#আবারও_ইউক্রেন_রাশিয়া_প্রসঙ্গ:
* আমেরিকা ও ইউরোপ কি পুতিনের নেতৃত্বে BRICS এর সদস্য রাষ্ট্র (Brazil, Russia, India, China & South Africa) সমূহে'র ফাঁদে পা দিয়েছে :~
* না-কি রাশিয়াই আমেরিকা ও ইউরোপের ফাঁদে পা দিয়েছে ?
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সমস্ত সমর-বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতির-বিশ্লেষকদের অভিমত ছিল যে, রাশিয়া ইউরোপ ও আমেরিকার পরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে নিম্নলিখিত কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে বিশ্ব-বোদ্ধাগণ ভিন্নভাবে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন~
১.
অবরোধ দেয়ার উদ্যেশ্য-ই হলো উক্ত দেশের অর্থনীতির পতন ঘটানো, আবার অর্থনীতির পতন নির্ভর করে উক্ত দেশের মুদ্রার মানের পতনের উপর।
এবার আসুন দেখে নেই~ এত অবরোধ আরোপের পরও রাশান অর্থনীতির কি অবস্থা ? রুবলের কি অবস্থা ?
অবরোধের প্রথম দিকে রাশান মুদ্রা রুবলের দরপতন ঘটলেও, বর্তমানে ডলারের বিপরীতে রুবলের মান ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
যুদ্ধের পূর্বে ১ ডলারের মান ৮৭ রুবল ছিল, অবরোধের পর তা দাড়ায় ১৩৯ রুবল, কিন্তু যুদ্ধের প্রায় ২ মাসের মাথায় আজকে ১ ডলার এর মান ৭৪ রুবল, অর্থাৎ রুবল যুদ্ধ-পূর্ববর্তি অবস্থান থেকেও বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থানে অবস্থান করছে। এছাড়াও গত তিনমাসে রাশিয়া ৮৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সমপরিমাণ উৎবৃত্ত বাণিজ্যিক মুনাফা অর্জন করেছে। যুদ্ধরত অবস্থায় ইতিহাসের সবথেকে ভয়ংকর অবরোধের সম্মুখীন হয়েও রাশিয়া এই অতিরিক্ত বাণিজ্য করেছে মাত্র তিন মাসে !~
এটি একটি বিরল ঘটনা, পশ্চিমারা "আম-জনতা'কে "রাম-বুঝ" দেয়ার জন্য মুখে যাই বলুক না কেন ¿¡ তারা নিজেরাও জানে যে, তাদের অবরোধ বিফলে পর্যবসিত হয়েছে, অর্থাৎ অর্থনৈতিক যুদ্ধে তাদের পরাজয় হয়েছে।
কিন্তু কেন এমনটি হলো ? শুধুই কি পুতিনের নেওয়া কাউন্টার কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এমনটি হয়েছে ?
মোটেও না; ইতিহাসের সবথেকে ভয়ংকর এই অবরোধের বিপক্ষে শুধু রাশিয়া কেন, একা কোন দেশের পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়, এমন কি খোদ আমেরিকাও এমন অবরোধের কবলে পড়লে এতদিন নাস্তানাবুদ হয়ে যেত।
তাহলে রহস্য কি ?
আসুন; একটু ভিন্ন দিকে দৃষ্টিপাত করি ~
শত চাপ সৃষ্টির পরও এই যুদ্ধে BRICS এর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র যেমন: ইন্ডিয়া, চীন, ব্রাজিল ও সাউথ আফ্রিকা রাশিয়ার বিপক্ষে যেমন ভোট দেয়নি, তেমনই রাশিয়ার বিপক্ষে কোন অবরোধেও সামিল হয়নি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে খোদ আমেরিকার পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকো, ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক, দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা এবং সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মত মধ্যপ্রাচ্যের বড় অর্থনীতির দেশ সমূহ।
একটু খেয়াল করলেই আমরা দেখতে পাবো, উপরোক্ত দেশ সমূহ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যার যার মতো করে রাশিয়ার সাথে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা বাণিজ্য বৃদ্ধি করে চলেছে; শুধু তাই নয় এদের মধ্যে কোন কোন দেশ আমেরিকার সাথে নানাভাবে অসহযোগিতাও শুরু করে দিয়েছে, যার মধ্যে চীন, ইন্ডিয়া, সৌদি আরব ও আমিরাত অন্যতম।
উল্লেখ্য; বিশ্বে বড়-অর্থনীতি'র দেশগুলি'র মধ্যে শুধুমাত্র জাপান ও জার্মানি আমেরিকার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। অনেকেই হয়তো ইউরোপের কথা বলবেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, পুরো ইউরোপের অর্থনীতি সম্মিলিত ভাবে ইন্ডিয়ার অর্থনীতির চাইতেও খর্বকায়, চীন/ব্রাজিল/সাউথ আফ্রিকা/আর্জেন্টিনা/ সৌদি/আমিরাতের কথা না হয় বাদই দিলাম।
বিশ্বের এইসব বড় অর্থনীতির দেশ সমূহের অধিকাংশই
রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান না-নিয়ে উল্টো রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বিশ্ব-অর্থনীতিতে রুবলের মান যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থার চাইতেও ভালো অবস্থায় উপনীত হতে সহায়তা করেছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে বলে বিশ্লেষকগণ মনে করেন।
সেইসাথে পুতিনের কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যেমন: ব্যাংক আমানতের বিপক্ষে ২০% সুদ প্রদান, অবন্ধুসুলভ দেশ সমূহের কাছে রুবলের বিনিময়ে তেল/গ্যাস বিক্রি এবং বিদেশী বাণিজ্য সংস্থাগুলির সম্পদ বাজেয়াপ্ত-করন ইত্যাদি সিদ্ধান্ত সমুহও রুবলের মানকে শক্তপোক্ত অবস্থায় নিতে সহায়তা করেছে।
মূলতঃ উপরোক্ত বড়_অর্থনীতির দেশগুলোর রাশিয়ার সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের কারণে, বিশ্লেষক-গণ এই যুদ্ধকে শুধুমাত্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ হিসেবে দেখতে নারাজ, এমন কি রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধ হিসেবে দেখতেও নারাজ; বরং বিশ্ব-বোদ্ধাদের মতে এই যুদ্ধ হচ্ছে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন BRICS এর সদস্য দেশসমূহের সাথে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো এর সদস্য দেশসমূহের অর্থনৈতিক যুদ্ধ ।
অনেকে এই যুদ্ধকে এক কেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙ্গে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন, যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যে একমাত্র বিনিময় মুদ্রা হিসেবে ডলারের আধিপত্য ভেঙ্গে একাধিক বিনিময় মুদ্রার আবির্ভাব ঘটানোই মূল লক্ষ্য।
অন্যভাবে বলাযায়, বিশ্বে বাণিজ্যের একমাত্র বিনিময় মুদ্রা ডলার এর আধিপত্য ভেঙ্গেদেয়ার যুদ্ধ এটি।
যত-দিন যাচ্ছে ততই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিষয়টি; কারণ উপরোক্ত দেশগুলি এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে সমস্ত বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রায় করার দিকে ধাপিত হচ্ছে দিনকে দিন। অর্থাৎ উপরোক্ত দেশ গুলি ডলার ও ইউরোর পাশাপাশি রুবল, রুপি, দিনার ও ইয়েন সহ আরও কয়েকটি মুদ্রাকে বিশ্ব বাণিজ্যে বিনিময় মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত হয়েছে।
মূলতঃ একারণেই উপরোক্ত দেশ সমূহ রাশিয়া তথা রুবেলকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে যাচ্ছে।
এই সমস্ত দেশ সমূহের কাছে এই যুদ্ধে রাশিয়ার পতন মানে শুধু রাশিয়া'র পতন নয়, আমেরিকা বা ডলারের আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পাওয়া, বিশ্ব আরও বেশিমাত্রায় এককেন্দ্রিক হয়ে-পরা, যা উপরোক্ত দেশ সমূহ হতে দিতে রাজি নয়।
বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে বিশ্লেষণ করা যাক: ~
বিশ্ব অর্থনীতির কতটুকু বর্তমান রাশিয়ান বলয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন, আর কতটুকু আমেরিকান বলয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ?
উপরোক্ত যেসমস্ত বড় অর্থনীতির দেশসমূহ রাশিয়ার বিপক্ষে অবরোধে সামিল হয়নি, এমন কি রাশিয়ার সাথে স্বাভাবিক বাণিজ্য আরও বাড়িয়ে চলেছে, সেই সব দেশগুলির সম্মিলিত জিডিপি ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের উপর হলেও আমেরিকা, জাপান ও ইউরোপের সম্মিলিত জিডিপি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের উপর নয়।
এছাড়াও সম্প্রতি চীন স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা করেছে ; তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে যে, বিশ্বের মোট ১৪০ টি দেশ রাশিয়ার বিপক্ষে এই অবরোধ সমর্থন করে-না এবং তারা এই অবরোধে অংশ নিতে চায়-না, যদিও এদেশগুলির অনেকেই যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিপক্ষে নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক ভাবে রাশিয়াকে প্রকাশ্য সহযোগিতা না করলেও চীনের এই ঘোষণাকে, অনেকেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটের বিপক্ষে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটের অর্থনৈতিক যুদ্ধে চীনের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ বলেই ভাবছেন। শুধু তাই নয়, চীনের এই ঘোষণাকে অনেক বিশ্লেষক-ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা দেশসমূহকে আশ্বস্ত করার বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
তাছাড়া যুদ্ধের শুরু থেকেই ইন্ডিয়ার আচরণের কারণে, বিশেষ করে চিরশত্রু চীনের সাথে সম্মিলিতভাবে মার্কিন বিরোধী বলয়ে অবস্থান নেয়ার কারণে~ বিশ্লেষক গণের এরূপ ধারণা আরও বদ্ধমূল হচ্ছে যে, এই যুদ্ধ শুধু সামরিক আধিপত্যের যুদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর যুদ্ধ এটি।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে:
চীনকে কখনোই রাশিয়ার বিপক্ষে নেওয়া সম্ভবপর নয় জেনেই, ইন্ডিয়াকে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিতে আমেরিকার নেতৃত্বে ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে, এমনকি জাপান ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিনিময়ে ইন্ডিয়াকে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে; এতদসত্বেও ইন্ডিয়া একগুয়ের মত রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইন্ডিয়া প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে রুপি ও রুবলের লেনদেনের বিনিময়ে রাশিয়া থেকে তেল/গ্যাস ও অস্ত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ক্রয় করে যাচ্ছে, এটি যে ডলারের বিপক্ষে রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক যুদ্ধে ইন্ডিয়ার প্রকাশ্য ভাবে সামিল হওয়া, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। আমরা সকলেই জানি, চীন রাশিয়া থেকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তেল/গ্যাস ক্রয়সহ অন্যান্য বাণিজ্য বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তা করছে ইয়েন ও রুবলের বিনিময়ে, ডলারের মাধ্যমে নয়। এছাড়াও এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের পালে শুরু থেকেই হওয়া দিয়ে যাচ্ছে সৌদি-আরব ও আরব+আমিরাতে'র চায়না মুদ্রা ইয়েনের বিনিময়ে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, তুরস্ক ও আর্জেন্টিনার মত দেশ সমূহের কার্যকলাপ এবং রাশিয়ার বিপক্ষে অবরোধে সামিল না হওয়া, উপরন্তু নিজ নিজ মুদ্রায় একে ওপরের সাথে বাণিজ্য করতে সিদ্ধান্ত নেয়ায়; এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে রাশিয়া ব্লকের পল্লাকে অনেক ভারী করেছে।
চীনের ঘোষণার আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়;
যা হলো, চীন বলেছে রাশিয়ার বিপক্ষে অবরোধে সামিল না হওয়া দেশগুলি বিশ্ব-জনসংখ্যার ৬০~৭০% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্লেষক গণের মতে চীন বিশ্ববাসীকে এই কথার মাধ্যমে এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে বিশ্ব দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লেও বিশ্ববাণিজ্যে (ভোক্তা শ্রেণীর বাজার বিবেচনায়) তাদের পাল্লাই ভারী থাকবে।
২.
আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়; যুদ্ধের পূর্বেই পুতিন রাশান রিজার্ভ ফান্ডে সঞ্চিত ডলার কমিয়ে আনেন, সঞ্চিত ডলারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের বিনিময়ে তিনি স্বর্ণ কিনে রাখেন। বর্তমান যার বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ডলার।
৩.
২০২২ সালে অতিক্রান্ত হওয়া জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চমাসে রাশিয়া অতিরিক্ত ৮৫ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের অর্থের অতিরিক্ত বাণিজ্য করেছে, অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পূর্বের স্বাভাবিক বাণিজ্যের নিরিখে গত তিন মাসে রাশিয়ার যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হওয়ার কথা; আয় হয়েছে তার চাইতেও ৮৫ বিলিয়ন ডলার বেশি।
* এটা কি করে সম্ভব ?
* যুদ্ধরত অবস্থায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবরোধের স্বীকার কোন দেশের বাণিজ্য কিভাবে বৃদ্ধি পায় ?
* এত অবরোধ সত্বেও যুদ্ধরত একটি দেশের মুদ্রার মান কিভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বৃদ্ধীপায় ?
* এত অবরোধের পরেও যুদ্ধরত একটি দেশ কিভাবে অর্থনৈতিক ভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে ?
হ্যা পারে~
যুদ্ধরত অবস্থায়ও একটি দেশের অতিরিক্ত বাণিজ্য হতে পারে, মুদ্রার মান বাড়তে পারে, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালীও হতে পারে~
যদি যুদ্ধটি হয় বড়-অর্থনীতির দেশগুলির
পূর্বপরিকল্পনার অংশ এবং পূর্বপরিকল্পনা মতই অপরাপর দেশগুলি উক্ত-যুদ্ধরত দেশকে সহায়তা করে যায়, তবেই তা হতে পারে।~
বিশ্লেষক গণ মনে করেন; রাশিয়ার ক্ষেত্রে এই ঘটনাই ঘটে চলেছে।
* ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ; আমেরিকা এবং ইউরোপের পরিকল্পনার অংশ নয়, বরং রাশিয়া ও মিত্রদের পরিকল্পনার অংশ।
* আমেরিকা ও ইউরোপের ফাঁদে রাশিয়া পা দেয়নি; বরং রাশিয়ান নেতৃত্বাধীন BRICS (Brazil, Russia, India, China & South Africa) এবং ন্যাটোভুক্ত তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পরিকল্পিত ফাঁদে আমেরিকা ও ইউরোপ পা দিয়েছে।
উল্লেখ্য; কাগজে কলমে এত অবরোধ দেয়া সত্বেও ইউরোপ এখনও রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও ভোগ্যপণ্য ক্রয় অব্যাহত রেখেছে; অনেক দেশ গোপনে এসব পণ্য সাভাবিক সময়ের চাইতেও অতিরিক্ত পরিমাণে ক্রয় করে চলেছে ভবিষ্যতের কথা ভেবে মজুদ করে রাখার জন্য, এমনকি যে আমেরিকা অবরোধের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে সেই আমেরিকাই গোপনে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত তেল/গ্যাস ক্রয় করে যাচ্ছে (রাশান মুখপাত্র বেশ কয়েকবার বিষয়টিকে একটু ঘুরিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশও করেছেন) যার ফলে যুদ্ধকালীন সময়েও রাশিয়া অতিরিক্ত বাণিজ্য করতে পারছে বা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে পারছে।
বি দ্রঃ কয়েকদিন আগে আমেরিকার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ-গণ আমেরিকার গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের প্রতি একটি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার সারমর্ম ছিল এইরকম~ "আমেরিকার উচিৎ রাশিয়া ও চীন বলয়ের সাথে আর বিরোধ না বাড়িয়ে একটি উপায় বের-করা, যাতে ভবিষ্যতের দিনগুলিতে সম্মান নিয়ে টিকে থাকা যায়; অন্তত দ্বিতীয় পরাশক্তি রূপে, কোনভাবেই যেন তৃতীয় অবস্থানে যেতে না হয়>
(আমার পুরো বিশ্লেষণের সারমর্ম এই খবরটির ভিতর লুকায়িতো আছে; কিন্তু খবরটি আমেরিকান অভ্যন্তরীণ মিডিয়ায় প্রচারিত হলেও বিশ্বমিডিয়ায় তেমন ভাবে আসেনি বা আসতে দেয়া হয় নি)
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে~
* এই যুদ্ধ তাহলে এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন ?
* এই যুদ্ধকে কি রাশিয়াই প্রলম্বিত করছে ?
* কেনোই-বা রাশিয়া কিয়েভ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করল ?
* কেনোই-বা রাশিয়া দ্রুত ইউক্রেনের পতন ঘটাচ্ছে না ?
* কেনোই-বা রাশিয়া পুরো ইউক্রেন দখল না করে মাড়িওপল ও ওডেসা বন্দর দখলকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে ?
* কেনই-বা রাশিয়া আজোভ স্টিল মিলে হামলা না করে ঘেরাও করে রাখছে ?
* কেনোই-বা রাশিয়া যুদ্ধকে দোনবাস অঞ্চলে সীমাবদ্ধ করছে ?
* এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার পিছনে পুতিনের ইউরোপকে নিয়ে কোনো দূরভিসন্ধি আছে কিনা?
এসব কিছুর উত্তর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী পোস্ট গুলিতে লক্ষ্যনীয়~
Comments
Post a Comment