Skip to main content

কোন মানুষই আসলে অন্ধ অনুসরণ বা অনুকরণ যোগ্য নয়

 কোন মানুষই আসলে অন্ধ অনুসরণ বা অনুকরণ যোগ্য নয়~

অন্যভাবে বলতে গেলে বলা উচিত, কাউকেই অন্ধ ভাবে অনুসরণ বা অনুকরণ করা উচিৎ নয়~ 

প্রতিটি মানুষই আলাদা একেকটি সত্বা, প্রতিটি মানুষের চিন্তা, চেতনা, বিবেক ও বুদ্ধিতে কোথাও না কোথাও পার্থক্য আছেই । এখানেই সৃষ্টিকর্তার সফলতা বা মাহাত্য। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে আমরা আমাদের আঙ্গুলের রেখাবিন্যাসের বিষয়টি সামনে আনতে পারি~

প্রতিটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপে যেমন সূক্ষাতিসূক্ষ হলেও পার্থক্য থাকে,  তেমনই অন্যসব ক্ষেত্রেও~


তাছাড়া স্থান ও কাল বা সময়ের প্রভাবও মানুষে মানুষে ভিন্নতার ক্ষেত্রে একটি বড় নিয়ামক। আজ থেকে কয়েকশো বছর পূর্বে যে কাজটি সৃষ্টি জগতের জন্য অনুকূল ছিল, বর্তমান সময় ঐ ধরনের কাজই মানুষের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য হতে পারে~

আবার আফ্রিকার কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে কাজটি বা কর্মটি বা যে মানুষটি উক্ত অঞ্চলের জন্য জনহিতকর, তা আমাদের এইখানে নাও হতে পারে~


আমরা সাধারণত বাচ্চাকাচ্চাদের বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী শুনিয়ে তাদের মত হতে বলি, আবার বড় হয়েও আমরা অনেকেই গুরুজন বা বিখ্যাত ব্যাক্তিদের অন্ধ অনুকরণ এর চেষ্টা করে থাকি~ 

বিষয়টি আসলে কতটা যৌক্তিক ?


“রেনে দেকার্তে (Rene Descartes) ১৭ শতকের একজন ফরাসি গণিতবিদ এবং দার্শনিক। আমরা যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তারা Cartesian coordinate system এর সাথে নিশ্চয় পরিচিত? এই কো-অর্ডিনেটের  জনক এই "রেনে দেকার্তে"। অনেকেই উনাকে বিজ্ঞানী নিউটনের গুরু এবং আধুনিক পশ্চিমা দর্শনের জনক মনে করে থাকেন।

এইরকম একজন বিখ্যাত মানুষ বিশ্বাস করতেন যে, মানুষ ছাড়া প্রাণী জগতের সব কিছুই অনুভূতিশূন্য।

দেকার্তের মতে অনুভূতিশূন্য হওয়ায় মানুষ ভিন্ন অন্য কোন প্রজাতির প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার একটি নৈতিক ভিত্তি দেকার্তের দর্শনের ভেতর খুঁজে পাওয়া যায়।


"চার্লস ডারউইন" এর কথা আমরা সকলেই জানি, এমনকি তার বিখ্যাত বিবর্তনবাদের কথাও আমরা কমবেশি সকলেই জানি। তিনি ১৯ শতকের শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের একজন ছিলেন। তিনি যেহেতু বিবর্তনবাদের তত্ব দিয়েছেন, যার অর্থ দাড়ায় তিনি অবশ্যই বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করতেন~

বিবর্তনবাদ অনুসারে মানুষ আর পশুর মধ্যে কিন্তু ব্যাসিক কোন পার্থক্য নেই, কারণ পশু থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের উৎপত্তি। 

এই দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করার অর্থ দাঁড়ায় - মানুষ একটি বিবর্তিত প্রাণী ছাড়া আর কিছু নয়, অর্থাৎ মানুষের জীবনের কোন উদ্যেশ্য বা লক্ষ্য নেই, এমনকি  আধ্যাত্মিক ভাবেও মানুষ উদ্দেশ্যহীন। পশুদের মত মৃত্যুই মানব জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়, পশুদের মতোই মানুষও মৃত্যু পর্যন্ত খাও/দাও আর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সবকিছু নিজের করে নাও। অর্থাৎ উদ্যেশ্যহীন জীবন~

উদ্দেশ্যহীন জীবনে মানবিকতা বলে কোন শব্দের অস্তিত্ব থাকতে পারে কি ? অর্থাৎ মানুষসহ প্রাণীজগতের সকল আচরণ হচ্ছে শুধুমাত্র পশু প্রবৃত্তি।


তবে বর্তমান যুগে মানুষের কার্যকলাপ, এমন কি শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির কার্যকলাপ দেখে মনে হতেই পারে যে, মানুষ মনে হয় সত্যিই বিবর্তনবাদের মাধ্যমে কোন জন্তু/জানোয়ার থেকেই উৎপত্তি হয়েছে~

এখন অনেককেই বলতে শোনা যায়, নীতি নৈতিকতা গোল্লায় যাক, যেকোনো মূল্যে জিততে পারাটাই শেষ কথা। 

এখন নীতিনৈতিকতা, আদর্শ ও বিবেককে মানুষের উদ্যেশ্য সাধনে প্রতিবন্ধকতা ভাবা হয়, অথচ এগুলির দ্বারাই মানুষকে পশু থেকে আলাদা করা হয়।


"উইলিয়াম শকলি" এর নাম হয়তঃ আমরা অনেকেই জানি না, উনি সেমিকন্ডাক্টিং ট্রাঞ্জিস্টর আবিষ্কারকদের একজন এবং নোবেল লরিয়েট। আজকের কিংবদন্তীতুল্য সিলিকন ভ্যালির শুরুটা উনার হাত ধরেই। সেমিকন্ডাক্টিং ফিজিক্সে উনার জুড়ি নেই বললেই চলে।  

অসাধারণ প্রতিভাবান এই বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদের ভক্ত এবং তিনি মনে করতেন যে, মানব সমাজে জেনেটিক্যালি যারা দুর্বল তাঁদের বেঁচে থাকবার দরকার নেই। কেবলমাত্র বংশগত বা জাতিগত ভাবে যারা সবল তারাই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবার উপযুক্ত। এককথায় এই ভাবধারায় বিশ্বাসীরা survival of the fittest ধারনাটিকে মানব সমাজে সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান।

হিটলারের আগ্রাসন থেকে শুরু করে বর্তমানের ইসরায়েল, আমেরিকা, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কার্যকলাপ "উইলিয়াম শকলি" এর দর্শনকে যথাযথভাবে সমর্থন করে বলেই মনে হয়। 

তাছাড়া আমাদের দেশের বা সমাজের ক্ষমতাবান লোকজনের কার্যকলাপও এই বিজ্ঞানীর দর্শন বা বিশ্বাসকেই সমর্থন করে বলে মনেহয়।


যারা অত্যন্ত চিন্তাশীল এবং জ্ঞানী তাঁদের ধ্যানধারণা আমাদের আকর্ষিত করে বটে, কিন্তু আবার একই সাথে তাঁদের চিন্তার ভেতর সর্বনাশের বীজ-ও লুকিয়ে থাকে। তাহলে মোদ্দাকথা বা সারাংশ কি দাঁড়াল? 

আমার মনে হয় যে শিক্ষাটি আমাদের সকলের নেওয়া উচিৎ তা হচ্ছে "মানুষ"~ সে যত প্রতিভাবানই হোন না কেন, জন্মগত ভাবেই চিন্তায় এবং বিশ্লেষণে তার সীমাবদ্ধতা আছে। 

প্রতিভার মাপকাঠিতে যারা শীর্ষে, তাঁরা কখনো-কখনো কঠিন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন বটে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই খুব সহজ কিছু-কিছু জিনিসও তাঁরা ধরতে পারেন না বা এড়িয়ে জান। 

কাজেই এঁদের কাউকে অন্ধ অনুসরণের কোনই যৌক্তিক কারণ নেই। 

শেষ পর্যন্ত নিজের মত করেই জীবন ও জগতকে বুঝে নিতে হয়, নিজের চিন্তাচেতনা, মননশীলতা ও বিবেকের মাধ্যমেই নিজের জীবনকে পরিচালিত করতে হয় বা করা উচিৎ ।

কাওকে অন্ধভাবে অনুসরণ বা অনুকরণ না করাই উত্তম~

আমার অত্যন্ত প্রিয় ছোটভাই, Cuet এর teacher Sadiqul Islam এর প্রতি কৃতজ্ঞ লেখাটির বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...