Skip to main content

ইউক্রেন এ রাশিয়ান আগ্রাসন কি ধর্মযুদ্ধ ?

 #ভ্লাদিমির_পুতিন: ধর্মভীরু ও আস্তিক এক-একনায়ক, যার কর্মকাণ্ডকে ধর্মযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করেন রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের সর্বোচ্চ পুরোহিত ~"প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল"~


এই পুরোহিত মশায়ের দৃষ্টিতে পুতিন "মিরাকল অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের কুদরত" ।

বলাই বাহুল্য যে পুতিন একজন জটিল চরিত্রের মানুষ। তিনি অনেকটাই পিছন ফিরে তাকাতে পছন্দ করেন। অতীত সোভিয়েত আমলের কুলীন-ঐতিহ্য, গৌরব ও আভিজাত্য তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করলেও; সোভিয়েত বা কমিউনিজম আমলের ধর্মহীনতায় বিশ্বাস করেন না তিনি~

এক্ষেত্রে তিনি প্রায় হাজার বছর আগের অর্থডক্স ক্রিশ্চিয়ান ধর্মের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রুশ সম্রাজ্যকে প্রচন্ডভাবে অনুভব করেন~


অর্থাৎ পুতিন বর্তমানে এমন একটি রুশ ফেডারেশন এর স্বপ্ন দেখেন বা গঠন করতে চান~ যা হাজার বছর পূর্বের ধর্মভিত্তিক রুশ সমাজ ব্যবস্থা এবং সোভিয়েত আমলের প্রভাব, প্রতিপত্তি ও আভিজাত্য ধারণ করবে~


পুতিন পশ্চিমাদের ভোগবাদী সংস্কৃতি এবং পুরুষে পুরুষে ও নারীতে নারীতে মেলামেশা(সেক্স)'র সংস্কৃতিকে অত্যন্ত ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন এবং ধর্মহীনতার কারণে এসব সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে বলেই বিশ্বাস করেন ~


পুতিনের রাজনৈতিক গুরু "আলেকসন্দর দিগীন", ধর্মীয় গুরু "প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল" এবং পুতিন নিজেও এমন একটি রুশ ফেডারেশনের স্বপ্ন দেখেন; যা গঠিত হবে রাশিয়া, চেচনিয়া, জর্জিয়া, ইউক্রেন ও বেলারুশের সমন্বয়ে এবং এই ফেডারেশন ধারণ করবে ধর্মীয় মূল্যবোধ, কিন্তু প্রভাব প্রতিপত্তি ও শক্তিমত্তায় যা সোভিয়েত ইউনিয়নকেও ছড়িয়ে যাবে~


পুতিনের চেচনিয়া , জর্জিয়া , বেলারুশ , তাজাকিস্তান ও ইউক্রেন অভিযান এই ধারণার-ই সত্যতা বহন করে ~


পুতিনের ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ২০১২ সালে ৪ মার্চ রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের দিকে~

এই নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর প্রারম্ভে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক অর্থোডক্স গির্জা  ‘সেন্ট দানিয়েল’ মনাস্ট্রিতে একটি ধর্মীয় সভার আয়োজন করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন~ ~

> অর্থোডক্স চার্চের সর্বোচ্চ পুরোহিত "প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল"

>  মুসলমানদের শীর্ষস্থানীয় মুফতি "রাভিল গাইনুৎদিন" এবং উত্তর ককেশাসের শীর্ষস্থানীয় মুফতি "ইসমাইল বারদিয়েভ"

> রাশিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রধান "রাব্বি বেরেল লাজার"

> একজন বৌদ্ধ লামা, একজন আর্মেনীয় লামা এবং রোমান ক্যাথলিক ও অন্য খ্রিষ্ট চার্চের প্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তিনি সকলের নিকট আশীর্বাদ ,সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন~ 

অনেকটা আমাদের দেশের আওয়ামীলীগ ও বিএনপি যেভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে, ঠিক অনুরূপ ভাবেই পুতিন তার তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন~


এই সমাবেশেই "কিরিল" বলেছিলেন, ‘একজন প্যাট্রিয়ার্ক (অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের প্রধান পুরোহিতের পদ) হিসেবে আমার খোলাখুলি বলা উচিত যে, ~ 

মি: পুতিন "আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ইতিহাসের কুটিল মোড়ককে সংশোধন করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন"~

"কিরিল" আরও বলেছিলেন যে, ~ 

"পুতিনের যাঁরা বিরোধী, পশ্চিমাদের ভোগবাদী সংস্কৃতি তাঁদের কাছে প্রশংসনীয়। মূলতঃ তাঁরাই রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি"।


মুসলিম ধর্মীয় নেতা "মুফতি রাভিল গাইনুৎদিন" সেদিন পুতিনকে বলেছিলেন,~ 

‘মুসলমানেরা আপনাকে চেনে, মুসলমানেরা আপনাকে বিশ্বাস করে, মুসলমানেরা আপনার সাফল্য চায়।’ 

উত্তর ককেশাসের শীর্ষস্থানীয় মুফতি "ইসমাইল বারদিয়েভ" বলেছিলেন,~ 

আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার জায়গা দেখিয়ে দিয়েছেন।’


গত ১০ মার্চ,২০২২; রাশিয়ার অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা "প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল" তার সাপ্তাহিক ধর্মীয় বক্তব্য (শুক্রবারের মসজিদের বয়ান এর মত) দেওয়ার সময় ইউক্রেনে মস্কোর হামলাকে "‘বিশেষ শান্তি অভিযান’" বলে বর্ণনা করেছেন~

তিনি বলেন এই অভিযান শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক কারণে নয়; এর অভিযানের একটি আধিভৌতিক তাৎপর্য আছে এবং এটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার লড়াই। 


তিনি আরও বলেন~

পশ্চিমারা মানবাধিকারের নামে তাদের মূল্যবোধ এই অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, আমাদের প্রাচ্যমুখী সংস্কৃতি ও অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ানিটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে । 

উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন~ 

পূর্ব ইউক্রেনের দনবাসে সমকামীদের শোভাযাত্রা করার ঘটনাকে, তিনি মনে করেন সমকামিতা ও গে-সংস্কৃতি পশ্চিমাদের ভোগবাদী সংস্কৃতির অংশ । 

কাজেই ইউক্রেন-সহ বৃহত্তর রাশান ফেডারেশন হতে পশ্চিমাদের এই ভোগবাদী সংস্কৃতির বিলুপ্তি ঘটানো রাশিয়ানদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পরে।


সম্প্রতি জার্মানির "ইউনিভার্সিটি অব মুনস্টার"-এর ইস্টার্ন চার্চেস স্টাডিজ বিষয়ের অধ্যাপক "টমাস ব্রেমার" আল জাজিরাকে বলেছেন যে~

পুতিনের এই ইউক্রেন আগ্রাসন রাশান ধর্মগুরুদের মতে 

একটি ধর্মযুদ্ধ বৈ অন্যকিছু নয়~~~~

Comments

Popular posts from this blog

সময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামের ধরন-ধারণ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগিক পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না ?

 সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়ে ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আমার অনেক শিক্ষিত বন্ধুরা মনে করে থাকেন, এবিষয়ে আমার জানা ইসলামের আলোকে একান্ত বেক্তিগত মতামত~           আপনি বা আপনারা যদি ইসলামকে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম বলে বিশ্বাস করে থাকেন ; তাহলে আপনাদের এই ধারণা আল্লাহকে বা সৃষ্টিকর্তাকে ছোট বা খাটো করার নামান্তর। কারণ আল্লাহ এমন একটি সত্তা, যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত বা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটবে, বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, সে-সব কিছুই তিনি অবগত ছিলেন এবং আছেন। কাজেই সময়ের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে যদি ইসলামের ধরন/ধারণ, প্রচার/প্রচারণা ও পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ মনে করতেন, তাহলে উনি উনার বার্তাবাহক অর্থাৎ রাসূল মুহম্মদ সা: মারফত তা জানিয়ে দিতেন। উনি ভবিষ্যতের যেসব বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেছেন, মুহম্মদ সা: এর মাধ্যমে তা জানিয়ে দি...

মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?

 মনের অজান্তেই আমরা গালি দেই কেন ?  ঝগড়ার সময় একে অপরকে আমরা যে গালিগালাজ করি এটা সেরকম কিছু নয়।  ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি(তোর মায়েরে বাপ~~জাতীয়) অথবা কাপ থেকে হঠাৎ পড়ে গেল কফি বা চা, বারোটা বেজে গেল আপনার জামাকাপড় বা মেঝের এবং সাথে সাথেই - আমাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো (যাহ শালা~)  অথবা আপনি হয়তো ড্রাইভ করছেন, হটাৎ আরেকটি গাড়ি বিপজ্জনক ভাবে রং সাইড দিয়ে আপনাকে ওভারটেক করলো, সাথে সাথেই আপনার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো~ ~ এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের অজান্তেই গালি দেয়; কিন্তু কেন ? কারণ গালিটা মুখদিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রায় যাদুমন্ত্রের মতই - আমরা তাৎক্ষণিক একটা আরাম বোধ করি। তবে সবার ক্ষেত্রেই - এক রকম হবে, তা কিন্তু নয়। কেউ বেশি গালাগালি করে, কেউ বা কম। আবার অতিমাত্রায় খুশি হলেও মানুষ গালি দেয়, এমন লোকও আছে। কিন্তু একথা সত্যি যে, এহেন পরিস্থিতিতে সব ভাষায়, সব সংস্কৃতিতেই মানুষ গালি দেয়~ গালির সংজ্ঞা কী? "গালি জিনিসটা আসলে ঠিক কি, তা নি...

ইসলাম এবং জঙ্গিবাদ

জানতে ইচ্ছে করে~ উপলক্ষ্য; ড: মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলা। ক্ষুদ্র জ্ঞানে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা হলো~ জনাব মুহাম্মদ সা: এর জীবনাচরণ-ই হলো ইসলাম। উনি যা করে দেখিয়েছেন, যা বলে গেছেন, তার নামই ইসলাম। পবিত্র কুরআন হচ্ছে ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ, এরপর হাদিসের গ্রন্থ সমূহের অবস্থান। পবিত্র কোরআন এর অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের জন্য বুঝতে পারাটা বেশ কঠিন বিধায়; বড় বড় ইসলামী দার্শনিক-গণ মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।  উনাদের মতে পবিত্র কোরআন যদি থিওরি হয়, তাহলে মহানবী মুহাম্মদ সা: এর পুরো জীবনটাই হচ্ছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ।  অর্থাৎ পবিত্র কোরআন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত্ব মতবাদ; আর মুহম্মদ সা: হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মডেল, যাকে তিনি পুরোটা জীবন পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জীবনযাপন করিয়েছেন শুধুমাত্র মানব-জাতিকে শিক্ষা দেয়ার উদ্যেশ্যে ~ বলাহয়, মানব জাতির জন্য এমন কোন বিপদ/আপদ, বালা/মসিবত এবং সমস্যা আসবে না; যার সম্মুখীন মুহম্মদ স:-কে করা হয়নি~ অর্থাৎ চাইলেই মানুষ তার জীবনের যেকোন সমস্যায় বা পরিস্থিতিতে মুহম্মদ সা: এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উক্ত সমস্...