Skip to main content

কে দায়ী ? হৃদয় কৃষ্ণ মন্ডল ? ছাত্র ? ছাত্রের পিতামাতা ও শিক্ষক'রা ? না কি সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা ?

 কে দায়ী ? হৃদয় কৃষ্ণ মন্ডল ? ছাত্র ? ছাত্রের পিতামাতা ও শিক্ষক'রা ? না কি সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা ?


১৯৪০ এর দশকের 'লালসালু'তে বর্ণিত নোয়াখালী'র  "মহব্বতনগর" গ্রাম ধর্মান্ধতা থেকে বেড়িয়ে এসে ২০২২ সালে আধুনিক জনপদে পরিণত হলেও ; ২০২২ সালের "মুন্সীগঞ্জ"  যেন বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক যুগ থেকে বেড়িয়ে ১৯৪০ এর দশকে'র  ধর্মান্ধতা'র দিকে ছুটে চলেছে~

* ভাবতেও অবাক লাগে, একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র শিক্ষক-কে নাজেহাল করতে চতুরতার সাথে কথোপকথন রেকর্ড করে ~? ~ 

কোন যুগে বাস করছি আমরা ? আমাদের সময় কোন স্যার কোথাও বসে আছেন বা গল্প করছেন, জানতে পারলে উক্ত জায়গার আশেপাশে-ই যেতে চাইতাম না, সেটি ভয়ে হোক বা সম্মানের জন্যই হোক না কেন ? 


* আরও অবাক লাগে এসব কুলাঙ্গার ছেলেমেয়েদে'র জন্মদাতা পিতা/মাতার কথা ভাবলে ? এই মা-বাবারা কতটাই নির্বোধ এবং ধর্মান্ধ যে এরূপ একটি ঘটনায় ছেলেমেয়েদের শাসন না করে উল্টো তাল দিয়ে যাচ্ছে ?

কতটুকু স্টুপিড পিতামাতা হলে এই বয়সের ছেলেদেরকে সবসময়ের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে দেয় ?

দেশে আশঙ্কাজনক হারে "মানুষ-রুপি-জানোয়ার' পয়দা করার অপরাধে এসব পিতামাতা'র বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত ~


* আশ্চর্যান্বিত হই এইটা ভেবে যে, জেলা শহরে অবস্থিত একটি বিদ্যালয়ে ছাত্ররা মোবাইল সহ ক্লাসে ঢোকার পারমিশন পায় কিভাবে ? ঐ স্কুলের "নাদান ও মূর্খ" হেডমাস্টার-কে এজন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠানো উচিত বলে  মনে করি আমি ~

          উল্লেখ্য; আমার ছেলেও ঢাকার একটি স্কুলে পড়ে, সে স্কুলে ছাত্রদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ। এটাই হওয়া উচিৎ। উক্ত হেড-স্টুপিড(হেড মাস্টার)'কে আগে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিৎ এ কারণে~


* হেডমাস্টার এর কাছে জানতে চাই, উনি কোন কথার রেসপেক্ট এ উক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছিলেন ? 

সম্বভত বিজ্ঞান শিক্ষক "হৃদয় কৃষ্ণ মণ্ডল" ক্লাসে ধর্ম থেকে বিজ্ঞানের উৎপত্তি বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন- "ধর্ম আর বিজ্ঞান আলাদা বিষয়। কোন ধর্ম থেকেই বিজ্ঞান উৎপত্তি হয়নি৷ ধর্ম হলো বিশ্বাস আর বিজ্ঞান প্রমাণিত বিষয়৷ আর বর্তমান যুগের ৯০% বিজ্ঞানী ইহুদি, খ্রিস্টান। তারাতো কোরান পড়ে না।"

"তারা তো কোরআন পড়ে না"~ এই উক্তির কারণে আপনি উনাকে শোকজ করেছিলেন ? এখানে ধর্ম বা ইসলাম কে অবমাননার মত কি আছে ? আপনি যদি শোকজ না করে, শক্ত হাতে বিষয়টি হ্যান্ডেল করতেন,; তাহলে একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী কখনো একজন সিনিয়র শিক্ষকের নামে থানায় মামলা করতে সাহস পেত না। স্কুলের অভিভাবক হিসেবে আপনি সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ, আপনার নাকে ক্ষত দিয়ে স্কুল থেকে চলে যাওয়া উচিত~


* হৃদয় কৃষ্ণ মন্ডল ভুল কিছু বলেন নি। তবে তিনি বর্তমান সাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হিসেবে কথাবার্তায় আরও সাবধান হতে পারতেন ~

উনি এতদিন শিক্ষকতা করেও উনার ছাত্রদের চিন্তে ও বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন~

উক্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যে নীতিনৈতিকতা ও আদর্শ বিবর্জিত ব্যয়াদব হিসেবে গড়ে উঠেছে, তার জন্য কিছুটা হলেও "হৃদয় কৃষ্ণ মন্ডল" নিজেও দায়ী। তাছাড়া নিজের ছাত্রদের কোয়ালিটি ও আনুগত্যতা বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছেন উনি।


* বর্তমান সময়ে মুসলমানরা জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে চর্চা করে না, ভোগবিলাস আর আনন্দফুর্টি নিয়ে মুসলিমরা ব্যস্ত। মধ্যাপ্রাচ্যের মুসলমানেরা যে টাকা মেয়ে-মানুষ আর ফুর্তির পিছনে খরচ করে, তা দিয়ে ইয়েমন, আফগানিস্তান ও সিরিয়া সহ বিশ্বের অনেক দারিদ্র্যপীড়িত দেশ ও জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা বিমোচন করা সম্ভব~ 

উপরোক্ত কথা গুলি আমি বললে দোষ নেই, কিন্তু অন্য ধর্মাবলমবীদের কেউ বললেই তা সাম্প্রদায়িক কথাবর্তা বা উস্কানি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে~

আবার আমি যদি হিন্দুদের নিয়ে অনুরূপ কিছু বলি সেটিও ~~

কাজেই সকলকেই কথাবার্তায় সাবধান থাকতে হবে।


 আরেকটি বিষয় খেয়াল করা উচিৎ আমাদের, আমরা যাদেরকে  জ্ঞান দেই, তারা সেই জ্ঞান ধারণের উপযুক্ত কিনা সেটি বুঝতে হবে আগে, তারপর জ্ঞানদান করতে হবে~

অন্যথায় "হৃদয় কৃষ্ণ মন্ডল" এর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে আমাদের অনেককেই ~


মনে রাখা উচিৎ, "বিজ্ঞান যে গতিতে সামনের দিকে এগুচ্ছে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেই গতিতেই পিছনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, আর সাম্প্রদায়িকতা ? সে বিষয়ে আর নাই বা বলি~

তবে  এটুকু বলতে পারি যে~ বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ যখন সশরীরে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছবে, তার আগেই হয়তঃ পার্শ্ববর্তী দেশের মতো বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক-শক্তি ক্ষমতার চূড়ায় পৌঁছে যাবে~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...