Skip to main content

শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে আমরা কি "পেরু" নামক দেশ'টিকে অনুসরণ করতে পারি না ?

 * আমরা কি "পেরু" নামক দেশ'টিকে অনুসরণ করতে পারি না ?

* আমরা কি শিশু ও কিশোর ধর্ষণ-কারী-দের  পুরুষত্বহীন বা নপুংসক করে দেয়ার শাস্তির বিধান রেখে আইন পাশ করার উদ্যোগ নিতে পারি না; যেমনটি করতে যাচ্ছে পেরু সরকার ?


সম্প্রতি পেরুতে ৪৮ বৎসর বয়স্ক এক কুলাঙ্গার কর্তৃক ৩ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ায়; পেরু সরকার এমন একটি আইন পাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে শিশু ধর্ষণ কারীকে প্রচলিত আইনের আওতায় কারাভোগের পর, মুক্তি পাওয়ার সময় অপরাধীকে "খোঁজা" বা পুরুষত্বহীন বা নপুংসক করে দেয়া যাবে, যাতে মুক্ত হয়ে পরবর্তীতে আর এহেন কাজটি করতে না পারে উক্ত কুলাঙ্গার পুরুষটি~

খবর: ২১শে এপ্রিল, ২০২২ এ প্রকাশিত প্রথম আলো।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের শিশু ও কিশোর/কিশোরী ধর্ষনের হার শঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নারী ধর্ষনের বিষয়টি এক্ষেত্রে বিবেচনায় নিলে তা আশঙ্কাজনক তো বটেই।


#২৭শে_জানুয়ারী_২০২০ সালে প্রকাশিত প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী একটি পরিসংখ্যান নিম্নে দেয়াহলো~

#বাংলাদেশ_পুলিশ এর দেয়া তথ্যমতে:~

* গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে নারী ধর্ষনের মামলা হয়  ৫ হাজার ৪০০ টি, যা ২০১৮ সালে ছিল ৩ হাজার ৯০০ টি। 

* গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে শিশু ধর্ষনের মামলা হয়  ৮১৫টি, যা ২০১৮ সালে ছিল ২৭২টি । 

* গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ধর্ষনের কারণে মৃত্যু হয় ১২ শিশু ও ২৬ জন নারীর, পক্ষান্তরে ২০১৮ সালে সালে ধর্ষনের কারণে মৃত্যু হয় ১৪ শিশু ও ২১ জন নারীর ।

উপরোক্ত হিসাবটি পুলিশের নিকট হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে তৈরি, মামলা না হওয়া বিষয় গুলি গণনায় নিলে পরিসংখ্যানটি কেমন দাড়াতো, তা পাঠকের বিবেচ্য।


#আইন_ও_সালিশ কেন্দ্র (আসক):  এর মতে

* ২০১৯ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। 

২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২।


#বাংলাদেশ_শিশু_অধিকার_ফোরাম: এর মতে

২০১৯ সালে শিশু ধর্ষনের ঘটনা ঘটে ১ হাজার ৩৮৩ টি। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৮৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।


#মানুষের_জন্য_ফাউন্ডেশন: 

গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ৯০২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৫৬ টি ।


#৩১শে_ডিসেম্বর_২০২১ এর Bangla News 24 এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে~

২০২১ সালে:

* সারাদেশে অন্তত ১ হাজার ৩২১ জন নারী ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ।

* উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন এবং 

* প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে খুন হয়েছেন ৮ ,জন।


#২২শে_ফেব্রুয়ারী_২০২২ সালে প্রকাশিত প্রথম আলো'র রিপোর্ট অনুযায়ী~

২০২১ সালে:

* সারা দেশে ৮১৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

*  ৯৪টি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। 

* ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ১৪টি মেয়েশিশু। 

* অন্যান্য কারণে হত্যার শিকার হয়েছে ১৮৩টি শিশু। 

* যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১০টি শিশু। 

২০২০ সালে:

* শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৬২৬ টি, 

* হত্যার শিকার হয়েছিল ১৪৫ শিশু। 


উপরোক্ত পরিসংখ্যান গুলি খেয়াল করলেই আমাদের দেশের শিশু নির্যাতন সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান একটি ধারণা পাওয়া যায়।


পেরু দেশটির বিচারমন্ত্রী "ফেলিক্স চেরো" বলেছেন ‘ধর্ষণকারীদের জন্য পুরুষত্বহীন বা খোজাকরণকে  আমরা অতিরিক্ত একটি সাজা হিসেবে  বিবেচনা করছি।’

পেরু সরকার  বিলটি কংগ্রেসে পেশ করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে দেশটির একাধিক মন্ত্রী সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে।


বাংলাদেশে যে হারে শিশু ও কিশোরী ধর্ষণ এর ঘটনা ঘটছে প্রতিবছর, প্রচলিত আইনে ধর্ষকদের বিচারের সম্মুখীন করে তা কি কমানো যাচ্ছে ? প্রচলিত আইনের প্রয়োগ সত্বেও এই হীনকর্মের সংখ্যা যে বেড়েই চলেছে, তার প্রমাণ উপরোক্ত পরিসংখ্যান গুলি।

সেক্ষেত্রে কি আমাদের প্রচলিত আইনের বেশি কিছু ভাবা উচিৎ নয় ?

আমি নিশ্চিত; আমাদের দেশে যদি পেরু'র মত উদ্যোগ নিয়ে, ধর্ষককে পুরুষত্বহীন করে দেয়ার আইন পাশ করা হয়, তাহলে ধর্ষনের পরিমাণ অনেক কমে আসবে~

আর যদি আইনের প্রয়োগ শুরু হয় তো ধর্ষণ এর পরিমাণ একদম নিম্নস্তরে চলে আসবে বলেই আমার ব্যাক্তিগত অভিমত।

কারণ ধর্ষক-শ্রেণী সবকিছু বিসর্জন দিতে চাইলেও অন্তত ঐ জিনিসটি যে বিসর্জন দিতে চাইবে না, এবিষয়ে আমি মোটামুটি নিশ্চিত~


পরবর্তী পোস্ট: কিভাবে খোজাকরণ বা পুরুষত্বহীন করা হয় ? যুগে যুগে খোঁজাদের ইতিহাস, আগের রাজা বাদশাদের খোঁজা প্রীতি, ইত্যাদি~

Comments

Popular posts from this blog

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...

ঠাকুর_বাবার_ঝুলী

গল্পঃ উপমহাদেশীয় আশরাফুল মাখলুকাত হতে শকুনে'র বাচ্চার শিক্ষা লাভ~ এক শকুনের বাচ্চা, একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরল~ বাবা আমি মানুষের মাংস খাব, এনে দাও না প্লিজ। বাবা শকুন বলল ঠিক আছে আজ সন্ধ্যায় এনে দিব। বিকেলে বাবা শকুন উড়ে গেল আর আসার সময়  ছেলের জন্য শূকরের মাংস নিয়ে এলো, বাচ্চা শকুন খেতে গিয়ে বললো এটাতো শূকরের মাংস বাবা, আমি তো মানুষের মাংস খেতে চেয়েছিলাম? বাবা শকুন ধরাখেয়ে একটু লজ্জা পেল এবং বলল ঠিক আছে বাবা~আজকে মানুষের মাংস এনে দিব, কিন্তু মানুষের মাংস পাওয়া সহজ কিছু নায়, সারাদিন ওড়াউড়ি করার পরও মানুষের মাংস না পেয়ে ঘরে ফেরার সময় একটা মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো। যথারীতি বাচ্চা শকুন  মাংস মুখে দিয়ে বললো~ আরে তুমিতো গরুর মাংস এনেছ, মানুষের মাংস কোথায় ? তখন বাবা বুঝতে পড়লো বাচ্চাকে রাম বুঝ দিয়ে লাভ নাই, মানুষের মাংসই খাওয়াতে হবে।  বাবা শকুনের  মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, প্রথমে সে গরুর মাংস এর টুকরা মুখে নিয়ে সেখান থেকে উড়ে গিয়ে ফেলল হিন্দুদের মন্দিরের সামনে, আবার শূকরের মাংস এর টুকরোটা নিয়ে একটা মসজিদের সামনে ফেলে দিয়ে চলে এলো।  কিছুক্ষণের ...

সুখ তুমি কি ?

সুখ_তুমি_কি? বড়_জানতে_ইচ্ছে_করে_আমার_জানতে_ইচ্ছে_করে~ রুনা লায়লার বিখ্যাত গানের ধারাবাহিকতায় #কেনই_বা_ফিনল্যান্ডের_মানুষ_পৃথিবীর_সবথেকে_সুখী_মানুষ? আসুন জেনে নেই~ গত ৪ বছর হলো জাতিসংঘের "সাসটেইনেবল সল্যুউশন নেটওয়ার্ক" বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে "ফিনল্যান্ডে'র নাম ঘোষণা করছে।  প্রতিবেশি তিন দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড যথাক্রমে ফিনল্যান্ডের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ  স্থানে অবস্থান করছে। পক্ষান্তরে আমেরিকানদের অবস্থান ১৪ তম, ব্রিটিশদের অবস্থান ১৯ তম, জাপানিজদের অবস্থান অনেক নীচে,  কিন্তু কেন ? সুখ কি তাহলে অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় ? সুখ একটি মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।  সুখের সাথে সামগ্রিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা, মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা বিশেষ করে পারিবারিক বন্ধনে অটুট থাকা এবং স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়  সম্পৃক্ত~ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ~ এসব দেশের পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের। উন্নত কর ব্যবস্থা ও সম্পদের পুনর্বন্টন...