত প্রতিনিয়ত বলে যায় যে~

 "তারা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াতে রাজি নয় ; রাশিয়ার দিকে তারা সরাসরি একটি বুলেটও ছুড়তে রাজি নয় ; নো ফ্লাই জোন তো দূরের কথা---রাশিয়ার বিপক্ষে কোন দেশকে তারা একটি বিমান দিয়েও সহায়তা করতে রাজি নয়;~ ইত্যাদি~ইত্যাদি~

অর্থাৎ রাশিয়াকে উনারা ভয় পায়; শুধু ভয় নয়, একটি সাধারণ প্রাণী যেমন বাঘ/সিংহ কে ভয় পায়, অনেকটা তেমনই ~

সামনা সামনি রাশিয়াকে ফেস করতে তারা কেউই রাজি নয়; ফাঁদ পেতে রাশিয়াকে আটকাতে চায় তারা; অনেকটা বাঘ ধরতে মানুষ যেমন ফাঁদ পেতে লুকিয়ে বসে থাকে, ঠিক তেমনই ন্যাটোভুক্ত ৩০ টি দেশ যেন ফাঁদ পেতে বসে আছে, কখন রাশিয়া ফাদের জালে আটকা পড়বে ? তখন খপ করে ধরে ফেলবে~


এই যদি হয় বাস্তবতা ? তখন পুতিন বা রাশিয়া তো নিজেকে ধরাছোঁয়ার উর্ধ্বে ভাবতেই পারে ? 

এত যে অবরোধ? এত যে হুমকি ধামকি ? পুতিন কি তার কোনোটিই এপর্যন্ত আমলে নিয়েছে বা পাত্তা দিয়েছে ? 

বাইডেন-সহ বরিস জনসন যে প্রতিদিন পুতিনকে একটার পর একটা উল্টাপাল্টা বিশেষণে বিশেষায়িত করে যাচ্ছে~ পুতিন কি নিজ থেকে তার কোনোটিরই প্রতিউত্তর দিয়েছে এপর্যন্ত ? 

পুতিন আপন মনে তার খেলা খেলে যাচ্ছে~

পুতিন বুঝতে পেরেছে যে বর্তমান বিশ্বে এমন কোন শক্তি নেই যে তাকে সরাসরি ফেস করতে পারে~

কাজেই আপন মনে নিজস্ব কোন লক্ষ্য বা উদ্যেশ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পুতিন~ পুতিন নিজ থেকে যেদিন মনে করবে যে তার উদ্যেশ্য পূরণ হয়েছে, সেদিনই থামবে, অন্যথায় অবরোধ বা হুমকি ধামকিতে থামার পাত্র পুতিন নয়~

জনগণের মৃত্যু বা ভোগান্তি পুতিন বা আলেকসন্দর দিগিনকে কখনোই বিচলিত করেনি, করবেও না। নিজের ও নিজ দেশের প্রভাব/প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাই পুতিন বা আলেকসন্দর দিগিন এর কাছে শেষ কথা~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...